ঢাকা, বৃহস্পতিবার 16 March 2017, ০২ চৈত্র ১৪২৩, ১৬ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

দৌড়ের রানীর সব পরিকল্পনা ২০২০ সালকে ঘিরেই

মোহাম্মদ জাফর ইকবাল : উসাইন বোল্টের অনন্য ‘ট্রিপল ট্রিপল’, মোহামেদ ফারাহ্র ‘ডাবল ডাবল’ আলমাজ আয়ানার ১০ হাজার মিটারের বিশ্ব রেকর্ড গুঁড়িয়ে দেওয়া- এমন সব অসাধারণ গল্পের জন্ম দিয়েছে রিও ডি জেনিরো অলিম্পিকের ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডের ইভেন্টগুলো। তবে সবচেয়ে বেশী আলাচিত ছিল প্রথম নারী অ্যাথলেট হিসেবে অ্যালিসন ফেলিক্সের ৬টি সোনা জয়। অলিম্পিক ইতিহাসে অ্যাথলেটিক্সের যেখানে আর কোনো নারী অ্যাথলেটের ৫টি সোনাও নেই, সেখানে অ্যালিসন ফেলিক্স জিতলেন ষষ্ঠ শিরোপা। মেয়েদের ৪*৪০০ মিটার রিলেতে সতীর্থদের সঙ্গে প্রথম হয়ে অনন্য এই রেকর্ড গড়লেন যুক্তরাষ্ট্রের এই স্প্রিন্টার। রিও গেমসের পঞ্চদশ দিনে ৩ মিনিট ১৯.০৬ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মেয়েরা। জ্যামাইকা ৩ মিনিট ২০.৩৪ সেকেন্ড নিয়ে রুপা ও যুক্তরাজ্য ব্রোঞ্জ জেতে।এই ইভেন্টে টানা ছয়টি আসরে সোনা জিতে নিল যুক্তরাষ্ট্র। এবার আবারো ঘোষণা দিয়েছে রেখেছেন ফেলিক্স। সব চিন্তা নাকি টোকিওকে ঘিরে। রেকর্ড় গড়ে ইতিহাসে দীর্ঘ সময় ধরে থাকতে চান তিনি।
চার বারের অলিম্পিয়ান ফেলিক্সের রিও শুরু হয়েছিল হতাশা দিয়েই। ২০০ মিটার স্প্রিন্টের ফাইনালে উঠতে পারেননি তিনি। এরপর ৪০০ মিটারে একটুর জন্য রুপা জিততে হয় তাকে। তবে ৪*১০০ মিটার রিলেতে সতীর্থদের সঙ্গে প্রথম হওয়ায় ক্যারিয়ারের পঞ্চম অলিম্পিক সোনা পেয়ে যান তিনি। অ্যাথলেটিক্সে কোনো নারী অ্যাথলেট চারটির বেশি সোনা জিততে পারেনি। এবার তো সোনার সংখ্যা ছয়টিতে নিয়ে গেলেন ফেলিক্স।  বেইজিংয়ে ৪*৪০০ মিটার রিলের সোনা জেতার পর লন্ডনে ২০১২ অলিম্পিকে ২০০ মিটার স্প্রিন্ট এবং ৪*১০০ ও ৪*৪০০ মিটার রিলের সোনা জিতেছিলেন ফেলিক্স। রিওতে জিতলেন দুটি রিলের সোনা। অলিম্পিকে সব মিলিয়ে ফেলিক্সের পদক হলো ৯টি। রিওতে ৪০০ মিটারে রুপা ছাড়াও এথেন্স ও বেইজিং অলিম্পিকে ২০০ মিটারে রুপা জিতেছিলেন তিনি। ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি পদক পাওয়া এই নারী অ্যাথলেট সাংবাদিকদের বলেন, আমি এখন পেছনে ফিরে দেখতে পারি আমি কি অর্জন করেছি। আমি সত্যিই গর্বিত। ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড আমাকে যা দিয়েছে তাতে আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ।
আগের সব জয়কে সামনে এনে অন্তত আরেকটি অলিম্পিকে দৌড়াতে চান অ্যালিসন ফেলিক্স । গত বছর রিও ডি জেনিরোয় অলিম্পিকে নিজের ষষ্ঠ স্বর্ণপদক জিতে নেয়ার পর এবার এবার টোকিও অলিম্পিকে সেটার পুনরাবৃত্তি করতে চান মার্কিন ট্র্যাক এ্যান্ড ফিল্ড সম্রাজ্ঞী এ্যালিসন ফেলিক্স। সব চিন্তাভাবনা আর পরিকল্পনা এখন ২০২০ সালটা নিয়েই। এমনটাই জানিয়েছেন ২০০ ও ৪০০ মিটার দৌড়ের এ রানী। হাতে এখনো প্রায় তিন বছর। তবে এখন থেকেই যেন ঘোষণা দিয়ে রাখতে চান। সেই ঘোষণা কার্যকরী করতে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন দৌড়ের এ মহারাণী। প্রতিদ্বন্দ্বী কে সেটি জানতে চান না। টার্গেট গতবারের পুনরাবুত্তি ঘটানো।
৩১ বছর বয়সী ফেলিক্স রিও অলিম্পিকে ৪*১০০ ও ৪*৪০০ মিটার রিলেতে স্বর্ণপদক জয় করেন। যদিও লন্ডনে ২০১২ সালে এ দু’টি ইভেন্ট ছাড়াও ২০০ মিটারে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন। আর ২০০৮ সালে বেজিংয়ে জিতেছিলেন ৪*৪০০ মিটার রিলের স্বর্ণ। ৯ পদক নিয়ে সাবেক জ্যামাইকান গ্রেট মারলিন ওটির সঙ্গে স্বর্ণ জয়ের টাই এই মুহূর্তে। নতুন রেকর্ড স্থাপন করতে চান ফেলিক্স টোকিও অলিম্পিকে। ক্যারিয়ারের পঞ্চম অলিম্পিকে অংশ নিয়েও আরেকটি রেকর্ড গড়ার চিন্তা তার। এ বিষয়ে ফেলিক্স বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি ভাবছি এটা আসলে করতেই চাই। আমি এখনও এই ক্রীড়া নিয়ে খুব উৎসাহী। সবচেয়ে বড় যে বিষয়টি আমি গত বছর বুঝেছি তা হচ্ছে এখন আমার অনেক অভিজ্ঞতা হয়ে গেছে। আমি জানি যে আমি আগের চেয়ে অনুশীলনে বেশ সপ্রতিভ থাকতে পারি এবং কম প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করলেও তাই সমস্যা নেই।
গত অলিম্পিকেও ফেলিক্সের লক্ষ্য ছিল ২০০ ও ৪০০ মিটারে দারুণ কিছু করার। কিন্তু ইনজুরিতে পড়েন অনুশীলনের সময়। একটি বলের ওপর পা পড়ে আছাড় খেয়েছিলেন এবং সে ঘটনায় গোড়ালি মচকে যায় তার। পরে পুরো মওসুমেই এ দুই ইভেন্টে সেভাবে অংশ নিতে পারেননি। অবশ্য ইউএস অলিম্পিক ট্রায়ালের আগে ফিটনেস ফিরে পেয়েছিলেন। অনেক সংগ্রামের পর কোনক্রমে ঠাঁই করে নিয়েছিলেন ৪০০ মিটারের প্রতিযোগিতায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাত্র ০.০৭ সেকেন্ড পিছিয়ে থেকে রৌপ্য জয় করেন। তবে এবার লন্ডনে আসন্ন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ দিয়ে সব ইভেন্টে ফিরতে চান ফেলিক্স।
ফেলিক্সের পাশাপাশি গত অলিম্পিকে বরাবরের মতোই দাপট দেখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাথলেটরা। ২০০৮ সালে বেইজিংয়ে ৪০০ মিটার হার্ডলসে রুপা জেতার পর আট বছরের অপেক্ষা। অবশেষে রিওতে সোনার পদক জিতে শূন্যতা ঘোচালেন যুক্তরাষ্ট্রের কেরন ক্লেমেন্ট।  মেয়েদের ১০০ মিটার হার্ডলসের সোনা-রুপা-ব্রোঞ্জ সবই গেল যুক্তরাষ্ট্রের ঘরে। ক্যারিয়ারের সেরা লাফ দিয়ে রিও অলিম্পিকে মেয়েদের লং জাম্পের সোনা জেতেন যুক্তরাষ্ট্রের টিয়ানা বারটোলেটা। রিও গেমসের দ্বিতীয় দিনে বছরের সবচেয়ে দীর্ঘ লাফ দিয়ে পুরুষ ট্রিপল জাম্পের অলিম্পিক শিরোপা ধরে রাখেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিস্টিয়ান টেইলর। মরিয়া হয়ে লাফালেন শেষ রাউন্ড। ৮.৩৮ মিটারের ওই লাফে লং জাম্পের সোনা ছিনিয়ে নিলেন যুক্তরাষ্ট্রের জেফ হেন্ডারসন। অলিম্পিকে মেয়েদের শট পুটে হ্যাটট্রিক সোনা জেতা হয়নি ভ্যালেরি অ্যাডামসের। নিউ জিল্যান্ডের এই অ্যাথলেটকে পেছনে ফেলে রিওতে সেরা হন যুক্তরাষ্ট্রের মিচেলে কার্টার। সবাইকে অবাক করে দিয়ে রিও অলিম্পিকের ছেলেদের এক হাজার ৫০০ মিটার দৌড়ের সোনা জিতলেন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাথিউ সেন্ট্রুইটস। অ্যাথলেটিক্সে ছেলেদের ৪*৪০০ মিটার রিলের সোনা জেতে যুক্তরাষ্ট্র। ফাইনালে নিখুঁতভাবে ব্যাটন হাতবদল করে ৪*১০০ মিটার রিলের সোনা জেতে যুক্তরাষ্ট্রের মেয়েরা। মেয়েদের ৪০০ মিটার হার্ডলসে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এগিয়ে থেকে সোনা জিতলেন যুক্তরাষ্ট্রের ডালিয়াহ মুহাম্মাদ। ডেকাথলনের সোনা জিতলেন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাশটন ইটন। ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বেশি দূরত্বে গোলক ছুড়ে অলিম্পিক রেকর্ড গড়ে শট পুটের সোনা জিতেছেন যুক্তরাষ্ট্রের রায়ান ক্রাউজার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ