ঢাকা, রোববার 15 October 2017, ৩০ আশ্বিন ১৪২8, ২৪ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নির্বাচন সুষ্ঠু করতে আলোচনা করে একটা পথ বের করবো ---প্রধানমন্ত্রী

 

স্টাফ রিপোর্টার: জিয়ার আমল থেকে বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপ শুরু হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে কাজ করেছি। মানুষ যেন নিরাপদে ভোট দিতে পারে আমরা সেটা নিশ্চিত করেছি। সুষ্ঠু নির্বাচন যাতে হয় আলোচনা করে তার একটা পথ বের করবো।

গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় গণভবনে আয়োজিত কার্যনির্বাহী কমিটির মিটিং এ তিনি এসব কথা বলেন।

 শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচন কমিশনের সাথে আলোচনায় আওয়ামী লীগ যাবে। আমরা চাই ভোটের অধিকার সুরক্ষিত হোক। নির্বাচন যেন সুষ্ঠুভাবে হয় সে লক্ষ্যেই আমরা পথ বের করবো। যতক্ষণ শ্বাস আছে দেশের জন্য কাজ করে যাবো, গণতন্ত্রের কথা বলে যাবো ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আগামীতে নির্বাচন হবে, সুষ্ঠু নির্বাচন যাতে হয় আলোচনা করে তার একটা পথ বের করবো। আমরা চাই মানুষ মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করবে। যার যার প্রতিনিধি সে সে বেছে নেবে।

বিএনপির শাসনামলের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দেখলাম চিফ জাস্টিসের বয়স ৬৫ থেকে ৬৭ বাড়িয়ে দেওয়া হলো। যিনি কেবলমাত্র অবসরপ্রাপ্ত হয়েছেন, তিনি উপদেষ্টা হবেন তাই আন্তর্জাতিক সম্পাদক কে এম হাসানকে উপদেষ্টা বানালো এবং চক্রান্ত করলো যাতে তিনি প্রধান উপদেষ্টা হয়ে ভোট চুরির সুযোগ করে দেয়। আমরা মহাজোট করি। ভুয়া ভোটার আইডি তৈরি করলো, আমরা আন্দোলন করি। এসব কারণে আবার ইমারজেন্সি ঘোষণা করা হয়। এরপর দ্রুত ইলেকশন হবে ভেবেছিলাম, কিন্তু তখন ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার চেষ্টা করা হয়।

আমাকে তখন দেশে ফিরতে বাধা দেওয়া হয়েছিল উল্লেখ করে শেখ হাসিনা আরও বলেন, আমি পরোয়া করি না। আমি তো জানি মারবে। যতক্ষণ শ্বাস আছে দেশের জন্য কাজ করে যাব, গণতন্ত্রের কথা বলে যাবো।

 শেখ হাসিনা বলেন, আমাকে তখন দেশে ফিরতে বাধা দেয়া হয়েছিল। আমার মেয়ে তখন প্র্যাগনেন্ট ছিল। আমার বিমান দেশে নামতে দেয়া হবে না। গুলী করে আমাকে হত্যা করা হবে। আমি পরোয়া করিনি। কিন্তু সাহস করে সে দিন দেশে ফিরেছিলাম। আর দেশে ফিরে ছিলাম বলেই গণতন্ত্র ফিরে ছিল।

তিনি আরও বলেন, ’৯৬-এর আগে দেশে কোন গণতন্ত্র ছিল না। ছিল না দেশে কোন ধরনের উন্নয়ন। দেশে বার বার স্বৈরাচার ক্ষমতায় এসেছে। ১৫ ফেব্রুয়ারি একটি ভোটারবিহীন নির্বাচন করে বিএনপি। যদিও তিনি ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। এর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে দেখিয়ে দিয়েছে দেশে কোন রাজনৈতিক দল চাইলে উন্নয়ন করতে পারে।

প্রধান বিচারপতিদের নিয়ে আতীতেও বার বার খেলা হয়েছে। আর এ খেলা প্রথম শুরু হয়েছে জিয়াউর রহমানের আমল থেকে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালে যত নিয়োগ দিয়েছিলাম একইদিনে পত্রপাঠ বিদায় করা হয়। প্রশাসনে একই অবস্থা। কোনও নিয়ন্ত্রণ বা ডিসিপ্লিন কিছু ছিল না। জাতীয় সংসদে ভোট কারচুপির মধ্য দিয়ে নিজের মনমতো লোক বসিয়ে দেওয়া হয়। স্বাধীনতার বিরোধিতাকারীদের মন্ত্রী করে সংসদে বসানো হয়। কর্নেল রশিদ-হুদাকেও বসানো হয়। আমাদের লাখো শহীদের অর্জনের পতাকা তুলে দেওয়া হয় তাদের হাতে।

তিনি বলেন, এর আগে দেশে মানুষের  ভোটাধিকার ছিল না। নির্বাচনের নামে দেশে কারচুপি চলছিল। আমরাই মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে স্বচ্ছ ব্যালট বক্সা আনা হয়। এর পরেও ২০০৮ সাথে আবারও দেশে সামরিক শাসন ক্ষমতায় আসে। তারা আমাদের দেশে প্রবেশে বাধা দেয়। কিন্তু আমি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশে আসি। তিনি বলেন, ’৭৫ সালের পরেও ঝুঁকি নিয়ে দেশে এসেছি। মানুষের অধিকার ফেরাতেই সে দিন দেশে এসেছি। মানুষের অধিকার আদায়ে আমি ভয় পাই না।

জনগণ সরকারের সেবা পাবে সেটাই করে যাচ্ছি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ ভোটের অধিকার যাতে প্রয়োগ করতে পারে সেই চেষ্টা করি। ২০০১ এর নির্বাচনের কথা যদি স্মরণ করেন। ভোটের দিন আমি যেখানে ইলেকশন করেছিলাম সেখনে নির্বাচিত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে গাড়িতে করে নিয়ে দেখানো হয়েছিল পরিণতি কেমন হবে।

২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপিকে আনতে আমি সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ফোন করেছি, নিজে যেচে ফোন করি। ধরার পরে যে ঝাড়িটাড়ি মারলো, তা বলতে চাই না। তারপরও আমরা চেষ্টা করেছি। আমি বলেছিলাম সর্বদলীয় সরকার করবো, আপনি (খালেদা জিয়া) যে মন্ত্রণালয় চান তা দিতে রাজি আছি। কিন্তু নির্বাচনে আসলো না। নির্বাচনে না এসে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা শুরু করলো। তবে জনগণ তাদের রুখে দিল আর এজন্য নির্বাচনটা হলো, আমরা আবার ক্ষমতায় এলাম।

সভায় আওয়ামী লীগের সভাপতি বলেন, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। সারা বিশ্বে বাংলাদেশ একটা সম্মানজনক অবস্থানে আছে। আমরা জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছি। আমাদের প্রস্তাবে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ও ছবিসহ ভোটার তালিকা এসেছে। ইলেকট্রনিক ভোটিং সিস্টেম পৃথিবীর সভ্য অনেক দেশে রয়েছে। সেখানে একজন একটা ভোটই দিতে পারবে। কাজেই সেই ব্যবস্থাও যাতে হয় সেই প্রস্তাবও আমরা দিয়েছিলাম। কিছু কিছু স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এই পদ্ধতিতে পরীক্ষামূলকভাবে ভোট হয়েছে। সেই সিস্টেমও যদি আসে আমরা তা চাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ ভোটের অধিকার প্রয়োগ করবে, স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও নিঃশঙ্কভাবে। এই ব্যবস্থা যদি করতে পারি তাহলে স্বাভাবিকভাবে সকলের একটা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকবে। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনিবাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের যৌথ সভার বিষয়ে দলীয় প্রধান বলেন, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে কি কি প্রস্তাব দেওয়া হবে তা নিয়েই সবার সঙ্গে আলোচনা করবো। গণতন্ত্রের ভিত্তি কিভাবে মজবুত করা যায়, সেজন্যই সবাইকে ডাকা। নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু হয় সেই প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে বিচার বিভাগের চলমান ঘটনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, প্রধান বিচারপতিদের নিয়ে এ ধরনের খেলা অতীতে বারবার হয়েছে। এমনও হয়েছে প্রধান বিচারপতির এজলাসে তাকে পত্রপাঠ বিদায় জানানো হয়েছে, অথচ তিনি জানেনই না। হুটহাট করে বিচারপতিদের বিদায় জানানো হয়। সাবেক রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দীন আহমেদও প্রধান বিচারপতিকে বঙ্গভবনে চা খাওয়ার দাওয়াতে ডেকে পদত্যাগ করতে বলেছেন।

জনগণ সরকারের সেবা পাবে সেটাই করে যাচ্ছি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ ভোটের অধিকার যাতে প্রয়াগ করতে পারে সেই চেষ্টা করি। ২০০১ এর নির্বাচনের কথ যদি স্মরণ করেন। ভোটের দিন আমি যেখানে ইলেকশন করেছিলাম সেখনে নির্বাচিত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে গাড়িতে করে নিয়ে নিয়ে দেখানো হয়েছিল পরিণতি কেমন হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ