ঢাকা, সোমবার 08 May 2017, ২৫ বৈশাখ ১৪২৩, ১১ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

পাইকগাছায় তরমুজের বাম্পার ফলন

খুলনা : লবণাক্ত মাটির তরমুজ বেশি মিষ্টি। খুলনার লবণাক্ত উপকূল অঞ্চল পাইকগাছায় চলতি মওসুমে তরমুজের বাম্পার ফলনে কৃষকের ভাগ্য বদলে দিয়েছে। উপজেলায় ২টি ইউনিয়ন দেলুটি ও গড়ইখালী চলতি মওসুমে ৮৫ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ করেছে কৃষকরা -সংগ্রাম

# হেক্টর প্রতি উৎপাদন হয়েছে ৩৭ মেট্রিক টন
খুলনা অফিস : খুলনার পাইকগাছায় চলতি মওসুমে তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। হেক্টর প্রতি উৎপাদন হয়েছে ৩৭ মেট্রিকটন। বাম্পার ফলন ও উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে সাথে বেড়েছে তরমুজের আবাদ। চলতি মওসুমে উপজেলায় ২০০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে যা বিগত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ। এদিকে অতিতের যে কোন সময়ের চেয়ে চলতি মওসুমে তরমুজের বাম্পার ফলন হওয়ায় অধিক লাভবান হয়েছেন তরমুজ চাষীরা। আবাদ এলাকা পরিদর্শন করে চলতি মওসুমের তরমুজের উৎপাদনকে ইতিবাচক ভাবে দেখছেন কৃষি বিভাগ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, পাইকগাছা উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় লবণ পানির চিংড়ি চাষ হওয়ায় এলাকার বেশিরভাগ কৃষি জমি রয়েছে লবণাক্ত। ফলে মাত্রাতিরিক্ত লবণাক্ততার কারণে ব্যাহত হয় কৃষি ফসল উৎপাদন। এদিকে লবণাক্ত জমিতে তরমুজ চাষ কৃষি ফসল উৎপাদনের জন্য এলাকায় নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। চলতি মওসুমে উপজেলায় দুইশ’ হেক্টর জমিতে উন্নত ড্রাগন ও পাকিজা জাতের তরমুজের আবাদ হয়েছে। যার মধ্যে দেলুটিতে ১৭৫ এবং গড়ইখালীতে ২৫ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। যা বিগত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ। অত্র এলাকা তরমুুজ চাষের জন্য সমৃদ্ধ হলেও অতিতের যে কোন বছরের চেয়ে চলতি মওসুমে তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে বলে কৃষি বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট চাষীরা জানিয়েছেন। এ বছর হেক্টর প্রতি উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৪০ মেট্রিক টন।সৈয়দখালী এলাকার কৃষক শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, চলতি মওসুমে তিনি ৫০ শতক জমিতে তরমুজের আবাদ করেছেন। বাম্পার ফলন হওয়ায় ৫০ শতক জমিতে উৎপাদিত তরমুজ বিক্রি করে তিনি প্রায় দেড় লক্ষ টাকা বিক্রি করেছেন বলে জানিয়েছেন।
দেলুটি ইউপি চেয়ারম্যান রিপন কুমার মন্ডল জানান, কৃষি বিভাগের সার্বিক তদারকিতে ইউনিয়নের ২২নং পোল্ডারে এ বছর তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। উৎপাদিত তরমুজ বিক্রি করে কৃষকরা বিঘা প্রতি আয় করছেন প্রায় ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত। এ বছর ভাল ফলন হওয়ায় লবণাক্ত এলাকায় তরমুজ চাষ নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। চলতি মওসুমে ১০ থেকে ১২ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি হবে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। পাইকগাছা উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ এএইচএম জাহাঙ্গীর আলম জানান, তরমুজ একটি লাভজনক ফসল, বীজ রোপন থেকে ৬০ দিনের মধ্যে বাজারজাত করা যায়। এ জন্য অন্যান্য ফসলের তুললনায় তরমুজের উৎপাদন খরচ অনেক কম। এছাড়া লবণ, সহিষ্ণু ও সেচ খরচ কম হওয়ায় তরমুজ চাষে কৃষকরা অধিক লাভবান হন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ