ঢাকা, বুধবার 02 August 2017, ১৮ শ্রাবণ ১৪২8, ৮ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আরো দুই সপ্তাহ চলবে ভ্রাম্যমাণ আদালত

 

স্টাফ রিপোর্টার : নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনা অবৈধ ঘোষণার হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা আরো দু সপ্তাহ স্থগিতের মেয়াদ বাড়িয়েছেন আপিল বিভাগ। ফলে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা যাবে। 

গতকাল মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার ( এস কে) সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতির বেঞ্চ সরকারের করা সময় আবেদনের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।

আদালতে সরকার পক্ষে শুনানি করেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। রিটের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার হাসান এম এস আজিম।

গত ১১ মে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার ২০০৯ সালের আইনের ১১টি ধারা ও উপধারাকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে এই আইনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাও অবৈধ ঘোষণা করা হয়। 

ভ্রাম্যমাণ আদালতের আইনের কয়েকটি ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা পৃথক তিনটি রিটে এর আগে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাস সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

আদালতের রায়ে বলা হয়, ভ্রাম্যমাণ আদালতের ১১টি বিধান বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় আঘাত করেছে। আইনের ধারা ৫, ৬ (১), ৬ (২), ৬ (৪), ৭, ৮ (১), ৯, ১০,১১, ১৩ ও ১৫ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ধারাগুলো বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের মধ্যে (নির্বাহী, আইন ও বিচার বিভাগ) ক্ষমতার পৃথকীকরণ-সংক্রান্ত সংবিধানের দুটি মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থী। অনাকাক্সিক্ষত জটিলতা ও বিতর্ক এড়াতে উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ হওয়া বিষয়গুলো ছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের দেয়া সব আদেশ, সাজা ও দণ্ডাদেশ অতীত বিবেচনায় সমাপ্ত বলে মার্জনা করা হয়েছে।

গত ৪ জুলাই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা অবৈধ ঘোষণার হাইকোর্টের দেয়া রায় ১৮ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করেছিলেন আপিল বিভাগ। ওইদিন আরো দুই সপ্তাহ স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানো হয়। তৃতীয় দফায় গতকাল মঙ্গলবার আরো দুই সপ্তাহ স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানো হলো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ