ঢাকা, রোববার 09 March 2017, ২৬ চৈত্র ১৪২৩, ১১ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

উচ্চ আদালতে রিটের নিষ্পত্তি না করেই আলীগঞ্জ মাঠে উচ্ছেদ অভিযান

নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা : নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার আলীগঞ্জে ১১ দশমিক ৬৫ একর জমিতে সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসনের জন্য ৮টি ১৫ তলা ভবন নির্মাণের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের রিট নিস্পত্তি না করেই সেখানে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করায় বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে স্থানীয় এলাকাবাসী ও ক্রীড়ামোদীরা।
গত বুধবার আলীগঞ্জ খেলার মাঠের আশপাশের জমিতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে গণপূর্ত বিভাগ। পরদিন বৃহস্পতিবার আলীগঞ্জ খেলার মাঠের জমি পরিমাপ করতে গেলে মাঠে থাকা খেলোয়াড় এবং স্থানীয় এলাকাবাসী গণপূর্ত বিভাগের সার্ভেয়ারসহ সংশ্লিষ্টদের ধাওয়া করলে তারা মাঠের জমি থেকে সরে যান।
আগামীতে গণপূর্ত বিভাগের লোকজনকে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে স্থানীয় এলাকাবাসী ও ক্রীড়ামোদীরা।
আলীগঞ্জের ওই জমিতে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য  মোট ৬৭২টি ফ্ল্যাট নির্মাণের কথা রয়েছে। তবে ১১ দশমিক ৬৫ একর জমির মধ্যে ৫ একর ৭০ শতাংশ জমিতে ঐতিহ্যবাহি আলীগঞ্জ খেলার মাঠটি অবস্থিত।
গত বছরের ২২ মার্চ একনেকের বৈঠকে নারায়ণগঞ্জের আলীগঞ্জ খেলার মাঠ ও তৎসংলগ্ন জমিতে সরকারী কর্মকর্তাদের জন্য ১৫ তলা আটটি আবাসিক ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। প্রায় চারশ’ কোটি টাকা ব্যয়ে এসব ভবনে ৬৭২টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। এরপর থেকেই আলীগঞ্জ মাঠটি রক্ষার দাবিতে আন্দোলনে নামে সর্বস্তরের এলাকাবাসী ও ক্রীড়ামোদীরা। পরে ওই বছরের ৭ এপ্রিল একনেকের সিদ্ধান্তের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্ট বিভাগে একটি রীট পিটিশন দায়ের করেন আলীগঞ্জ ক্লাব ও আলীগঞ্জ হাইস্কুলের সভাপতি বিশিষ্ট ক্রীড়ানুরাগী ও সমাজসেবক কাওসার আহমেদ পলাশ। ১০ এপ্রিল সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ শুনানী শেষে ফতুল্লার আলীগঞ্জ খেলার মাঠে সরকারী কর্মকর্তাদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণে একনেকের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবেনা সে মর্মে মন্ত্রী পরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মূখ্যসচিব, অর্থসচিব, পরিকল্পনা সচিব, পূর্ত সচিব, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক, গণপূর্ত নারায়ণগঞ্জ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ ৮ কর্মকর্তার উপর রুল নিশি জারি করেন। কিন্তু রুলের জবাব  না দিয়েই গত বছরের ১০ আগষ্ট গণপূর্ত বিভাগ ঢাকা-৪ এর তত্বাবধায় প্রকৌশলী একেএম গোলাম কবির স্বাক্ষরিত দ্বিতীয় দফায় পুনঃ দরপত্রটি (রিটেন্ডার) আহবান করা হয়। বিষয়টি রিটের আবেদনকারী গত বছরের ২৯ আগষ্ট উচ্চ আদালতের একই বেঞ্চের নজরে আনলে বিচারকদ্বয় ঐতিহ্যবাহী আলীগঞ্জ খেলার মাঠ রক্ষা করে ৮টি ১৫ তলা ভবন নির্মাণ সম্ভব কিনা তা ৩০ দিনের মধ্যে তদন্ত করে পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালককে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ ৭ মাস পেরিয়ে গেলেও পরিবেশ অধিদফতর এ বিষয়ে কোন তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেননি।
রিটের বাদি কাউসার আহমেদ পলাশ বলেন, খেলার মাঠটিকে রক্ষা এবং এ মাঠটিকে পূর্ণাঙ্গ মাঠে রূপান্তরের জন্য ২৫ হাজার লোকের স্বাক্ষর সম্বলিত স্মারকলিপি জেলা প্রশাসকের মাধ্যেমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর দেওয়া হয়েছে।
আশা করি প্রধানমন্ত্রী জনগণের এই দাবির বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবেন। তাছাড়া মাঠ রক্ষায় উচ্চ আদালতে যে রিট করা হয়েছে সেটি এখনো সুরাহা হয়নি। বিবাদীপক্ষ এখনো রুলের জবাব দেননি এবং আদালত পরিবেশ অধিদফতরকে এ ব্যাপারে তদন্ত করে যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন তাও দেওয়া হয়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ