ঢাকা, রোববার 09 March 2017, ২৬ চৈত্র ১৪২৩, ১১ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

৩ বছরেই জেলা পরিষদের পিয়ন হলো কোটিপতি

আসাদুল হক পলাশ, নরসিংদী : নরসিংদী জেলা পরিষদের অভ্যন্তরে সীমাহীন দুর্নীতি’র আরো একটি খন্ড চিত্র প্রকাশ হয়ে পড়েছে। বয়স গোপন করে অষ্টম শ্রেণীর ভুয়া সনদপত্র দিয়ে চাকুরী নিয়ে ৩ বছরেই জায়গা জমি কিনে কোটিপতি হয়ে গেছে বকুল মিয়া নামে এক এমএলএসএস (পিয়ন)। সে শিবপুরের কারারচর ও সদরের হাজীপুর এলাকায় লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে জমি ক্রয় করেছে। এছাড়াও বিপুল পরিমান নগদ অর্থের মালিক হয়ে গেছে পিয়ন বকুল।
জানা গেছে, তার গ্রামের বাড়ী ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার নবীনগরে। সে এক সময় নরসিংদী শহরে রিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো। কোন এক সময় সে একটি ক্লাবে অর্ডারলী হিসেবে রাতের বেলায় কাজ করতো। সেখান থেকে সুযোগ পেয়ে সে নরসিংদী জেলা পরিষদে চাকুরীর জন্য আবেদন করে। তবে চাকুরীক্ষেত্রে ঠিকানা দিয়েছে নরসিংদী শহরের পশ্চিম কান্দাপাড়া।
তার পিতার নাম আব্দুল মইদর আলী, মায়ের নাম জগনা খাতুন। ২০১৩ সালের ১১ এপ্রিল সে নরসিংদী জেলা পরিষদের এমএলএসএস পদে নিয়োগ পায়। তার প্রকৃত জন্ম হচ্ছে ১৯৭২ সালের ৩ এপ্রিল। কিন্তু সে তার আবেদনপত্রে তথ্য দিয়েছে তার জন্ম ১৯৮৫ সালে। অর্থাৎ তার জন্ম বছর থেকে ১৩ বছর কম দেখিয়ে সে এমএলএসএস পদে চাকুরী নিয়েছে।
আর এ জন্য খোরশেদ আলম নামে একজন ইউডির মাধ্যমে এক কর্মকর্তাকে ঘুষ দিয়েছে ৩ লক্ষ টাকা। চাকুরীর দরখাস্তের সাথে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি জমা দেয়ার বিধান থাকলেও ইউডি খোরশেদ আলম’র সহযোগিতায় সে তা গোপন করেছে।  সম্প্রতি যে কোন মাধ্যমে তার জাতীয় পরিচয়পত্র প্রকাশ হয়ে পড়লে চাকরি ক্ষেত্রে তা জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়ে। সে জেলা পরিষদে আলোচনা সমালোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয়। তার ভোটার আইকাড নং ৬৮২৬০১৪৬৬৭৫৮০ তে তার জন্ম তারিখ হচ্ছে ৩ এপ্রিল ১৯৭২।
এছাড়া সে একেবারেই লেখাপড়া জানেনা। সে কোন স্কুলে লেখাপড়া করেনি। সে একটি কাগজ রিডিং পড়তেও পারে না। অথচ একটি স্কুল থেকে অস্টম শ্রেণীর ভুয়া সনদপত্র এনে দরখাস্তের সাথে জমা দিয়ে চাকরি নিয়েছে। জেলা পরিষদের এমএলএসএস হলেও চাকুরী ক্ষেত্রে তার কদর অনেক বেশি। জেলা পরিষদের কর্মকর্তাগণ রহস্যজনক কারণে উন্নয়ন প্রকল্পের তদারককারী হিসেবে নিয়োগ করেন। তাকে অফিস আদেশ দিয়ে তদারক কমিটির সদস্য বানানো হয়।
আর এই সুযোগেই সে ঠিকাদারদের নিকট থেকে পার্সেন্টেজ নিয়ে কর্মকর্তা দেরকে দেয় পাশাপাশি সে নিজেও ভোগ করে। এমনই করে গত ৩ বছরে সে শিবপুরের দক্ষিণ কারারচরে এবং নরসিংদী সদরের হাজীপুরে কমবেশী পৌনে ১৪ শতাংশ জায়গা ক্রয় করেছে। যার মূল্য হবে কমবেশি এক কোটি ২০ লাখ টাকা। কারার চরের মাসুদা বেগমের নিকট থেকে ক্রয়কৃত জমির দলিল নং ৫৫৩৮, শিবপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস। হাজীপুরের জমিটির দলিল নাম্বার পাওয়া যায়নি।
এছাড়াও একটি ব্যাংকে তার বিপুল পরিমান নগদ টাকা মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পরিষদের একটি সূত্র। এসব দুর্নীতির সরেজমিনে তদন্ত করলে আরো দুর্নীতির খবর বেরিয়ে পড়বে বলে জানিয়েছে সূত্রটি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ