ঢাকা, সোমবার 28 August 2017, ১৩ ভাদ্র ১৪২8, ০৫ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

শামসুদ্দিন চৌধুরীর বিচারপতি হওয়ার ন্যূনতম যোগ্যতাও ছিল না

৪৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল রোববার জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও মুনাজাত শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মিডিয়ার মুখোমুখি হন -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা সম্পর্কে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরীর দেয়া বক্তব্য ‘আদালত অবমাননাকর’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল রোববার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, জনাব শামসুদ্দিন সাহেব এই ধরণের কথাই বলেন। তার যে বাচনভঙ্গি, তার যে শব্দ চয়ন তাতে আমার মনে হয় না যে বিচারপতি হওয়ার নূন্যতম যোগ্যতা তার ছিলো। তিনি (এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী) যে ভাষায় কথা বলেছেন, ভদ্রতা, সৌজন্যবোধ সব কিছুর বাইরে গিয়ে তিনি যে একটা অপরিশীলিত, অমার্জনীয় কথা-বার্তা বলেছেন- এগুলো অবশ্যই আদালত অবমাননা। আমি মনে করি যে, এগুলো আমলে নিয়ে তার বিচার হওয়া উচিৎ।

শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে স্বাধীনতা পরিষদ নামের একটি সংগঠনের শোক দিবসের এক আলোচনা সভায় আপীল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পর্যবেক্ষণ প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার লেখা কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। বিচারপতি শামসুদ্দিন বলেন, উনি মাত্র ২৫ দিন সময়ের মধ্যে ৪০০ পৃষ্ঠার কথা লিখেছেন, এটা ইমপসিবল, এটা হতে পারে না। এটা তার লেখা রায় মোটেও নয়। তার লেখা রায় পড়লে আপনারা দেখতে পাবেন, অনেক শব্দ আছে যেসব শব্দ তার লেখা আগের কোনো রায়ে নাই। অর্থাৎ এটা পরিষ্কার, এই রায় তার লেখা নয়। অন্য কেউ লিখে দিয়েছে, সম্ভবত পাকিস্তানি কোনো আইএসআই লিখে দিয়েছে।

গত বছর অবসর নেওয়ার সময় প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কোন্দলে জড়িয়ে পড়া বিচারপতি শামসুদ্দিন বলেন, ষোড়শ সংশোধনী মামলার সাথে সম্পৃক্ত না এমন অনেক কথা তিনি অভজারবেশনে বলেছেন। প্রধান বিচারপতির কাজ রাজনীতি করা না। যে প্রধান বিচারপতি রাজনীতি করে, সেটা তার অযোগ্যতা। এসব করে তিনি অনেকভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন, শপথ ভঙ্গ করেছেন। তার আর এই পদে থাকার কোনো অধিকার নাই। তাকে অবশ্যই এই পদ ছেড়ে চলে যেতে হবে। তুমি শুধু প্রধান বিচারপতির পদ ছাড়বা না, এই দেশ ছাড়তে হবে। তুমি যখন বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব স্বীকার কর না, এ দেশে থাকার কোনো অধিকার তোমার নাই।

বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে নিতে সংবিধানে আনা ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে গত ৩ জুলাই আপিল বিভাগ চূড়ান্ত রায় দেয়, ১ অগাস্ট পূর্ণাঙ্গ রায়টি প্রকাশ করা হয়। ৭৯৯ পৃষ্ঠার ওই রায়ের বেশিরভাগ অংশজুড়ে প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ রয়েছে; যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে তুমুল আলোচনা। ওই রায়ের পর্যবেক্ষণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে খাটো করা হয়েছে অভিযোগ তুলে প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের নেতারা।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, শামসুদ্দিন চৌধুরী সাহেব কোন যোগ্যতায় বিচারপতি পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন, তা আমার জানা নাই। তার বিচারপতি হওয়ার যোগ্যতার ব্যাপারটি দেশের জনগণ বিবেচেনা করবেন। আমি শুধু একটি কথা বলতে চাই, ষোড়শ সংশোধনী বাতিল রায় আপীল বিভাগের সকলের সর্বসম্মত একটি রায়। এই বিষয়ে যারা প্রশ্ন তুলেন তারা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন, বিচার বিভাগের যে কর্তৃত্ব, জুডিশিয়ারির যে আলাদা ক্ষমতা, সেই ক্ষমতা ওপরে তারা প্রশ্ন তুলেন, তারা সংবিধানকে লঙ্ঘন করেন।

জাতীয় কবি নজরুলের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে দলের নেতৃবন্দসহ আমরা কবির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে এসেছি। আমরা তার কবর জিয়ারত করেছি, দোয়া করেছি তার রুহের মাগফেরাতের জন্যে।

তিনি বলন, আমাদের কাছে জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম একটি আর্দশ, আমাদের প্রেরণা। আমাদের স্বাধীনতার যুদ্ধ, আমাদের স্বাধিকার আন্দোলন, আমাদের মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার যে সংগ্রাম সেই সংগ্রামে তিনি আমাদের সব সময় প্রেরণা যুগিয়েছেন। জাতীয় কবির যে অবদান শিল্প-সাহ্ত্যি, দেশপ্রেম, সংগ্রাম- এটা কোনো মতেই তুলনা করা সম্ভব নয়।

এ সময়ে দলের ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, সহ দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন, মহানগর দক্ষিন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশারসহ ছাত্র দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার আগে নেতৃবৃন্দকে নিয়ে কবির কবরে পুস্পমাল্য অর্পন করেন মির্জা ফখরুল।

ছাত্রদলের শ্রদ্ধা নিবেদন: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পন, ফাতেহা ও তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া পাঠ করেন ঢাবি ছাত্রদল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার সিদ্দিকীর নেতৃত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ড. মোঃ ওবায়দুর রহমান, সহ প্রশিক্ষন বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডঃ মোর্শেদ হাসান খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের আহবায়ক আক্তার হোসেন।

এ সময় অন্যান্যদের মাঝে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ সভাপতি আলমগীর হাসান সোহান, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, যুগ্ম সম্পাদক মিয়া মোঃ রাসেল, মিজানুর রহমান সোহাগ, সফিকুল ইসলাম শফিক, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আমীর আমজাদ মুন্না, সাহিত্য ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভুঁইয়া, ক্রীড়া সম্পাদক সৈয়দ মাহমুদ, বৃত্তি ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবন, সহ সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক পার্থ দেব মন্ডল, সহ তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মামুন খান, সহ গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ফজলুর রহমান খোকন, এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহ সভাপতি বিশ্বজিৎ ভদ্র, সাজিদ হাসান বাবু, যুগ্ম সম্পাদক এম এম মহিন উদ্দিন রাজু, ইকবাল হোসেন শ্যামল, জোবায়ের আল মাহামুদ রিজভী, সাইফ মাহমুদ জুয়েল, আরিফুল হক আরিফ, সহ সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক সোহেল, দিপু ভূইয়াসহ হলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ