ঢাকা, সোমবার 28 August 2017, ১৩ ভাদ্র ১৪২8, ০৫ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কুড়িগ্রামের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া সম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় যাতায়াতে বেহাল দশা

মোস্তাফিজুর রহমান কুড়িগ্রাম থেকে : ভারত থেকে নেমে আসা প্রবল ¯্রােতের পানিতে কুড়িগ্রামের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া সাম্প্রতিক ভয়াবহ দিতীয় দফা বন্যায় যোগাযোগ ব্যবস্থার বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে। দেবে ধসেপড়েছে সদর উপজেলার টগরাইহাট এলাকার রেলসেতু। ভেঙ্গে গেছে কুড়িগ্রাম-ভুরুঙ্গামারী মহাসড়ক, কুড়িগ্রাম-চিলমারী ভায়া বজরা-কাশিম বাজার সড়কের ব্রিজ, কুড়িগ্রাম-যাত্রাপুর ভায়া ঘোগাদহ সড়ক। ভেসে গেছে ১১ হাজার ৮৫৬ পুকুরের ২ হাজার, ৭৬২ মেঃটন মাছ, ঘরবাড়ী, গবাদি পশু হাঁস মুরগি ও বিভিন্ন মালামালসহ আসবাবপত্র। বন্যায় কাঁচা পাকা সড়ক,ব্রিজ, কালভার্ট ও বাঁধের রাস্তা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্ভোগ বেড়েছে বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষের। অপর দিকে ১২ আগস্ট থেকে এ রিপোর্ট লেখা পয্যন্ত কুড়িগ্রামের সাথে রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। আসন্ন ঈদুল আজহার আগে ট্রেন চলাচলের কোন সম্ভাবনা নেই। ফলে চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছে সজনদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে ঘরে ফেরার অপেক্ষায় মানুষজন। দেশের রাজধানীসহ সারাদেশের সাথে ট্রেনে মালামাল আনা-নেয়া বন্ধ রয়েছে কুড়িগ্রামের ব্যবসায়ীদের। এ অবস্থায় দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত রেলসেতু রাস্তা-ঘাট মেরামত ও ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ করে দুর্ভোগ কমানোর দাবি কুড়িগ্রামবাসীর। 

সম্প্রতিক টানা ৯ দিনের ভয়াবহ বন্যায় কুড়িগ্রাম জেলার ৯ উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও তিস্তা, গংগাধর, দুধকুমর, ঝিন্জিরামসহ ১৬টি নদ-নদীর অববাহিকার প্রায় ৫ লক্ষাধিক মানুষ বন্যা কবলিত হয়ে পড়ে। বন্যার পানিতে তলিয়ে থাকে গ্রামীণ জনপদের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক অবকাঠামোসহ রাস্তা-ঘাট,ব্রিজ-কালভার্ট। এতে করে এলাকার বিভিন্ন স্থাপনার ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। 

 জেলা প্রশাসন সূত্র মতে, জেলায় ১৪৫ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক, পাকা সড়ক ২৫ কি.মি ও ১.৫ কিলোমিটার তীর রক্ষা বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। ২৩টিব্রিজ কালভার্ট ভেঙ্গে এসব এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেলে এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে কোন রকমে যাতায়াত করছে এসব ভাঙ্গাব্রিজ ও কালভার্ট দিয়ে। এর মধ্যে বেশির ভাগই স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সড়ক ওব্রিজ-কালভার্ট।

বন্যা পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও ভাঙ্গাব্রিজ-কালভার্টে যাতায়াতের ঝুঁকি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বান্যাদুর্গত এলাকার মানুষের। যানবাহনে চলাচল করতে না পারলেও পায়ে হেঁটে এবং নিজ উদ্যোগে বাশের সাকো নির্মাণ করে কোন রকম হাট বাজারসহ প্রয়োজনীয় কাজ সম্পাদন করছে জেলার বিভিন্ন স্থানের এলাকাবাসী। তবে চরম বেকায়দায় রয়েছে ওইসব এলাকার অসুস্থ মানুষ।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রাম-ভুরুঙ্গামারী মহাসড়কের চারটি স্থানে ১’শ মিটার, ১৬টি স্থানে ৭৮০ মিটার, রাস্তা বন্যায় ভেঙ্গে যায়। এতে ওই এলাকার মানুষের যাতায়াতে মারাত্মক ভোগান্তির সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রুহুল আমিন জানান, বন্যায় যেসব উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের কাঁচা সড়ক ওব্রিজ কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সে সবের তালিকা করা হচ্ছে। তালিকা করে ক্ষতিগ্রস্থব্রিজ-কালভার্ট ও সড়ক মেরামতের কাজ করা হবে। 

এদিকে পানি কমার সাথে সাথে দেখা দিয়েছে নদী ভাঙ্গন, ডায়রিয়া, চর্মরোগ, জন্ডিস, বিভিন্ন রকমের পেটের পিড়াসহ  হাতে পাঁয়ে ঘাঁ। ফলে ওইসব এলাকার মানুষের যাতায়াতসহ সব বিষয়ে দুর্ভোগ বেড়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ