ঢাকা, বুধবার 02 August 2017, ১৮ শ্রাবণ ১৪২8, ৮ জিলক্বদ ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খুলনার ৬৮ ইউনিয়নে নামেই ‘ই-সেবা’ ডিজিটাল কেন্দ্রের কার্যক্রমে স্থবিরতা

খুলনা অফিস : ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার (ইউডিসি) চালুর সাত বছরেও খুলনার ৬৮টি ইউনিয়নের অধিকাংশতেই নামে মাত্র চলছে ই-সেবা। অনেক ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রোফাইলে চেয়ারম্যানের ছবি ও নাম পর্যন্ত নেই। শুধু একটি ওয়েবসাইট পেজ রয়েছে, কোন কোন ইউনিয়নে ভিতরের কোন মডিউল কার্যকর নেই। কিছু ইউনিয়নের ওয়েবসাইট জীবনে একবারই আপডেট করা হয়েছে। এতে একদিকে সরকারের ঘোষিত রূপকল্প ২০২১ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের প্রচেষ্টা অনেকটাই ব্যর্থ হচ্ছে, অন্যদিকে প্রান্তিক পর্যায়ে সাধারণ মানুষ ই-সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পরিষদ ওয়েবসাইট সূত্র থেকে জানা যায়, খুলনার ৯ উপজেলার ৬৮টি ইউনিয়নে সরকারি বেনবেইসের মাধ্যমে ই-সেবা কেন্দ্র চালু করা হয় ২০১০ সালের ১১ নবেম্বর। উদ্দেশ্য ছিল প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষকে ডিজিটালাইজেশন করা ব্যপক তথ্য প্রবাহের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। এসব ইউনিয়নের ওয়েব সাইটে পাওয়া যায় এলাকার জমির পর্চা, জীবন বীমা, পল্লী বিদ্যুতের বিল পরিশোধ, সরকারি ফরম, পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল, অনলাইনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, অনলাইন জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, ভিজিএফ-ভিজিডি তালিকা, নাগরিক সনদ, নাগরিক আবেদন, কৃষি তথ্য, স্বাস্থ্য পরামর্শ। এছাড়া বেসরকারি সেবার মধ্যে রয়েছে, মোবাইল ব্যাংকিং, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, ছবি তোলা, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, ইমেইল, চাকুরির তথ্য, কম্পোজ, ব্রিটিশ কাউন্সিলের ইংরেজী শিক্ষা, ভিসা আবেদন ও ট্র্যাকিং, ভিডিওতে কনফারেন্সিং, প্রিন্টিং, স্ক্যানিং, ফটোকপি, লেমিনেটিং প্রভৃতি। অথচ ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে (ইউডিসি) সাত বছরে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কাক্সিক্ষত সেবা পায়নি জনগণ।

কয়রা, মহারাজপুর, মহেশ্বরীপুর, উত্তর বেদকাশী, দক্ষিণ বেদকাশী, আমাদি ও বাগালী মোট সাত ইউনিয়ন নিয়ে কয়রা উপজেলা সুন্দরবন সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ এ উপজেলা সাতটি ইউনিয়নের ওয়েব সাইট রয়েছে নামে। এ ইউনিয়নগুলোতে চেয়ারম্যানের প্রোফাইল পর্যন্ত নাই, সরকারি বেনবেইস থেকে তৈরি হওয়ার পরে কোন মডিউল আপডেট পর্যন্ত করা হয়নি। উপজেলা চেয়ারম্যান আ খ ম তমিজ উদ্দিনের নাম থাকলেও উপজেলার ওয়েবসাইটে নেই নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) নাম ও মোবাইল নম্বর।হরিটালি, গড়াইখালি, কপিলমুনি, লতা, দেলুটি, লস্কর, গদাইপুর, বাড়–লী, চাদখালী, সোলাদানাসহ মোট ১০টি ইউনিয়ন রয়েছে পাইকগাছা উপজেলায়। গড়াইখালিম চাঁদখালি, বাড়–লিসহ বেশিরভাগ ইউনিয়নের ওয়েবসাইটে স্থায়ী তথ্য থাকলেও নিয়মিত হালনাগাদ করা হয় না এসব ওয়েবসাইট।

পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফকরুল ইসলাম বলেন, উপজেলার ইউনিয়নগুলোতে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার রয়েছে এবং সেখানে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা হচ্ছে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

সুুন্দরবন সংলগ্ন অন্য এক উপজেলা দাকোপ নানারকম প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর প্রতিকুল পরিবেশে এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ ই-গভর্নেন্স থেকে অনেকটাই বঞ্চিত। উপজেলার দাকোপ, বাজুয়া, তিলডাঙ্গা, সুতারখালি, লাউডোব, পানখালি, বানিশান্তা, কেলাশগঞ্জ সহ মোট ৯টি ইউনিয়নের বেশিরভাগেই ই-সেবা কেন্দ্র নাই। ওয়েবসাইটগুলো নিয়মিত হালনাগাদ করা হয় না। জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, ভিজিএফ-ভিজিডি তালিকা, নাগরিক সনদ, নাগরিক আবেদন, কৃষি তথ্য, স্বাস্থ্য পরামর্শ অনলাইনে পাওয়ার কথা থাকলেও অনলাইনে এখানের তেমন কোন কাজই হয় না। দাকোপ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মারুফুল আলম বলেন, আমার উপজেলার ইউনিয়নগুলোতে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার রয়েছে এবং সেখানে সক্রিয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে নিয়মিত ওয়েবসাইটগুলোতে হালনাগাদ বিষয়ে তিনি বলেন এখানে আমাদের দুর্বলতা রয়েছে। খুব শিগগিরই ইন্টারনেট ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে আমরা সে বিষয় নজর দেব। খুলনা শহর সংলগ্ন ফুলতলা উপজেলা গঠিত ৪টি ইউনিয়ন নিয়ে। ফুলতলা, দামোদর, আটরা গিলাতলা, জামিরা এসব ইউনিয়নের ডিজিটাল সেন্টার রয়েছে। কেউ কেউ আসছে সেবা গ্রহণ করতে আসলেও তা এ অঞ্চলের মানুষের কাছে দুর্বোধ্য ও দুষ্পাপ্য। আবার এসব সেবা প্রদানের কোন হালনাগাদ চিত্র ওয়েবসাইটে দেয়া হয় না। খুলনা শহর সংলগ্ন অন্য এক উপজেলা বটিয়াঘাটা সাতটি ইউনিয়ন বটিয়াঘাটা, আমিরপুর, সুরখালি, গঙ্গারামপুর, ভান্ডারকোট, বালিয়াডাঙ্গা, জলমা। এসব ইউনিয়নের ওয়েব সাইট পর্যালোচনা ও সাধারণ জনগণের সাথে কথা বলে জানা যায়, নিয়মিত হালনাগাদ করা হয় না ওয়েবসাইট। ডিজিটাল সেন্টার থাকলেও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণেই ডিজিটাল সেন্টার সম্পর্কে বেশির ভাগ মানুষই জানে না। বটিয়াঘাটা উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফুল আলম খান বলেন ইউনিয়ন পর্যায়ে ডিজিটাল কেন্দ্র চলছে তবে জন্ম নিবন্ধনের নতুন আইনের কারণে মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। রূপসার আইচগাতি, নৈহাটি, শ্রীফলতলা, টিএসবি, ঘাটভোগ ও রূপসা ৬টি ইউনিয়নের সমন্বয় গঠিত এসব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রোফাইল, ই-সেবার তথ্য ও ডিজিটাল সেবার কার্যক্রম চলছে খুড়িয়ে নিয়মিত হালনাগাদ করা হয় না ওয়েবসাইটগুলো বেশির ভাগ ওয়েবসাইট সর্বশেষ ৩ মাস আগে হালনাগাদ করা হয়েছে।

একই সমস্যা তেরখাদার, ছাগলদাহ, বারাসাত, মধুপুর, আজগড়া ইউনিয়নে। অধিকাংশ ওয়েবসাইটে তথ্য হালনাগাদ করা হয়েছে একবারই। চেয়ারম্যান প্রোফাইল পাওয়া যায় না এখানে। দিঘলিয়ার ছয় উপজেলার অবস্থাও প্রায় একই রকম দিঘলিয়া, সেনহাটি, গাজীরহাট, বারাকপুর, আড়ংঘাটা, যোগীপোলসহ এসব ইউনিয়নে সরকারি বেনবেইস থেকে করা হালনাগাদের পর তেমন কোন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় নি। ডিজিটাল কেন্দ্রের ব্যবস্থা থাকলেও তার প্রচার নেই। তাই সুফল ও পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ। ডুমুরিয়ার বেশিরভাগ ইউনিয়নের অবস্থাও একই রকম। গুরুত্বপূর্ণ এ উপজেলায় ই-সেবা কেন্দ্র চালু আছে আছে ডিজিটাল কেন্দ্রও। তবে কার্যক্রম প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছেনি। 

খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আইসিটি মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে কোন ওয়েবসাইটে হালনাগাদ থাকছে না। কেন্দ্রীয়ভাবে সংস্কারের কাজ চলছে। অতিশিগগিরই সমাধান হবে বলে আশা করি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ