ঢাকা, রোববার 15 October 2017, ৩০ আশ্বিন ১৪২8, ২৪ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সুপ্রিম কোর্টের ৫ বিচারপতি প্রধান বিচারপতি সিনহার সাথে বেঞ্চে বসতে রাজি না হওয়ায় তিনি ছুটি নিয়েছেন

স্টাফ রিপোর্টার : প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহার বিদেশ যাওয়ার আগে গণমাধ্যমে দেয়া বিবৃতি বিভ্রান্তিমূলক বলে জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্টার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলাম গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে জানান, ছুটি ভোগরত প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বক্তব্য বিভ্রান্তিমূলক। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্য নি¤œরূপ-

গত ২০ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা ব্যতীত আপিল বিভাগের ৫ জন বিচারপতিকে বঙ্গভবনের আমন্ত্রণ জানান। বিচারপতি মো. ইমান আলী দেশের বাইরে থাকায় আমন্ত্রণে উপস্থিত থাকতে পারেন নাই। অপর চারজন অর্থাৎ বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। দীর্ঘ আলোচনার এক পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচার, আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি, নৈতিক স্খলনসহ আরো গুরুতর সুনির্দিষ্ট অভিযোগের তথ্য হস্তান্তর করেন। এরমধ্যে ১ অক্টোবর বিচারপতি মো. ইমান আলী ঢাকা ফিরে আসেন এবং অপর চার বিচারপতিকে নিয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকে ১১টি অভিযোগ নিয়ে বিশদ পর্যালোচনার পর তারা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন, এসব গুরুতর অভিযোগ প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে অবহিত করা হবে। তিনি যদি এসব অভিযোগের সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হন তাহলে তার সঙ্গে বিচারকাজ করা সম্ভব হবে না। এই সিদ্ধান্তের পর ওইদিন বেলা সাড়ে ১১টায় প্রধান বিচারপতির হেয়ার রোডের বাসভবনে পাঁচ বিচারপতি সাক্ষাৎ করে অভিযোগগুলো নিয়ে বিশদভাবে আলোচনা করেন। কিন্তু দীর্ঘ আলোচনার পর তার কাছ থেকে কোনো গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা বা জবাব না পেয়ে আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতি সুস্পষ্ট জানিয়ে দেন, এমতাবস্থায় এই অভিযোগগুলোর সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত তার সঙ্গে একই বেঞ্চে বসে তাদের পক্ষে বিচারকাজ পরিচালনা করা সম্ভব হবে না। এ পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা সুস্পষ্টভাবে বলেন, সেক্ষেত্রে তিনি পদত্যাগ করবেন। তবে এ ব্যাপারে পরদিন ২ অক্টোবর তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন। এরপর ২ অক্টোবর পাঁচ বিচারপতিকে কিছু না জানিয়ে প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতির কাছে এক মাসের ছুটির দরখাস্ত দিলে রাষ্ট্রপতি তা অনুমোদন করেন। তাৎক্ষণিকভাবে রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান বিচারপতির অনুপস্থিতিতে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞাকে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির অনুরূপ কার্যভার পালনের দায়িত্ব প্রদান করেন। 

উল্লেখ প্রধান বিচারপতির পদটি একটি প্রতিষ্ঠান। সেই পদের ও বিচার বিভাগের মর্যাদা সমুন্নত রাখার স্বার্থে ইতোপূর্বে সুপ্রিম কোর্টের তরফ থেকে কোন প্রকার বক্তব্য বা বিবৃতি প্রদান করা হয়নি। কিন্তু উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে নির্দেশক্রমে এই বিবৃতি প্রদান করা হলো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ