ঢাকা, মঙ্গলবার 25 July 2017, ১০ শ্রাবণ ১৪২8, ৩০ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বাংলাদেশের ফুটবল অনেক পিছিয়ে এগিয়ে নেয়া সময় সাপেক্ষ -অ্যান্ড্রু ওর্ড

কামরুজ্জামান হিরু : জাতীয় দলের পর এবার অনূর্ধ্ব - ২৩ দলের ভারাডুবিতে আবারো প্রশ্ন উঠেছে কোন পথে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ফুটবল। দামী দামী কোচ আর ঘন ঘন বিদেশ সফরেও কাজ হচ্ছেনা। কারি কারি টাকা ব্যায় করেও লাভ হচ্ছে না। আরো তলানীতে যাচ্ছে দেশের ফুটবল। ভুটানের কাছে জাতীয় দলের হারের পর আন্তর্জাতিক ম্যাচ শূন্য থাকতে হচ্ছে বাংলাদেশকে দু‘বছর। যুব দলকে নিয়ে আশাবাদী হয়ে উঠেছিলো বাফুফে। এএফসি অনূর্ধ্ব - ২৩ চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইয়ে ‘ই’ গ্রুপে হয়তো ভাল করবে লাল-সবুজ দলটি। তাই তো লাখ লাখ টাকা ব্যায় করে অস্ট্রেলিয়ান কোচ ওর্ডকে এনেছিলো বাফুফে। শুধু ওর্ড নয় পুরো বিদেশী কোচিং স্টাফ দিয়েই দলটিকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। দেশে ছাড়াও নেপাল ও কাতারে অনুশীলন ম্যাচ ও অনুশীলনের ব্যবস্থা করেছিলো বাফুফে। কিন্তু কোন কিছুতেই কাজ হয়নি। লজ্জাজনক পরাজয়ের বৃত্ত থেকে বের হতে পারছেনা দেশের ফুটবল। এএফসি কাপের বাছাই পর্বের তিন ম্যাচে ওর্ডের শিষ্যরা গোল খেয়েছে ১৩ টি। প্রতিপক্ষ তাজিকিস্তান দলের বিপক্ষে অবশ্য একটি গোল দিতে পেরেছে বাংলাদেশ। এটাই সান্ত¦না। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে জর্ডানের কাছে ৭-০ গোলে দ্বিতীয় ম্যাচে তাজিকিস্তানের বিপক্ষে শুরুতে এগিয়ে গিয়েও ৩-১ ব্যবধানে হার। তৃতীয় ম্যাচে এসে স্বাগতিক ফিলিস্তিনের বিপক্ষে জ্বলে উঠতে পারার কথাই নয়। পারেওনি। ৩-০ স্বাগতিক ফিলিস্তিনের কাছে হেরে গেছে বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-২৩ দল। বাংলাদেশ দলের এমন ব্যর্থতার দায় নিতে রাজী নয় অস্ট্রেলিয়ান কোচ অ্যান্ড্রু ওর্ড। এক বছরের জন্য বাংলাদেশ ফুটবলের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ওর্ড আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশের প্রকৃত অবস্থানটা তুলে ধরে বাফুফেকে একটা ব্যাখ্যা দিয়েছেন। বাফুফেতে পাঠানো বার্তায় এক বছরের জন্য নিয়োগ প্রাপ্ত কোচ অ্যান্ড্রু ওর্ড বলেছেন,‘এই পর্যায়ের ফুটবলের ধারেকাছেও নেই বাংলাদেশ। বাংলাদেশে নেই কোনো ম্যাচ উইনার। মাঠে পার্থক্য গড়ে দেয়ার মতো কোনো ফুটবলারও নেই।’ ‘অপ্রত্যাশিত হলেও আমাকে বলতে হচ্ছে, ‘এ মুহূর্তে বাংলাদেশ এই পর্যায়ে ফুটবল খেলার উপযুক্ত নয়। আন্তর্জাতিক লেভেল থেকে অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশের ফুটবল। তাজিকিস্তানের বিরুদ্ধে ছেলেরা শতভাগই দিয়েছে। তবে যদি খেলোয়াড়দের ফিটনেস পেশাদার পর্যায়ে না থাকে তাহলে সেটা কোনো পথ অতিক্রম করার জন্য যথেষ্ট নয়। শেষ ম্যাচে ফিলিস্তিনের বিপক্ষে খেলার যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। কিন্তু দুটি গোলই আমরা খেয়ে বসলাম সেটপিস থেকে। অথচ অনুশীলনে সেটপিস নিয়ে আমি অনেক কাজ করেছি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে মনসংযোগ ও দায়িত্বশীলতা স্বাভাবকি বিষয়। এটা থেকে সবার শিক্ষা নেয়া উচিত’-বলেছে অ্যান্ড্রু ওর্ড।
বাংলাদেশের ফুটবলারদের ফিটনেস লেভেল প্রসঙ্গে ওর্ড বলেছেন,‘আমি যখন প্রথম এই ফুটবলারদের দেখেছিলাম তখন তাদের ফিটনেস লেভেল দেখে হতাশ হয়েছিলাম। আমি হতাশার যে কথা বলেছিলাম তা এখনো আমার মনে আছে। ফুটবলারদের ফিটনেস ধরে রাখা কিংবা বাড়ানো ফেডারেশনের কাজ নয়। জাতীয় দলের কোচ হিসেবে আপনি খেলোয়াড়দের টেকনিক্যালি প্রস্তুত করতে পারেন। তাও একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। ছেলেরা ৯০ মিনিট খেলতে পারবেন কিনা সেদিকে দৃষ্টি দেয়া কোচের কাজ নয়। অত্যন্ত অবাক হয়েছি যে, আমার একজন গোলরক্ষক খেলার সময় পায়ের পেশিতে টান পেয়ে একাধিকবার পড়ে গেছেন। আমি আগে কখনো এমনিট দেখিনি। এমন অবস্থা থাকলে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সম্ভব হবে না।’হারতে হারতে বাংলাদেশের ফুটবলারদের মনের মধ্যে হার ঢুকে গেছে উল্লেখ করে বাংলাদেশ ফুটবলের প্রধান কোচ বলেছেন,‘আমি বুঝতে পেরেছি, মাঠে নামার আগেই তাদের মনের মধ্যে হারের চিন্তা ঢুকে যায়। ইতিমধ্যে এ জায়গায় কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। তবে এ নিয়ে অনেক কাজ করতে হবে। বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নতির জন্য দীর্ঘ মেয়াদী ডেভেলপমেন্ট কাজ করতে হবে এবং সেটা খুব তাড়াতাড়ি শুরু করতে হবে।’
তাহলে কী বাংলাদেশের কোনো খেলোয়াড় কী শীর্ষ পর্যায়ে পৌছতে পারবে না? ‘সেটা আমি বিশ্বাস করিনা। ফুটবল উন্নয়নের কাজগুলো যদি সঠিকভাবে হবে তাহলে বাংলাদেশের ফুটবলারদের উঁচুমানে পৌঁছতে না পারার কারণ নেই। এখানে ফুটবলারদের সরবরাহ অনেক কম। ইয়ং ফুটবলারদের নিয়ে যথাযথ ডেভেলপমেন্ট কাজ করতে হবে। এর বাইরে ফুটবল উন্নয়নে সংক্ষিপ্ত কোনো পথ নেই’-বলেছেন অ্যান্ড্রু ওর্ড।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ