ঢাকা, বুধবার 02 August 2017, ১৮ শ্রাবণ ১৪২8, ৮ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সিরামিক শিল্পের প্রথিকৃৎ ও বিএনপি নেতা হারুন অর রশীদ খান মুন্নুর ইন্তেকাল

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা, দেশের বিশিষ্ট শিল্পপতি, সমাজসেবী ও সাবেক মন্ত্রী হারুন অর রশীদ খান মুন্নু আর নেই। গতকাল মঙ্গলবার ভোর পাঁচটায় মানিকগঞ্জে তার প্রতিষ্ঠিত মুন্নু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি ইন্তিকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহী রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। তিনি স্ত্রী হুরুন্নাহার মুন্নু, দুই মেয়ে, জামাতা, নাতি নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার বড় মেয়ে আফরোজা খান রিতা বর্তমানে লন্ডনে রয়েছেন। লন্ডন থেকে ফিরলেই দাফন হওয়ার কথা। ছোট মেয়ে ফিরোজা মাহমুদের স্বামী মাহমুদুর রহমান দৈনিক আমার দেশ এর সম্পাদক। এই শোকের দিনেও আদালত থেকে তার নিস্তার নেই। মাহমুদুর রহমানকে একটি মামলায় গতকাল সকালে আদালতে হাজিরা দিতে হয়। ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে হাজিরা দিয়েই তিনি মানিকগঞ্জ চলে যান। মুন্নুর মৃত্যুতে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন শোক প্রকাশ করেছেন। 

শিল্পপতি মুন্নু দেশের সিরামিক শিল্পের একজন প্রতিকৃৎ। সোমবার পর্যন্ত তিনি ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। ওইদিন রাতে তিনি মানিকগঞ্জ চলে যাওয়ার জন্য অস্থির হয়ে পড়েন এবং এক পর্যায়ে আত্মীয় স্বজনকে তাকে সেখানে নিয়ে যেতে বাধ্য করেন। ভোরে তিনি ইন্তিকাল করেন। সাবেক এই মন্ত্রী মুন্নু গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান ছিলেন। মুন্নু দীর্ঘদিন ধরে শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত জটিলতা ও নিউরো সমস্যায় ভুগছিলেন। সম্প্রতি চিকিৎসার জন্য তিনি সিঙ্গাপুর গিয়েছিলেন।

হারুণ অর রশিদ খান মুন্নু ১৯৯১ সালে মানিকগঞ্জ-২ (শিবালয়-হরিরামপুর) আসনে বিএনপি থেকে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালেও তিনি ওই আসন থেকে এমপি হন। এরপর ২০০১ সালে একই আসনের পাশাপাশি মানিকগঞ্জ-৩ (সদর-সাটুরিয়া) আসনেও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মুন্নু। এরপর তাকে দফতরবিহীন মন্ত্রী করা হয়। হারুণার রশিদ মুন্নু ১৯৩৭ সালের ২ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম আব্দুস শুকুর খান।

বিএনপি সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা বিশিষ্ট শিল্পপতি হারুণ অর রশিদ খান মুন্নুর প্রথম নামাযে জানাযা আজ বুধবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে। মরহুমের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তার লাশ মানিকগঞ্জ থেকে গতকাল দুপুরে ঢাকার বারডেম হাসপাতালে আনা হয়েছে। মুন্নুর বড় মেয়ে আফরোজা খান রিতা কাল বুধবার সকাল আটটায় লন্ডন থেকে ঢাকা পৌঁছানোর কথা। তিনি দেশে এসে পৌঁছালেই দাফনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। 

জানা গেছে, নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ে জানাযা ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তার কফিন সেখান থেকে বেলা ১১টার দিকে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আনা হবে। সেখানে সাবেক এই এমপির দ্বিতীয় নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর লাশ আবারো হিমঘরে রাখা হবে। বুধবার দুপুরে ঢাকা থেকে মুন্নুর কফিন ইসলামপুরে মুন্নু সিরামিকসে আনা হবে। সেখানে সর্বস্তরের শ্রদ্ধা নিবেদন ও জানাজা শেষে নেয়া হবে মানিকগঞ্জ দেবেন্দ্র কলেজে। এরপর হরিরামপুরের পাটগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাযা শেষে লাশ নেয়া হবে তার প্রতিষ্ঠিত মুন্নু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে সর্বশেষ জানাযার নামাযের পর হাসপাতালের পাশেই পারিবারিক কবরস্থানে বিকেল সাড়ে চারটায় এই বর্ষীয়াণ নেতাকে দাফন করা হবে।

হারুন অর রশীদ খান মুন্নু’র মৃত্যুতে গভীর শোক ও দু:খ প্রকাশ করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। শোকবার্তায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বলেন, হারুন অর রশীদ খান মুন্নু’র মৃত্যুতে তার শোকাহত পরিবারবর্গ ও তার এলাকাবাসীর মতো আমিও গভীরভাবে ব্যথিত হয়েছি। সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের নীতি, আদর্শ এবং বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী দর্শনের একাগ্র অনুসারী মরহুম হারুন অর রশীদ খান মুন্নু তার দক্ষতা, শ্রম ও মেধা দিয়ে নিজ জেলা মানিকগঞ্জকে বিএনপি’র শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত করেছিলেন। এছাড়া বিশিষ্ট শিল্পপতি ও উদ্যোক্তা হিসেবে অক্লান্ত প্রচেষ্টায় তিনি দেশে শিল্পকারখানা স্থাপন করে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার পাশাপাশি কর্মহীন মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি একজন সৎ, আদর্শবান, কর্মনিষ্ঠ ও দক্ষ উদ্যোক্তা এবং মানবহিতৈষী সমাজসেবক হিসেবে বাংলাদেশের মানুষের নিকট অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন। মরহুম মুন্নু নিরলস প্রচেষ্টায় নিজ এলাকায় শিক্ষা ও চিকিৎসার উন্নয়নে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল নির্মানসহ নানা জনকল্যাণমূলক কাজে যে অবদান রেখেছেন সেইজন্য দেশবাসী চিরদিন তাঁকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। তার মৃত্যুতে দেশ হারালো তার একজন যোগ্য সন্তানকে, যার অভাব সহজে পূরণ হবার নয়। বিএনপি চেয়ারপার্সন শোকবার্তায় মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গ, আত্মীয়স্বজন, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

অপর এক শোকবার্তায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গ, গুণগ্রাহী ও শুভাকাঙ্খীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একইভাবে হারুন-অর-রশীদ খান মুন্নু'র মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া। শোক বার্তায় নেতৃদ্বয় মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ