ঢাকা, বুধবার 02 August 2017, ১৮ শ্রাবণ ১৪২8, ৮ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

‘আদালতের স্বাধীনতা খর্ব হলেও আমরা কি কিছু বলবো না?’

স্টাফ রিপোর্টার : প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহা বলেছেন, আপনারা প্রধান বিচারপতি ও আদালতের স্বাধীনতা খর্ব করতে করতে এমন জায়গায় নিয়ে যাচ্ছেন, আমরা কি কিছুই বলতে পারব না? আমরা কি আদালতে বসে মন্তব্য করতে পারব না? 

গতকাল মঙ্গলবার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারের করা আবেদনের শুনানিতে সরকারের এটর্নি জেনারেলকে উদ্দেশ করে প্রধান বিচারপতি এ কথা বলেন। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতির বেঞ্চে সরকারের করা আবেদনের ওপর শুনানি হয়। অপর পাঁচ বিচারপতি হলেন বিচারপতি মো.আবদুল ওয়াহহাব মিঞা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার।

প্রধান বিচারপতি বলেন, কিছু কিছু মন্ত্রী এজলাসে বসে কথা বলার বিষয়ে মন্তব্য করেন। এটা কি ফেয়ার? আপনাকে প্রশ্ন করছি। আপনারা প্রধান বিচারপতি ও আদালতের স্বাধীনতা খর্ব করতে করতে এমন জায়গায় নিয়ে যাচ্ছেন, আমরা কি কিছুই বলতে পারব না? আমরা কি আদালতে বসে মন্তব্য করতে পারব না?

জবাবে এটর্নি জেনারেল বলেন, দুই দিক থেকে বক্তব্য আসে। বক্তব্য মিডিয়া লুফে নেয়।

এর পর প্রধান বিচারপতি বলেন, আপনি কেন এ কথা বলছেন? বিচারে আমরা রাজনৈতিক মন্তব্য দেই না, বিচার বিভাগ নিয়ে বক্তব্য দেই। বিচার বিভাগে যখন যে ইস্যু চলে আসে, যেমন-আজকে ভ্রাম্যমাণ আদালত সম্পর্কে না বললে কী থাকল? মাসদার হোসেন মামলা, আমরা রাজনৈতিক কথা বলছি না।

শুনানিতে জ্যেষ্ঠ বিচারপতি আবদুল ওয়াহ্হাব মিয়া এটর্নি জেনারেলের উদ্দেশে বলেন, শৃঙ্খলাবিধির খসড়ায় গেজেট প্রকাশের বিষয়টি আমরা সুপ্রিম কোর্টের কথা অনুসারে বলেছিলাম। কিন্তু আপনারা সেখানে সরকারের কথা বলেছেন।

এরপর প্রধান বিচারপতি মাহবুবে আলমের উদ্দেশে বলেন, রাজনৈতিক কথা বলছি না। কিছু কিছু মন্ত্রী, মিস্টার এটর্নি জেনারেল, আপনারা বিচারপতিদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে চাচ্ছেন। পত্রিকায় এসেছে, একজন বলেছেন, কোর্ট প্রসিডিংসে, আদালতের কার্যক্রমে যা হয়, তা নিয়ে সংসদ ও পাবলিকলি (প্রকাশ্যে) কথা বলার সুযোগ নেই। 

প্রধান বিচারপতি বলেন, ১১৬ অনুচ্ছেদ ও ১১৬ (ক) অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা দিয়ে মাসদার হোসেন মামলার রায় হয়েছে। এখন যদি আপনার কাছ থেকে ব্যাখ্যা শুনতে হয়, তাহলে দুঃখজনক।

গত ১১ মে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালত আইন ২০০৯-এর ১৪টি ধারা ও উপধারা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় তা অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া তিন রিটকারীর সাজা অবৈধ ঘোষণা করেছে এবং জরিমানাও বাতিল করেছেন আদালত। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে সরকার। যার শুনানিতে এসব কথা এসেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ