ঢাকা, রোববার 09 March 2017, ২৬ চৈত্র ১৪২৩, ১১ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খুলনায় ১৫০ হেক্টর জমিতে ছত্রাক রোগের আক্রমণ

খুলনা অফিস: খুলনার বোরো ক্ষেতে ছত্রাকের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। ব্লাস্ট নামক এ রোগের কারণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে অধিকাংশ ক্ষেতের ফসল। ধানে পরিপক্কতা আসার আগেই শুকিয়ে যাচ্ছে শীষ। চিটা হয়ে যাচ্ছে ধান। এ নিয়ে হতাশায় ভুগছেন জেলার কৃষকেরা। ইতোমধ্যে অনেকেরই সর্বস্বান্ত হওয়ার উপক্রম হয়েছেন। মূলত বৈরী আবহাওয়া ও আগাম বোরো আবাদের ফলে এ ধরনের ছত্রাকের সংক্রমণ বেড়েছে বলে ধারণা করছেন কৃষিবিদরা। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রাও হ্রাস পাওয়ার আশংকা রয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর খুলনা জেলায় ৫২ হাজার ৩শ’ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ করা হয়েছে। এবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে দুই লাখ ১০ হাজার ৭২১ মেট্রিক টন চাল। কিন্তু জেলার বিভিন্ন স্থানে ব্লাস্ট রোগের প্রভাব দেখা দেয়ায় এবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা কমতে পারে বলে ধারণা করছেন অনেকেই। বৈরী আবহাওয়ার ফলে অধিকাংশ ক্ষেতে দেখা দিয়েছে এ ধরনের ছত্রাকের আক্রমণ। এর বিস্তার ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন এলাকায়। অধিদপ্তরের সূত্র মতে, জেলার প্রায় ১৫০ হেক্টর জমিতে এ ছত্রাকের প্রভাব বিস্তার করছে। এদিকে এ রোগের কারণে কৃষকদের মধ্যে বিরাজ করছে হতাশা। অনেকেই ঋণসহ বিভিন্নভাবে অর্থ সংগ্রহ করে বোরোর চাষ করেছেন। ব্লাস্টের প্রভাবে অনেক ক্ষেতের ধান একেবারেই নষ্ট হয়ে গেছে। শূন্য হাতে ঘরে ফিরতে হবে বলে অনেক কৃষকের অভিমত। ওদিকে ঘাড়ের ওপর ঋণের বোঝা।
ডুমুরিয়া উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের থুকড়া গ্রামের রুস্তম আলী, কাদের বিশ্বাস, হেকমত বিশ্বাসসহ বেশ কয়েকজন কৃষক জানান, তাদের সকলের ক্ষেতের একই অবস্থা। হেকমত বিশ্বাস বলেন, ‘প্রায় পাঁচ বিঘা জমিতে বোরোর চাষ করেছি। এই রোগে ক্ষেতের প্রায় চার আনা ধানই নষ্ট হয়ে গেছে। সব ধান চিটা হয়ে গেছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ করেছি। এরপর আবার প্রায় চার হাজার টাকার ওষুধ দিলাম। কিন্তু ওষুধ দিয়েও কোন লাভ হল না। এত টাকা খরচ করেও দুই আনা ধানও ঘরে উঠাতে পারবো কিনা সন্দেহ।’ আন্দুলিয়া গ্রামের জহির শেখ জানান, ‘১২ বিঘা জমির ধান সব চিটা হয়ে গেছে। ক্ষেতে এবার কাঁচি দেয়ার প্রয়োজন হবে না। ধার দেনা করে ধান লাগাইছি। এসব দেনা কি করে শোধ করবো জানিনে।’ এ ব্যাপারে ডুমুরিয়া উপজেলার কৃষি অফিসার মো. নজরুল ইসলাম জানান, এবার এ উপজেলায় ২০ হাজার ৬১০ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১০৫ হেক্টর জমিতে ব্লাস্ট নামক ছত্রাকের সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব ক্রমেই আরও ছড়িয়ে পড়ছে। মূলত বৈরী আবহাওয়ার কারণেই এ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। আর ঘের এলাকা ও আগাম চাষাবাদের ফসলে এ রোগের প্রভাব বেশি দেখা দিয়েছে। বলা যায়, এ উপজেলায় ব্লাস্ট এর বিস্ফোরণ ঘটেছে। তবে আমরা সর্বত্র মাঠে থেকে কৃষকদের সাথে গ্রুপিং করে পরামর্শ দিচ্ছি ও সজাগ করে তুলছি। এ রোগের ফলে ফলন কমে যাবে আর কৃষককেও কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হতে হবে বলে জানান তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ