ঢাকা, সোমবার 4 December 2017, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

‘গ্রাম পুলিশের চাকরি কেন চতুর্থ শ্রেণির সমমর্যাদার নয়’

স্টাফ রিপোর্টার : গ্রাম পুলিশের চাকরি কেন চতুর্থ শ্রেণির বেতন স্কেলের সমমর্যাদার হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে আইন অনুসারে চাকরির সকল সুবিধাসহ আবেদনকারী গ্রাম পুলিশদের চাকরি সরকারের রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না-তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয় সচিব, পুলিশের আইজিসহ ৩২ জনকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
গতকাল রোববার একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি জে বি এম হাসান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। গত ২৭ নবেম্বর ধামরাইয়ের টুপিরবাড়ীর হাটকুশারা এলাকার বাসিন্দা গ্রাম পুলিশ লাল মিয়াসহ ৫৫ জন হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদন করেন। এরআগে দেশের বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে দফাদার ও মহলদার হিসেবে দায়িত্বরত গ্রাম পুলিশের সদস্যদের পক্ষ থেকে সরকারের সংশ্লিষ্টদের লিগ্যাল নোটিশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে লিগ্যাল নোটিশের জবাব আসেনি। এর প্রেক্ষিতে হাইকোর্টে রিট করেন তারা।
আদালতে রিটকারীদের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির পল্লব; সরকার পক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।
আইনজীবী হুমায়ুন কবির পল্লব পরে বলেন, দফাদার ও মহলদার মিলে সারা  দেশে গ্রাম পুলিশের সংখ্যা প্রায় ৪৬ হাজার। এদের মধ্যে দফাদারদের মাসিক বেতন ৩ হাজার ৪০০ টাকা। আর মহলদারদের  বেতন ৩০০০ টাকা। এদের অর্ধেক বেতন দেয় ইউনিয়ন পরিষদ, বাকিটা যায় সরকারের কোষাগার থেকে। বর্তমানে সরকারি কাঠামোতে যেখানে একজন শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি ৫ হাজার ৩০০ টাকা, সেখানে গ্রাম পুলিশরা সেই সর্বনিম্ন মজুরিও পাচ্ছে না। এটা অমানবিক এবং অন্যায্য।
তিনি বলেন, ব্রিটিশ আমল থেকে এ বাহিনী বিভিন্ন আইনের অধীনে কাজ করে আসছে। সর্বশেষ ২০০৯ সালে তাদের স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইনের আওতায় নেয়া হয়। এ আইনের অধীনে ২০১৫ সালে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) গ্রাম পুলিশ বাহিনীর গঠন, প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও চাকরির শর্তাবলী সম্পর্কিত বিধিমালা তৈরি করা হয়।
কিন্তু ওই বিধিতে তাদের কোনো শ্রেণি নির্ধারণ করা হয়নি। এক দাবির প্রেক্ষিতে ২০০৮ সালের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় গ্রাম পুলিশদের চতুর্থ শ্রেণির স্কেল নির্ধারণে অর্থ বিভাগকে চিঠি দেয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।
চাকরি রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্তি, সরকারি বেতন কাঠামোর চতুর্থ শ্রেণির সমমর্যাদা, মানসম্মত পোশাক, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতো রেশন চালু ও ঝুঁকি ভাতা প্রদান, প্রত্যেক বিভাগে একটি করে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন এবং সন্তানের জন্য সরকারি চাকরিতে কোটা সংরক্ষণের দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরেই বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে গ্রাম পুলিশরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ