ঢাকা, সোমবার 28 August 2017, ১৩ ভাদ্র ১৪২8, ০৫ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তের ৪৮ রুটে কুরবানির চামড়া পাচারের আশঙ্কা

খুলনা অফিস : দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সীমান্তের ৪৮ রুটে কুরবানির চামড়া পাচারের আশঙ্কা রয়েছে।  সীমান্তের ৬ জেলার ৪৮টি রুটের বেশি দিয়ে ৬৪জন পাচারকারী চামড়া পাচার কজে নিয়োজিত রয়েছে বলে জানা গেছে।  চামড়া পাচার প্রতিরোধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। পাচারকারী এর বেশিও হতে পারে। স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, সীমান্তের সাতক্ষীরার ১৬টি রুট দিয়ে ২২ জন, যশোরের ১৭টি রুট দিয়ে ১৫ জন, কুষ্টিয়ার ৭টি রুট দিয়ে ১০ জন, ঝিনেদার ৪টি রুট দিয়ে ৭ জন, মেহেরপুর ৪টি রুট দিয়ে ১০ জন এবং চুয়াডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে চামড়া পাচার হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। সূত্র জানান, ট্যানারি মালিকগণ চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করে দেয়। যা আন্তর্জাতিক বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক কম ফলে উৎস মূল্যে বিক্রেতাগণ এবং খুচরা ক্রয়কারীগণ ন্যায্য মূল্য হতে বঞ্চিত হন। পাশাপাশি নগর ও জেলা পর্যায় কুরবানির সময় কিছু মওসুমি সুবিধাভোগী ও মধ্যসত্বভোগীরদের আবির্ভাব ঘটে। 

যারা মূলত: স্ব স্ব এলাকায় প্রভাবশালী হয়ে থাকে। উৎসমূলের বিক্রেতাদের চামড়া তাদের কাছে ইচ্ছামতো মূল্যে বিক্রি করতে বাধ্য করে থাকে। প্রতিবেশী দেশ ভারতে বিশাল চামড়া ও চামড়াজাত শিল্পের কাচামাল সংগ্রহ করে মুসলিম প্রধান দেশ সমূহের বাজার হতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে বিকল্প পথে কুরবানির সময় এদেশের ব্যবসায়ী কর্তৃক মূল্যের চেয়ে ভারতে তাদের চামড়ার ক্রয়মূল্য বেশি হারে নির্ধারণ করে থাকে। ফলে দেশের উৎসমূলে বিক্রেতাগণ ও খুচরা পর্যায়ে ব্যবসায়ীগণ দেশের সিন্ডিকেট ও পেশী শক্তি মুনফা অর্জন করতে ইচ্ছুক হয়ে পড়ে। খুলনা অঞ্চলের বাজারের ব্যবসায়ীরা তাদের চাহিদামত চামড়া সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয় ও চামড়া পাচার হয়ে যায়। সূত্র জানায়, সীমান্ত এলাকা দিয়ে চটের বস্তার মাধ্যমে রাতের আঁধারে স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে চোরাকারবারিরা কুরবানির চামড়া ভারতে পাচার করে থাকে। প্রত্যেক চটের বস্তায় আকার ভেদে ১৫-২০টি চামড়া থাকে। চোরাকারবারিরা বিভিন্ন এলাকা হতে চামড়া সংগ্রহ করে ছোট ছোট ব্যাগে ভরে বাস, নছিমন, মোটর সাইকেল, বাইসাইকেল ও ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহনের মাধ্যমে নিয়ে সীমান্ত এলাকায় নিয়ে গোপনীয় স্থানে জড়ো করে। 

রাতের আঁধারে মাথায় করে ও বাইসাইকেলযোগে ভারতীয় চোরাকারবারিদের কাছে পৌঁছে দেয়। খুলনার কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ী ও খুলনা কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আমান উল্লাহ জানান, সরকার চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে। নির্ধারিত মূল্যে চামড়া কেনা হবে। এই মুহূর্তে ভারতে চামড়া পাচারের সম্ভবনা নেই। তবে ভারতে দাম বাড়লে পাচার হতে পারে। খুলনা রেঞ্জ অতিরিক্ত ডি আই জি একরামুল হাবিব বলেন, চামড়া পাচার প্রতিরোধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা পুলিশ তৎপর রয়েছে। সীমান্তের জেলাসমূহ থেকে কুরবানির দিন থেকে এক সপ্তাহ পর্যন্ত কোনো ট্রাক চলবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ