ঢাকা, বৃহস্পতিবার 03 November 2016 ১৯ কার্তিক ১৪২৩, ২ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

শুরুর অপেক্ষায় বিপিএল’র চতুর্থ আসর

নাজমুল ইসলাম জুয়েল : ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টোয়েন্টি-২০ আসর বিপিএল। এবার শুরু হতে যাচ্ছে আরো একটি আসর। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চতুর্থ আসর শুরু হতে খুব বেশি সময় বাকি নেই। ৪ নভেম্বর শুরু হচ্ছে এবারের আসর। গতবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। মাশরাফি বিন মর্তুজার নেতৃত্বে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল দলটি। যদিও অংশগ্রহণও করেছিল সেবারই প্রথম। এবার খেলোয়াড় কেনায় আগের সেই রমরমা অবস্থা ছিলনা। অনেকটা সমঝোতার মাধ্যমেই খেলোয়াড়দের বিভিন্ন দলে নেওয়া হয়েছে। ১৪৬ দেশি খেলোয়াড়, বিদেশি খেলোয়াড় ১৬৮ জন। এর মধ্য থেকে বেছে নিতে হয়েছে দলগুলোকে। আগেই দলগুলো অনেকটাই গুছিয়ে রেখেছিল নিজেদের। ১ নভেম্বর শেষ হবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ। এর তিনদিন পরই মাঠে গড়াতে যাচ্ছে ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক এ টুর্র্নামেন্ট। গত ৩০ সেপ্টেম্বর প্লেয়ার ড্রাফটের মাধ্যমে খেলোয়াড় বাছাই করেছে দলগুলো। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ-আইপিএলের নিলামের সঙ্গে খেলোয়াড় ড্রাফটের পার্থক্য রয়েছে। এখানে ভিত্তি মূল্যেই খেলোয়াড়েরা বিক্রি হয়েছেন। বেশি দামে কিনে নেওয়ার সুযোগ ছিল না। শুধু লটারি করে যে দলের নাম আগে উঠেছে, তাতে নির্দিষ্ট বিভাগ থেকে পছন্দের খেলোয়াড় সবার আগে বেছে নেয়ার সুযোগ পেয়েছে। ড্রাফট থেকে প্রত্যেক ফ্র্যাঞ্চাইজিকেই কমপক্ষে ১০ জন স্থানীয় ও ৩ জন বিদেশি খেলোয়াড় নিতে হয়েছে। প্রতি ম্যাচে বিদেশি খেলানো যাবে তিন থেকে চারজন। প্রতি সেটে দেশি ও বিদেশি খেলোয়াড়দের জন্য দুই দফা করে হলো খেলোয়াড় বাছাই। অনেক প্রত্যাশা ছড়িয়ে ২০১২ সালে প্রথমবারের মতো মাঠে গড়িয়েছিল বিপিএল। কিন্তু প্রথম দু’টি আসরে নানা কেলেঙ্কারীর কারণে প্রথম দুটি আসরের পর বন্ধ করে দিয়েছিল বিসিবি। সে কারণে ২০১৪ সালে মাঠে গড়ায়নি পরের আসর। এরপর কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন করিয়ে গত নভেম্বরে মাঠে গড়ায় সর্বশেষ আসরটি। তৃতীয় আসরে তেমন কোন প্রশ্ন না ওঠায় এবারের আসরটি নির্বিঘেœ শেষ হবে বলেই প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সেদিকে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের নজরও রয়েছে।
সিলেট বাদ, যোগ হয়েছে রাজশাহী ও খুলনা : শুরু থেকেই নানা নাটকের অবতারণা হয়ে আসছে বিপিএল-এ। সর্বশেষ আসরে ছয়টি দল অংশ নিয়েছিল। তবে সেখানে ছিলনা রাজশাহী ও খুলনার প্রতিনিধিত্ব। এবার একটি দল বাড়িয়ে সাত দলের টুর্নামেন্ট করা হয়েছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি চুক্তি ভাঙ্গায় সিলেট সুপার স্টারসকে বাতিল ঘোষণা করে বিসিবি। আর দলটির সাথে বাতিল করে চুক্তি। ২০১২ ও ২০১৩ দু’টি আসরে খেলেছিল খুলনা রয়েল বেঙ্গল ও দুরন্ত রাজশাহী। নাম বদলে খুলনার সাথে টাইটানস আর রাজশাহীর সাথে কিংস যোগ হয়েছে। খুলনার ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানা পেয়েছে জেমকন গ্রুপ। আগামী চারবছর প্রতিষ্ঠানটির খুলনার মালিকানা কিনে নিয়েছে। অপরদিকে ম্যাঙ্গো এন্টারটেইনমেন্ট পেয়েছে রাজশাহীর মালিকানা। খুলনা ও রাজশাহীর মালিকানা কিনতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলো ছিল ম্যাঙ্গো এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেড, জেমকন গ্রুপ, তানভীর ফুড লিমিটেড  মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাসট্রিজের একটি প্রতিষ্ঠান) ও ল্যাডএইড গ্রুপ। ২০১২, ২০১৩ ও ২০১৫ বিপিএল-এ ছয়টি করে দল খেলেছিল। এবার তাতে একটি দল যোগ হয়েছে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স, বরিশাল বুলস, রংপুর রাইডার্স, ঢাকা ডাইনমাইটস ও চিটাগাং ভাইকিংস অংশগ্রহন করছে। সাথে খুলনা ও রাজশাহীর দলদুটি রয়েছেই। কোন দেনা-পাওনার কারণে নয়, নিয়ম ভঙ্গের কারণে সিলেটের মালিকানা বাতিল হয়ে যায় আলিফ গ্রুপের।
সাকিবের ৫৫ লাখ, তামিম, মাশরাফিদের ৫০
বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে নিয়ে একটু বেশিই কাড়াকাড়ি হয়ে থাকে। এবারের বিপিএল-এ স্বাভাবিক কারণেই সবচেয়ে বেশি টাকা পাচ্ছেন তিনি। সাত দলের জন্য আগে থেকে সাতজন আইকন খেলোয়াড় নির্ধারণ করা হয়েছিল।
এর মধ্যে ছয় আইকন খেলোয়াড়ের দাম রাখা হয়েছে ৫০ লাখ টাকা। তবে সাকিব আল হাসান যেহেতু বিশ্বজুড়ে ঘরোয়া টোয়েন্টি-২০ লিগগুলোতে খেলে থাকেন, তাকে নিয়ে চাহিদাও বেশি; এ কারণে তাঁর দাম রাখা হয়েছে ৫৫ লাখ টাকা। বাকি ছয় আইকন খেলোয়াড়ের সবার দাম ৫ লাখ টাকা করে কম। অর্থাৎ বরিশাল বুলসের মুশফিকুর রহিম, চিটাগং ভাইকিংসের তামিম ইকবাল, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের মাশরাফি বিন মুর্তজা, খুলনা টাইটানসের মাহমুদুল্লাহ, রাজশাহী কিংসের সাব্বির রহমান ও রংপুর রাইডার্সেও সৌম্য সরকার, প্রত্যেকে পাবেন ৫০ লাখ টাকা। দেশের খেলোয়াড়দের মধ্যে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে থাকা খেলোয়াড়রা পাবেন ২৫ লাখ টাকা করে। আল-আমিন হোসেন, তাসকিন আহমেদ, এনামুল হক বিজয়, ইমরুল কায়েস, লিটন কুমার দাস, নাসির হোসেন, শুভাগত হোম চৌধুরী, মোহাম্মদ মিঠুনের দাম ২৫ লাখ টাকা।
‘বি’-ক্যাটাগরিতে থাকা তাইজুল ইসলাম, মোশাররফ রুবেল, শফিউল ইসলাম, নুরুল হাসান সোহান, মেহেদী হাসান মিরাজ, আরাফাত সানিদের দাম ১৮ লাখ টাকা। এ ছাড়া ‘সি’ ক্যাটাগরির খেলোয়াড়েরা পাবে ১২ লাখ ও ‘ডি’-ক্যাটাগরির খেলোয়াড়েরা পাবেন ৫ লাখ করে। বিদেশী খেলোয়াড়দেরও চারটি ক্যাটাগরি করা হয়েছে। ‘এ’ ক্যাটাগরিতে থাকা গেইল-আফ্রিদিরা পাবেন ৭০ হাজার ডলার বা প্রায় ৫৫ লাখ টাকা। ‘বি’ ক্যাটাগরির খেলোয়াড়ের পাবেন ৫০ হাজার ডলার বা প্রায় ৪০ লাখ টাকা। ‘সি’ ক্যাটাগরির বিদেশি খেলোয়াড়েরা পাবেন ৪০ হাজার ডলার বা প্রায় ৩২ লাখ টাকা। ‘ডি’-ক্যাটাগরির বিদেশিরা পাবেন ৩০ হাজার ডলার করে, বাংলাদেশি টাকায় যেটি সাড়ে ২৩ লাখ টাকা। এখানে বলে রাখা ভালো, খেলোয়াড়েরা চাইলে দর-কষাকষি করে ফ্র্যাঞ্চাইজির কাছ থেকে বেশি দামও নিতে পারেন। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্যসচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক আগেই বলেছিলেন, ‘সাকিব নিশ্চয়ই শুধু ৫৫ লাখ টাকায় যায়নি। তেমনি তামিমও নিশ্চয়ই চিটাগং ভাইকিংস থেকে ৫০ লাখের বেশি নিচ্ছে। এটা নির্ভর করছে খেলোয়াড় এবং ফ্যাঞ্চাইজির আলোচনার ওপর।’ তবে পাওনা পরিশোধের অতীত অভিজ্ঞতার কারণেই বিসিবি সতর্ক করে দিয়েছে, সব খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রেই শুধু ভিত্তিমূল্যের দায়িত্ব নেবে বোর্ড।
ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর কাছ থেকে প্রতিশ্রুত বাড়তি টাকা আদায় করে দেয়ার দায়িত্ব বিসিবি নেবে না।
শুরুতেই মুখোমুখি কুমিল্লা-রাজশাহী : গত আসরে বাজিমাত করেছিল মশরাফি বিন মর্তুজার কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দলটির সঙ্গে নতুন দল রাজশাহী কিংসের ম্যাচ দিয়েই ৪ নভেম্বর পর্দা উঠছে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক ঘরোয়া টোয়েন্টি-২০ টুর্নামেন্ট বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চতুর্থ আসর। প্রকাশিত চূড়ান্ত সূচি অনুযায়ী প্রথম দিনের সন্ধ্যায় আছে রংপুর রাইডার্স ও নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি খুলনা টাইটানসের ম্যাচও। অন্যান্যবারের মতো এবারও প্রতিদিন হবে দু’টি করে ম্যাচ। শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন প্রথম ম্যাচটি শুরু হবে দুপুর ২টায়, পরেরটি সন্ধ্যা ৭টায়। আর শুক্রবার ম্যাচ শুরুর সময় যথাক্রমে দুপুর আড়াইটা এবং সন্ধ্যা সোয়া ৭টা। ১৩ নভেম্বর ঢাকায় প্রথম পর্ব শেষে ১৭-২২ নভেম্বর দ্বিতীয় পর্ব চট্টগ্রামে। এরপর ২৫ নভেম্বর থেকে ঢাকায় শেষ পর্ব। এবার উইকেটের বিশ্রাম ও পরিচর্যার কথা মাথায় রেখে প্রতি তিন দিন কিংবা দুই দিন অন্তর এক দিনের বিরতি রাখা হয়েছে সূচিতে। ৪৬ ম্যাচের এই টুর্নামেন্টের ফাইনাল ৯ ডিসেম্বর। ফাইনালের জন্য রিজার্ভ ডে’ও রাখা হয়েছে এক দিন।
গেইল চট্টগ্রামে, আফ্রিদি রংপুরে : ফেরারী ক্রিকেটার হিসেবে অনেক বেশি পরিচিতি ক্রিস গেইলের। প্রথম দু’টি আসরে বরিশাল বুলসের হয়ে খেলা ওয়েস্ট ইন্ডিজের এ ক্রিকেটার এবার খেলবেন চিটাগাং ভাইকিংসের হয়ে। বেশির ভাগ দেশি-বিদেশি তারকা খেলোয়াড়কে আগেই দলে ভিড়িয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। টোয়েন্টি-২০’র ঘরোয়া লিগগুলোর সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন ক্রিস গেইলকে আগেই দলে রেখেছে চট্টগ্রাম ভাইকিংস। শহীদ আফ্রিদিকে নিয়েছে রংপুর রাইডার্স।
কুমার সাঙ্গাকারা আছেন ঢাকা ডায়নামাইটসের সঙ্গে। সাথে আছে মাহেলা জয়াবর্ধনেও। বরিশাল বুলসে রয়েছেন দিলশান মুনাবীরা। চট্টগ্রাম ভাইকিংসে রয়েছেন ক্রিস গেইল, ডোয়াইন স্মিথ, শোয়েব মালিক, চতুরঙ্গা ডি সিলভা, মোহাম্মদ নবী। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের হয়ে মাঠে নামবেন সোহেল তানভীর, ইমাদ ওয়াসিম, আসর জাইদি, নুয়ান কুলাসেকারা, থিসারা পেরেরা। ঢাকা ডায়নামাইটসে কুমার সাঙ্গাকারা, মাহেলা জয়বর্ধনে ছাড়াও আন্দ্রে রাসেল, ডোয়াইন ব্রাভো, এভিন লুইস, রবি বোপারা। খুলনা টাইটানস দলে নিয়েছে নিকোলাস পুরান, রিকি ওয়েসেলস, কেভন কুপার, মোহাম্মদ আসগর, বেনি হোয়েল। রাজশালী কিংসে রয়েছেন ড্যারেন স্যামি, মোহাম্মদ সামি। আর রংপুর রাইডার্স দলে ভিড়িয়েছে শহীদ আফ্রিদি, শার্জিল খান, বাবর আজম, মোহাম্মদ শেহজাদ, দাসুন শানকা, গিড্রন পোপ, রিচার্ড গ্লিসনকে।
বিদেশী খেলোয়াড় বেড়েছে : দেশী ক্রিকেটারদের কদর কমলেও বেড়েছে বিদেশী ক্রিকেটারের। বিপিএলের গেল আসরের ছয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজিতে ৩৭ বিদেশি ক্রিকেটার নাম লিখিয়েছিলেন। বিপিএল’র চতুর্থ আসরে বিদেশি ক্রিকেটার আরও বেড়েছে। এবার সাতটি ফ্র্যাঞ্চাইজিতে যোগ দিচ্ছেন ৫৭ বিদেশি ক্রিকেটার। তবে অধিকাংশ ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো বিপিএল’র প্লেয়ার্স ড্রাফটের বাইরে থেকেই বিদেশি খেলোয়াড় সংগ্রহ করেছে। বিদেশি ক্রিকেটারের মধ্যে পাকিস্তানি (১৬) ও শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটারের (১৫) প্রাধান্যই বেশি। ১২ ক্রিকেটার নিয়ে তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটাররা।
এছাড়া ইংল্যান্ডের আট ও আফগানিস্তানের তিন ক্রিকেটারও এবার বিপিএলে যোগ দিয়েছেন। বিপিএল’র খেলোয়াড় নিলামে ১৬৮ বিদেশি থাকলেও দল পেয়েছেন মাত্র ২৩ জন। ড্রাফটের বাইরে থেকে অংশ নিচ্ছেন- এমন বিদেশি ক্রিকেটারের সংখ্যা এখন পর্যন্ত ৩৪। ড্রাফটের তালিকায় থাকা ক্রিকেটারের মধ্যে সর্বোচ্চ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার পারিশ্রমিক পাচ্ছেন ৫ ক্রিকেটার। তবে ড্রাফটের বাইরে থেকে নেয়া ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক প্রকাশ করেনি কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি। এটা ড্রাফটের তালিকায় থাকা ক্রিকেটারদের থেকে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অনেক বেশি পারিশ্রমিক হবে বলে নির্ভরযোগ্য বিভিন্ন সূত্রে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। চিটাগং ভাইকিংসে যোগ দিচ্ছেন ৯ বিদেশি। ড্রাফট তালিকার বাইরে ৫ ক্রিকেটার নিচ্ছে তারা। ভাইকিংসে ড্রাফটের তালিকায় থাকা ক্রিকেটারের মধ্যে সর্বোচ্চ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার পাচ্ছেন নিউজিল্যান্ডের গ্র্যান্ট এলিয়ট। ঢাকা ডায়-নামাইটসে ৯ বিদেশি খেলোয়াড় নেয়া হয়েছে। ড্রাফট তালিকার বাইরে ছয় ক্রিকেটার দলে ভিড়িয়েছে তারা। ডায়নামাইটসে ড্রাফট তালিকায় থাকা ক্রিকেটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার পারিশ্রমিক পাচ্ছেন শ্রীলঙ্কার সেকুগে প্রসন্ন ও দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়েন পার্নেল। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সে ১০ বিদেশি খেলোয়াড় নেয়া হয়েছে। ড্রাফট তালিকার বাইরে সাত ক্রিকেটার নিচ্ছে তারা। ভিক্টোরিয়ান্সে তালিকায় থাকা খেলোয়াড়দের মধ্যে সর্বোচ্চ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার পারিশ্রমিক পাচ্ছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের জ্যাসন হোল্ডার। রাজশাহী কিংসে এখনও পাঁচ বিদেশি ক্রিকেটার নেয়া হয়েছে। ড্রাফট তালিকার বাইরে দুই ক্রিকেটার যোগ দিচ্ছেন কিংসে। রাজশাহীতে তালিকায় থাকা ক্রিকেটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার পাচ্ছেন শ্রীলঙ্কার উপল থারাঙ্গা ও ইংল্যান্ডের সমিত প্যাটেল। বরিশাল বুলসে পাঁচ বিদেশি ক্রিকেটার নেয়া হয়েছে, যাদের দুইজন ড্রাফট তালিকার বাইরে। তালিকায় থাকা ক্রিকেটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার পারিশ্রমিক পাচ্ছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কার্লোস ব্র্যাথওয়েট। রংপুর রাইডার্স তাদের ১০ বিদেশি ক্রিকেটারের মধ্যে ড্রাফট তালিকার বাইরে থেকে সাতজন দলে ভিড়িয়েছে। রাইডার্সে তালিকায় থাকা ক্রিকেটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার পারিশ্রমিক পাচ্ছেন শ্রীলঙ্কার সচিত্র সেনানায়েকে। খুলনা টাইটান্সে যোগ দিচ্ছেন ৯ বিদেশি ক্রিকেটার, যাদের মধ্যে ড্রাফট তালিকার বাইরে থেকে সুযোগ পেয়েছেন পাঁচজন। সর্বোচ্চ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার পারিশ্রমিক পাচ্ছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের লেন্ডল সিমন্স।
২৩ কোটি টাকার দলবদল : টোয়েন্টি-২০ ক্রিকেট মানেই টাকার ঝনঝনানি। নামী অনেক তারকাই এবার ঘড়ে বসে বিপিএল উপভোগ করতে হবে। কারণ তারা যে দল পাননি। এক সময় জাতীয় দলের নিয়মিত সদস্য ছিলেন মার্শাল আইয়ুব, এনামুল হক জুনিয়র, জুনায়েদ সিদ্দিকী, মেহরাব জুনিয়র, শাহাদাত হোসেন রাজীব, রাজিন সালেহ, তুষার ইমরান, ডলার মাহমুদ, সাজেদুল ইসলামরা। ঘরোয়া ক্রিকেটের পরিচিত মুখ। এখনও খেলছেন। কিন্তু বিপিএল’র চতুর্থ আসরের প্লেয়ার্স ড্রাফটে এদের নেয়নি সাত ফ্র্যাঞ্চাইজির কেউ।
শুধু জাতীয় দলের এসব সাবেক ক্রিকেটারই নন, ঘরোয়া ক্রিকেটের ধারাবাহিক পারফরমার আসিফ আহমেদ রাতুল, ইমতিয়াজ হোসেন তান্না, তাসামুল হকদেরও নেয়নি কোনো দল।  সুযোগ পাননি অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারও। এমন পরিস্থিতি সত্ত্বেও সুযোগ পেয়েছেন বর্তমান জাতীয় দলের সব ক্রিকেটার। এ প্লাস ক্যাটাগরির সাত ক্রিকেটারের কোনো লটারি হয়নি। তবে ‘এ’ ক্যাটাগরির ১১ ক্রিকেটারকে লটারিতে বেছে নিয়েছে দলগুলো। এবার পাঁচ ক্যাটাগরীতে ৩১৭ ক্রিকেটারকে ভাগ করা হয়। দল গোছাতে সাত ফ্র্যাঞ্চাইজি মোট খরচ হয়েছে ২২ কোটি ৬০ লাখ ৪০ হাজার টাকা। যা শুরুর দিকের আসর থেকে কিছুটা হলেও কম।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ