ঢাকা, রোববার 09 March 2017, ২৬ চৈত্র ১৪২৩, ১১ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সাত মাসেও সুস্থ হয়ে ওঠেনি মেধাবী ছাত্রী সাবিনা

এইচএম হুমায়ুন কবির (পটুয়াখালী) থেকে: বিনা অপরাধে কোনো নিষ্পাপ শিশুর ওপর কেউ এ ভাবে হামলা করতে পারে- তা অবিশ্বাস্য। অথচ এমনটিই ঘটেছে। পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নীলগঞ্জের ইউনিয়নে সৈয়দপুর গ্রামের ছিদ্দিক হাওলাদারের মেয়ে মেধাবী ছাত্রী সাবিনা আক্তার তখন পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী স্কুল থেকে বাড়িতে ফিরছিল। ২০১৬ সালের ৯ আগস্ট। বিকেল আনুমানি চারটা। শাহ আলম ফরাজীর স্ত্রী সাজেদা বেগম গরু বাধার একটি কাঠের গোছ দিয়ে সজোরে আঘাত করে সাবিনার বাহুতে। সাবিনার বাম বাহু বরাবর হাতের জয়েন্টের হাড়ে মারাত্মক আঘাত পায়। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে ওঠেনি সাবিনা। মেধাবী এ শিশুটি হাতের ব্যান্ডেজ নিয়ে প্রাথমিকের সমাপনী পরীক্ষা দিয়েছে। সে জিপিএ-৫ পেয়েছে। হাজীপুর মাধ্যমিক বিদালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে। কিন্তু এখন তার স্কুলে যাওয়া বন্ধ। হাতের ওই আঘাত ভাল হয়নি। অসহ্য যন্ত্রণা করে, তখন বাড়িতে কাতরায়। কান্না করে। জয়েন্টের হাড়ের আঘাত মারাত্মক বলে সাবিনার মায়ের দাবি। নির্দিষ্ট চিকিৎসকের কাছে এসেছিলেন। না পেয়ে ফের বাড়ি চলে গেছেন। এমন নির্মম শিশু নির্যাতনের কথা বলতে সাবিনা তার মায়ের সঙ্গে বৃহস্পতিবার বিকেলে কলাপাড়া প্রেস ক্লাবে এসেছিলেন।
সবার এখন একটাই প্রশ্ন Ñবড়দের সাথে বড়দের শত্রুতার জের ধরে শিশু সন্তানের ওপর আক্রমণ, এ কেমন নিষ্ঠুরতা?। জমিজমা সংক্রান্ত মামলা-বিরোধ রয়েছে সাবিনার বাবা ছিদ্দিক হাওলাদারের সঙ্গে নীলগঞ্জের সৈয়দপুর গ্রামের শাহ আলম ফরাজীর সঙ্গে। তার স্ত্রী সাজেদা বেগম এ শিশুকে নির্দয়ভাবে মারধর করে। দীর্ঘ সাত মাস চিকিৎসার পরও সন্তানের হাত ঠিকমতো নড়াচড়া করতে পারছে না। স্কুলে যেতে পারছে না। সবসময় যন্ত্রণা-করছে।-এনিয়ে কান্না জুড়ে দেন সাবিনার মা জেসমিন বেগম।
 কলাপাড়া থানায় তিনি এ ঘটনায় একটি অভিযোগ দিয়েছিলেন। পুলিশের এক কর্মকর্তা দায়সারা গোছের একটি প্রতিবেদন দাখিল করেছে বলে জেসমিন বেগম ক্ষুব্ধ। চিকিৎসা এবং মামলায় বহু টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু মেয়ের হাতের বড় সমস্যার শঙ্কায় চরম উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন জেসমিন বেগম। আদৌ হাতের সমস্যা চিকিৎসায় ভাল হবে কি না এ নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন। তিনি যথাযথ বিচার চেয়েছেন। জেসমিন বেগমের প্রশ্ন জমিজমা নিয়ে মামলা আছে। যারা জিতবে তারা জমি পাবে, তাতে ছোট্ট ছেলে-মেয়ের দোষ কী। বর্তমানে সন্তানের এ অবস্থার দুশ্চিন্তার সঙ্গে জেসমিন বেগমের দুশ্চিন্তা মেয়ে সাবিনার লেখাপড়া কীভাবে চলবে। আদৌ ভাল হয়ে কবে স্কুলে যেতে পারবে।
মেম্বার ফজলে হক সুমন হাং জানান, ঘটনাটি সম্পূর্র্ণ জমাজমি সংক্রান্ত কিন্তু মেয়েটির উপর এভাবে আঘাত ঠিক হয়নি।
নীলগঞ্জের ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এডভোকেট নাসির উদ্দিন বলেন, ব্যাপারটি আমি জানি না এই মাত্র শুনলাম কিন্তু একটি মেয়েকে মারধর করা সাত মাস পর্যন্ত সুস্থ হয়নি। এ কেমন আঘাত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ