ঢাকা, সোমবার 08 May 2017, ২৫ বৈশাখ ১৪২৩, ১১ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মিয়ানমার সীমান্তে চোরাচালান আসছে মাদক

উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা: পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে উখিয়া সীমান্তের ১১টি পয়েন্টে চোরাচালান চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। কতিপয় দালাল সিন্ডিকেটের সক্রিয় সহযোগীতায় বানের পানির মত মিয়ানমারে পাচার হচ্ছে ভোজ্য ও জ্বালানী তেল সহ পিঁয়াজ, রসূন সেমাই, চিনি, গুড়, গরম মসল্লা থেকে শুরু করে সব ধরনের নিত্য পণ্য। বিনিময়ে এদেশে পাচার হয়ে আসছে ইয়াবা, সিগারেট, বোতলজাত মাদকদ্রব্য ও নিম্নমানের কসমেটিকস সামগ্রী। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার হাতে ছোটখাট মাদকের চালান আটক হলেও পাচারকৃত পণ্য উদ্ধার বা আটক না হওয়ার ঘটনায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার রহস্য জনক ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
জানা গেছে, পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে উখিয়ার অর্ধ শতাধিক পাইকারী ব্যবসায়ী কোটি কোটি টাকার নিত্যপণ্য সরবরাহ এনে গুদামজাত করছে। তৎমধ্যে উল্লেখযোগ্য জ্বালানী ও ভোজ্যতেল, পিঁয়াজ, রসূন, সেমাই, চিনি, গুড়সহ বিভিন্ন প্রকার নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী। অসাদু পাইকারী ব্যবসায়ীরা খুচরা ব্যবসায়ীদের বিক্রির অজুহাতে এসব পণ্য সামগ্রী সীমান্তের ধামনখালী, রহমতের বিল, আনজুমানপাড়া, নলবনিয়া, বটতলী, থাইংখালী, পালংখালী, বালুখালী, ফাত্রাঝিরি, ডিগলিয়াপালং, ডেইলপাড়া, রেজুআমতলীসহ ১১ পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমারে পাচার করা হচ্ছে বলে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে।
সীমান্তে বসবাসরত গ্রামবাসীর অভিযোগ হাতিমোরা কিল্লামারা এলাকার ছৈয়দ আলম, বার্মাইয়া জাহেদ উল্লাহ, তুলাতুলির নজির আহমদসহ ১০/১২ জনের একটি সিন্ডিকেট স্কট দিয়ে সীমান্তের পাহাড়ী পথে রাতের বেলায় নিত্যপণ্য পাচারে সহযোগীতা করছে। বিনিময়ে মিয়ানমারের তৈরি নেশা জাতীয় ট্যাবলেট ইয়াবার পাশাপাশি পিরিটন, বোতলজাত মাদকদ্রব্যসহ বিভিন্ন প্রকারের নি¤œমানের কসমেটিকস সামগ্রীর চালান সরবরাহ এনে পাচারকারীদের হাতে তুলে দিচ্ছে। এসব চোরাই পণ্য আনা নেয়ার ব্যাপারে সীমান্তের চিহ্নিত দালাল সিন্ডিকেটের সদস্য রেজু আমতলী গ্রামের আশরাফ আলী, ছৈয়দ নূর, ছৈয়দ করিম, জসিম উদ্দিন ও করই বনিয়া গ্রামের আব্দুর রহিমসহ ৭/৮ জন লোক বিজিবি-পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে নিয়মিত চাঁদা আদায় করার ঘটনায় পাচারকাজ বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে একাধিক গ্রামবাসী জানিয়েছেন।
স্থানীয় গ্রামবাসী নজির হোছন, আলী আকবর, শামশুল আলম সহ বেশ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী লোকজন জানান, দালাল চক্র অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা নাগরিকদের নিকট থেকে জনপ্রতি ৫শত টাকা আদায় করছে। এসব রোহিঙ্গারা সারাদিন উখিয়া, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরাঘুরি করে প্রয়োজনীয় মালামাল সংগ্রহ পূর্বক রাতের আধাঁরে মিয়ানমারে চলে যেতে সক্ষম হচ্ছে। স্থানীয় সুশীল সমাজের লোকজন মনে করছেন রোহিঙ্গারা নির্বিঘেœ আসা যাওয়া করতে পেরে এলাকায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ নানা প্রকার অনৈতিকতা বেড়ে গেছে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এসব রোহিঙ্গারা উখিয়া সদর থেকে চাঁদের গাড়ী, সিএনজি, টমটমসহ বিভিন্ন প্রকার ছোটখাট যানবাহনের সাহায্যে আঞ্চলিক সড়ক পথে নিত্যপণ্য মিয়ানমারে নিয়ে যেতে সক্ষম হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ