ঢাকা, রোববার 29 October 2017, ১৪ কার্তিক ১৪২8, ৮ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে যেভাবে হত্যা-নির্যাতন করা হচ্ছে তা সভ্যতার ইতিহাসে বিরল

স্টাফ রিপোর্টার : বেসরকারি নারীবাদী সংগঠন বাংলাদেশ সেন্টার ফর উইমেন সলিডারিটি (বিসিডব্লিউএস) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেছেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে যেভাবে হত্যা-নির্যাতন করা হচ্ছে তা সভ্যতার ইতিহাসে বিরল। এই নির্যাতনের বিরুদ্ধে সকলকে সোচ্চার হতে হবে। তারা মিয়ানমার সরকারের উদ্দেশে বলেন, অবিলম্বে রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধ করে সম্মানের সাথে তাদের ফিরিয়ে নিন।
গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর বেইলি রোডস্থ বাংলাদেশ মহিলা সমিতির আইভি রহমান হলে “নির্মম গণহত্যার শিকার রোহিঙ্গাদের প্রতি করণীয় এবং পবিত্র হজ্বব্রত পালনের স্মৃতি অভিজ্ঞতা” শীর্ষক মুক্ত আলোচনায় তারা এ কথা বলেন। বরেণ্য সঙ্গীত শিল্পী ফাতেমা-তুজ- জোহরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন  বিটিভির সাবেক সহাপরিচালক ফেরদৌস আরা বেগম, বার্ড এর সাবেক উপ-পরিচালক নুরুন্নাহার কবীর, বাংলাদেশ উইমেন ফোরামের ভাইস প্রেসিডেন্ট রোজী ফেরদৌস, সুপ্রীমকোর্টের আইনজীবী মরিয়াম মানসুর, সাংবাদিক মাহমুদা চৌধুরী প্রমুখ।
ফেরদৌস আরা বেগম বলেন, রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন চালিয়ে যেভাবে তাদের হত্যা করা হয়েছে তা মানব সভ্যতার ইতিহাসে বিরল। মিয়ানমার সরকারের এইরূপ আচরণের তীব্র নিন্দা জানাই। সারা বিশ্বের সকল মানুষ এই নির্যাতনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে রোহিঙ্গাদের এই মানবিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
নুরুন্নাহার কবীর বলেন, নিজের মাতৃভূমি ছেড়ে যাওয়া কতটা কষ্টের তা আমরা ’৭১ সাল থেকেই জানি। আরাকানে রোহিঙ্গাদের উপর হত্যা, ধর্ষণ সহ যে নৃশংসতা চালানো হচ্ছে তা কোন দেশে যুদ্ধ ঘোষণা করা হলেও সেখানেও এত নৃশংসতা থাকে না। তিনি রোহিঙ্গাদের প্রতি মানবিক পদক্ষেপ গ্রহণ করায় প্রধানমন্ত্রীক ধন্যবাদ জানান। বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের বসবাসের স্থানগুলো যেন নিরাপদ হয় এবং এখানে কোন নারী ও শিশুরা যেন বঞ্চনার শিকার না হয় তাদের সম্পদ, অর্থ যেন কেউ হাতিয়ে নিতে না পারে সে দিকে সরকারকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
রোজী ফেরদৌস বলেন, রোহিঙ্গা নারী, শিশু সহ সকলের মানবিক বিপর্যয় আমাদের অন্তরে প্রতিনিয়ত রক্তক্ষরণ হচ্ছে। এ জন্য মিয়ানমার সরকারের প্রতি নানা ভাবে চাপ প্রদান সহ প্রয়োজনে তাদের শাস্তি প্রদানের জন্য বিশ্বের সকল দেশকে এগিয়ে আসতে হবে । শত শত নারী গর্ভবতী। এত নারী কেন গর্ভবতী তা নিয়ে আমাদের মনে প্রশ্ন ছিল। জানা গেল ধর্ষণের ভয়ে তারা গর্ভধারণ করে। প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ আসছে সে জন্য আমাদের সাধ্য অনুযায়ী তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।
সুপ্রীমকোর্টের আইনজীবী মরিয়াম মানসুর বলেন, আমি এখন খবর পড়তে পারি না, খবর দেখতে পারি না আমার কষ্ট হয়। সকল ধর্মে মানুষ হত্যা নিষিদ্ধ এবং মহাপাপ তাহলে কেন এই হত্যাকান্ড। কেনই বা শিশুদের পর্যন্ত হত্যা করা হচ্ছে, তাদের তো কোন দোষ নেই। এই নির্যাতনের বিরুদ্ধে আমাদের সোচ্চার হতে হবে। রোহিঙ্গাদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।
মাহমুদা চৌধুরী বলেন, আমাদের পররাষ্ট্র নীতিকে আরো মজবুত করতে হবে এবং রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে জাতিসংঘের মাধ্যামে মিয়ানমারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে।
আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে সঙ্গীতশিল্পী ফাতেম-তুজ-জোহরা বলেন, ১৯৭১ সালে আমরা ছিলাম শরনার্থী, আমাদেরটা ছিল মুক্তিযুদ্ধ আর রোহিঙ্গাদের এটা হচ্ছে মৃত্যুযুদ্ধ। প্রতিদিন নারী-শিশু সহ রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের সামরিক-বেসামরিক বাহিনীর হাতে মৃত্যুবরণ করছে। এই অবস্থা থেকে তাদের রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব কি করবে তা জানি না, তবে আমাদের নির্লিপ্ত থাকার কোন সুযোগ নেই, আমাদের এই দুটি হাত নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। রোহিঙ্গাদের প্রতি সাহসিকতাপূর্ণ ভূমিকার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে তিনি ধন্যবাদ জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ