ঢাকা, রোববার 29 October 2017, ১৪ কার্তিক ১৪২8, ৮ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মুসলিম জাতিসত্তার কবি তালিম হোসেনের ৯৯তম জন্মবার্ষিকী আজ

স্টাফ রিপোর্টার : মুসলিম জাতিসত্তার কবি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব তালিম  হোসেনের ৯৯তম জন্মবার্ষিকী আজ রোববার। দেশের অন্যতম খ্যাতনামা এই কবি অনুবাদক ও সাহিত্য সম্পাদক হিসেবেও সমধিক পরিচিত ছিলেন। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অনুসারী এ সাহিত্যপুরুষ ১৯১৮ সালের ২৯ অক্টোবর বৃটিশ-ভারতের নওগাঁ মহাকুমার বদলগাছিতে জন্মগ্রহণ করেন। মানবতাবাদী এবং ইসলামের সাম্য, শান্তি ও কল্যাণের আদর্শে বিশ্বাসী এ কবি ইসলামি আদর্শ, ঐতিহ্য ও মূল্যবোধের রূপকার। ছিলেন। বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ‘বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৫)’ এবং ‘একুশে পদক (১৯৮২)’ সহ বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হন।
মুক্ত বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়ায় উল্লেখ করা হয়েছে, পারিবারিক জীবনে তালিম  হোসেন ১৯৪৮ সালে মাফরুহা  চৌধুরীকে বিয়ে করেন। মাফরুহা চৌধুরী ছিলেন দৈনিক বাংলা পত্রিকার মহিলা বিষয়ক পাতার সম্পাদিকা। তাদের তিন মেয়ে এবং দুই ছেলে। তিন মেয়ে শবনম মুশতারী, পারভীন মুশতারী ও ইয়াসমিন মুশতারী নজরুল সঙ্গীত শিল্পী। বড় মেয়ে শবনম মুশতারী ১৯৯৭ সালে সঙ্গীতে অবদানের জন্য একুশে পদক লাভ করেন। এক ছেলে শাহরিয়ার চৌধুরী কম্পিউটার বিজ্ঞানি ও অন্যজন হাসনাইন চৌধুরী বাংলাদেশ বিমানের ক্যাপ্টেন।
উনিশ শতকের মাঝামাঝিতে কবি তালিম হোসেন তৎকালীন মাহে নও পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া তিনি ছিলেন একজন দক্ষ সংগঠক। তার প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠে ‘নজরুল একাডেমি’।
তালিম হোসেন তার রচনায় ইসলামি আদর্শ, ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ ফুটিয়ে তুলেছেন। তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ দিশারী ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত হয়। তার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হল- ‘শাহীন (১৯৬২) ও ‘নূহের জাহাজ (১৯৮৩)। এছাড়া তিনি অনুবাদ করেছেন ‘স্বর্গচরণ (১৯৫৯)’ ও ‘দানবীর এন্ড্রুর কার্নেগী (১৯৬২)’ উপন্যাস।
১৯৯৯ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি কবি তালিম হোসেন একাশি বছর বয়সে ঢাকায় ইন্তিকাল করেন। তার সৃষ্টি আজো আমাদের মাঝে তার সরব উপস্থিতি নিশ্চিত করে। কিন্তু গুণী এ মনীষীর জীবন সম্পর্কে বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই তেমন কিছু জানে না। এমনকি তার জন্ম ও মৃত্যুদিবস অনেকটা নীরবেই কেটে যায়। আগামী বছর তার জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিশেষ কোন উদ্যোগ-প্রস্তুতির কোন খবর পাওয়া যায় না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ