ঢাকা, রোববার 09 March 2017, ২৬ চৈত্র ১৪২৩, ১১ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মার্কিন ফার্স্ট লেডির হাত থেকে পুরস্কার পাওয়ায় আনন্দিত এলাকাবাসী

সাইদুল ইসলাম : ঝালকাঠির রাজাপুরের মেয়ে শারমিন আক্তার মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের হাত থেকে ‘সাহসী নারী’র পুরস্কার নেয়া আনন্দিত তার শিক্ষক, সহপাঠি ও এলাকাবাসী। কিশোরী শারমিন নিজের বাল্য বিয়ে ঠেকিয়ে দিয়ে দেশকে জানান দিয়েছিলো তিনি কতোটা সাহসী। আর এই সাহসীকতার জন্যই তাকে পুরস্কার দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউজ। শারমিন রাজাপুর পাইলট বালিকা বিদ্যালয় থেকে এবার মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আফরোজা আক্তার লাইজু ও প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা গাজি জানান, ‘শারমিন আক্তার আমাদের গর্ব ও পুরস্কার পাওয়ায় আমরা গর্বিত। আমরা ওর উজ্জল ভবিষ্যৎ কামনা করছি। শারমিন আক্তারের কয়েকজন সহপাঠী জানান, শারমিন পুরস্কার পাওয়ায় আমাদের ভালো লাগছে। ওর দুঃসময়ে আমরা পাশে ছিলাম। সারা জীবন ওর পাশে থাকবো। রাজাপুর সাংবাদিক ক্লাব’র প্রতিষ্ঠাতা সাংবাদিক রহিম রেজা জানান, শুরু থেকেই লেখনীর মাধ্যমে শারমিনকে সহযোগীতা করেছেন। শারমিন যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউজে পুরস্কৃত হওয়ায় আজ সত্যি বেশ আনন্দ লাগছে। সে আরও বড় হোক এবং শারমিনের সু-স্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি। রাজাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মনিরউজ্জামান মনির জানান, শারমিন মার্কিন যুক্তরাষ্টের পুরস্কার পাওয়ায় আমরা আনন্দিত। শারমিন শুধু রাজাপুর নয় গোটা বাংলাদেশের মুখ উজ্জল করেছে বিশে^র দরবারে। ওকে আমাদের পক্ষ থেকে পুরস্কৃত করা হবে। জানা গেছে, শারমিন আলোচনায় এসেছিলেন গত বছর নভেম্বর মাসে। তিনি বিয়েতে রাজী না হওয়ায় তাঁর মা তাকে পাত্রের সঙ্গে কয়েকদিন একটি কক্ষে আটকে রেখেছিলেন। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় পনেরো বছর বয়সে তাঁর মা তাঁকে বিয়ে দেয়ার আয়োজন করেছিলো। স্কুলের বন্ধু, সাংবাদিক এবং থানা পুলিশের সহায়তা নিয়ে শারমিন আকতার মায়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এক পর্যায়ে বন্দী দশা থেকে পালিয়ে এসে তিনি তার মায়ের বিরুদ্ধেই মামলা করে দেন। তার দায়ের করা মামলায় তাঁর মা এবং কথিত পাত্রকে পুলিশ প্রেফতার করে। তিনি বড় হয়ে আইনজীবী হতে চান এবং বাল্য বিয়ের বিরুদ্ধে তার প্রচারণা অব্যাহত রাখতে চান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ