ঢাকা, রোববার 29 October 2017, ১৪ কার্তিক ১৪২8, ৮ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নিউমোনিয়া ও জ্বরের প্রভাবে খুমেক ও শিশু হাসপাতালে বাড়ছে শিশু রোগী

খুলনা অফিস : আবহাওয়ার পরিববর্তনে খুলনার হাসপাতালগুলোতে শিশু রোগীর চাপ বাড়ছে। সব থেকে বেশি হচ্ছে জ্বর ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা। খুমেক হাসপাতালেই গত ১০ দিনে ভর্তি হয়েছেন দু’শতাধিক শিশু। বহিঃবিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন আরও পাঁচ শতাধিক। শিশু হাসপাতালে কোন সীট খালি নেই। গড়ে ৫০ জনের বেশি শিশু প্রতিদিন ভর্তি হচ্ছে শুধু শিশু হাসপাতালেই। অন্যান্য হাসপাতালগুলোর অবস্থা একই। এতে বেড স্বল্পতায় চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে চিকিৎসকরা। তারা বলছেন, আবওয়া পরিবর্তনের এই সময়ে সব থেকে বেশি প্রয়োজন শিশুদের পরিচ্ছন্ন রাখা। 
 খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে শিশুদের রোগ বাড়ছে। বিশেষ করে ভাইরাসজনিত রোগের পাশাপাশি নিউমোনিয়া ধনুস্টংকারের মত রোগ ছড়িয়ে পড়ছে শিশুদের। গত দশ দিনে খুমেক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন দু’শতাধিক রোগী। এদের মধ্যে বেশির ভাগই জ্বর ওর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। ধনুস্ট্রংকার ও শাসকষ্টে আক্রান্ত হলেও প্রতিনিয়ত ভর্তি হচ্ছে শিশুরা। এছাড়া গত ১০ দিনে বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছে সহ¯্রাধিক শিশু।
এদিকে খুলনা শিশু হাসপাতালেও সামলাতে পারছেনা শিশু রোগীর চাপ। হঠাৎ করেই ১০-১৫ দিনের ব্যবধানে প্রতিদিন অন্তত ১০০ শিশু অতিরিক্ত চিকিৎসা নিয়েছে এখানে। নির্ধারিত ২৫০ সীটের বেশি শিশু রোগীর  চাপ থাকায় নতুন  কোন শিশুকেই ভর্তি করা হচ্ছে না।
হাসপাতালের ভর্তি কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ইতোমধ্যে সীট সংকটের কারণে ভর্তি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে এখানে। অন্যান্য বন্ধের দিনে সাধারণত রোগীর চাপ কিছুটা কম থাকলেও শুক্রবার ভর্তি করা হয়েছে ৩৬ জন। আর স্লিপ কেটে ডাক্তার দেখিয়েছেন ৯৫ জন (সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত)।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১০ দিনে শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে সাড়ে ৪ হাজারের বেশি শিশু, যা স্বাভাবিকের তুলনায় অন্তত ১ হাজার বেশি বলে ভর্তিকেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, আবহাওয়া পরিবর্তনের এই সময়ে শিশুদের বিশেষ যতœ নেয়ার প্রয়োজন। স্পর্শকাতর শরীরের সহজেই ভাইরাস ও রোগ জীবানু আক্রমণ করতে পারে তাই সবার আগেই শিশুদের সম্পূর্ণ পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
এদিকে সরকারি হওয়ার সুবাধে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক বেডে একাধিক শিশু রোগী রেখে চিকিৎসা দিচ্ছে ডাক্তাররা। এতে অনেক সময় রোগীর জন্য ওষুধ সরবরাহে বিপাকে পড়ছে নার্সরা। হাসপাতালের রেজিস্টার অনুযায়ী এই শিশু ওয়ার্ডে ২২ অক্টোবর চিকিৎসা দেয়া হয় ৫৯টি শিশুর। ২৩ তারিখে ৫৪টি শিশু এবং গত ২৪ অক্টোবর সেবা প্রদান করা হয় ৬২টি শিশুকে।
এ ব্যাপারে খুমেক হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহকারী রেজিস্টার ডা. মনোজ কুমার মালাকার বলেন, প্রতিটি ডাক্তার এবং সেবিকাদের শিশুকে ব্যবস্থাপত্রের নাম আইডেন্টিফাই করেই চিকিৎসা দেয়া হয়। শিশু বিভাগে প্রয়োজনের তুলনায় ওয়ার্ডে বেড সংকট রয়েছে। এ ওয়ার্ডে প্রতি রোগীর জন্য আলাদা বেড প্রয়োজন।
হাসপাতালের তত্ত্বাবাধয়ক ডা. টি এম মঞ্জুর মোরশেদ  বেডের স্বল্পতা এবং রোগীদের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে বলেন, আড়াইশ’ বেডের হাসপাতালে রোগী থাকছে ৯শ’। তাছাড়া জনবল সংকটতো রয়েছে। সিটছাড়া ভর্তি করা সমস্যা থাকে, তবে সরকারি হাসপাতালে মানবিক কারণে ভর্তি নিতে হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ