ঢাকা, রোববার 29 October 2017, ১৪ কার্তিক ১৪২8, ৮ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রাজনীতি সচেতন কবি বে-নজীর আহমেদের ১১৩তম জন্মবার্ষিকী আজ

স্টাফ রিপোর্টার : রাজনীতি সচেতন কবি ও মুসলিম সমাজের ঝড়োপাখীখ্যাত বে-নজীর আহমেদের ১১৩তম জন্মবার্ষিকী আজ রোববার। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অন্যতম অনুসারী এই কবি ও সাংবাদিক ১৯০৩ সালের ২৯ অক্টোবর নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার ধানুয়া গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলাধীন ইলমদী গ্রামে। তার চরিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল সাহস ও উদারতা।
বাংলাপিডিয়া ও উইকিপিডিয়ায় বর্ণিত হয়েছে, বে-নজীর আহমেদ ছাত্রজীবনে (১৯২০-১৯২২) খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সন্ত্রাসবাদী আন্দোলনে যুক্ত হওয়ায় ১৯২১ সালে তিনি  গ্রেফতার হন এবং বৃটিশ সরকারের রোষানলে পড়ে দীর্ঘদিন কারাভোগ করেন। পরবর্তীকালে মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে তিনি মুসলিম লীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পাকিস্তান আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৬২ সালের ২৮ এপ্রিল  মৌলিক গণতান্ত্রিক প্রথায় ঢাকা-৬ আসন  থেকে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
বে-নজীরের সাংবাদিক জীবন শুরু হয় মাসিক সাহিত্যপত্র নওরোজ (১৯২৭) সম্পাদনা ও প্রকাশনার মাধ্যমে। পরে তিনি দৈনিক আজাদ ও দৈনিক নবযুগ (১৯৪১) পত্রিকায়ও সাংবাদিকতা করেন।
সাহিত্যচর্চার ক্ষেত্রে বে-নজীর ছিলেন কাজী নজরুল ইসলামের রীতির অনুসারী। তবে তার রচনার মূলসুর ছিল মুসলিম জাতীয়তাবাদ। তিনি অনেক কবিতা লিখলেও তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ মাত্র দুটি- ‘বন্দীর বাঁশী (১৯৩২)’ ও ‘বৈশাখী (১৯৪৫)’। উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ ‘ইসলাম ও কম্যুনিজম (১৯৪৫)’। তার অন্যান্য কয়েকটি গ্রন্থ হলো- ‘আশ্চর্য আর আশ্চর্য’, ‘কমলমণি’, ‘ কোরানের গল্প’ ইত্যাদি। এছাড়া তিনি বেশকিছু গান ও গজল রচনা করেছেন। কবিতায় বিশেষ অবদানের জন্য  বে-নজীর ১৯৬৪ সালে ‘বাংলা একাডেমি পুরস্কার’ লাভ করেন এবং ১৯৭৯ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন।
সাহিত্য ও রাজনীতি -দুটোর প্রতি সমান অনুরাগ -আসক্তি ছিল কিশোর  বে-নজীরের। ছাত্রাবস্থায় থাকতে তার কবিতা পত্র- পত্রিকায় প্রকাশিত হতে থাকে। তবে  যৌবনে তিনি কবিরুপে আত্মপ্রকাশ করেন ১৯৩২ সালে ‘বন্দীর বাশী’ দিয়ে। বাংলার কাব্যাকাশে নবীন কবিকে অভিনন্দন জানান কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও প্রথিতযশা সাংবাদিক আবুল কালাম শামসুদ্দিন।  বে-নজীরের ‘বন্দীর বাশী’তে নজরুলের বিদ্রোহী ও বিপ্লবী চেতনার প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।
কবির বৈশাখী’ কাব্যগ্রন্থর প্রথম কবিতা ‘মৃত্যু  কোথা বল’ এর প্রকাশকাল আশ্বিন ১৩৪৩ দিয়ে তার কবি জীবনের দ্বিতীয় পর্যায়ের শুরু। এই সময়ে বাংলাদেশের দুটি ঘটনা বিশ্বযুদ্ধ এবং মনন্তর তার কবিতায় প্রভাব বিস্তার করেছে। ধংসকারী বিশ্বযুদ্ধের চিত্র এসেছে ‘আমার সাগরে  জেগেছে উর্মি’ কিংবা ‘মৃত্যুর নিশীথ  শেষে’ কবিতায়। কবি দারুনভাবে আহত হয়েছেন মনন্তরের (চল্লিশ দশকের দুর্ভিক্ষ) আভিঘাতে। তার এই আহতচিত্তের প্রকাশ ‘কংকাল’ কবিতায়।
১৯৮৩ সালের ১২  ফেব্রুয়ারি শনিবার রাত নয়টায় তিনি ইন্তিকাল করেন। পরদিন রাজধানীর শাহজাহানপুরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ