ঢাকা, বুধবার 6 December 2017, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সেনা কর্মকর্তাকে লেকহেড স্কুলের অধ্যক্ষ করার নির্দেশ

স্টাফ রিপোর্টার : লেকহেড গ্রামার স্কুলের ধানমন্ডি ও গুলশান শাখা খুলে দিতে হাইকোর্টের দেয়া রায় আরো সাত দিনের জন্য স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। এ সময়ের মধ্যে স্কুলটির নতুন পরিচালনা পর্ষদ (ম্যানেজিং কমিটি) গঠনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে কমিটিতে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারকে সভাপতি ও স্কুলের অধ্যক্ষ হিসেবে সেনাবাহিনীর কোনো কর্মকর্তাকে রাখতে বলা হয়েছে। আপিল বিভাগে মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই পরিচালনা পর্ষদের অধীনেই স্কুলটি পরিচালিত হবে
জঙ্গি কার্যক্রমে পৃষ্ঠপোষকতা ও ধর্মীয় উগ্রবাদে উৎসাহ দেয়ার অভিযোগে গত ৬ নবেম্বর ঢাকার জেলা প্রশাসক স্কুলটি বন্ধ করে দিয়েছিল।
এ ব্যাপারে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারের করা লিভ টু আপিলের শুনানি শেষে গতকাল মঙ্গলবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালত সরকারের করা লিভ টু আপিল গ্রহণ করেছেন। এখন আপিল শুনানি হবে।
আদালতে লেকহেড গ্রামার স্কুলের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এফ হাসান আরিফ, ব্যারিস্টার আখতার ইমাম ও ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম। সরকার পক্ষে শুনানি করেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
পরে এটর্নি জেনারেল সাংবাদিকদের বলেন, লেকহেড স্কুলটির অনেক অনিয়ম। এটির গভর্নিং বডি নাই, শিক্ষকদের বিজ্ঞাপন দিয়ে নিয়োগ করা হয়নি। এছাড়া স্কুলটির বিরুদ্ধে সরকারের সবচেয়ে বড় অভিযোগ হল- স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা, অনেক সাবেক শিক্ষক, বর্তমান শিক্ষক, কিছু অভিভাবকের জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা আছে। এ ব্যাপারে আমরা আদালতকে কিছু ক্লাসিফায়েড তথ্য দিয়েছি। সর্বোচ্চ আদালত আগামী সাত দিনের মধ্যে শিক্ষা সচিবের অধীনে ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারকে প্রধান করে সাত সদস্যের একটি কমিটি করার জন্য বলেছেন।
তিনি বলেন, এই কমিটি স্কুল পরিচালনা করবে। এই কমিটি সেনাবাহিনীর শিক্ষা কোরের কর্মকর্তাদের একজনকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেবে। সাত দিনের মধ্যে এসব হলেই স্কুলটি আবার চালু করা যাবে।
আইনজীবী ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম সাত দিনের মধ্যে কমিটি গঠনের পর স্কুলের কার্যক্রম শুরু হবে বলে আশা করছি।
গত ১৪ নবেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডি ও গুলশানে লেকহেড গ্রামার স্কুলের দুটি শাখা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খুলে দেয়ার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ বিষয়ে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে এই নির্দেশ দিয়েছিলেন। রায়ের পরপরই আপিলের ঘোষণা দেন এটর্নি জেনারেল। পরদিন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেন। এরপর এই স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়িয়ে সরকারকে লিভ টু আপিল করতে বলেন আপিল বিভঅগ। এই লিভ টু আপিলের শুনানি শেষে গতকাল মঙ্গলবার এই আদেশ দেয়া হলো।
গত ৬ নবেম্বর ধানমন্ডি ও গুলশানের দুটি শাখাসহ লেকহেড স্কুলের সকল শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর প্রেক্ষিতে স্কুল সিলগালা করে দেয়া হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব সালমা জাহান সাক্ষরিত চিঠিতে ঢাকা জেলা প্রশাসককে এই নির্দেশনা  দেয়া হয়। এরপর ঢাকা জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট ইলিয়াস মেহেদী ওই স্কুলে গিয়ে সিলগালা করে দেন। চিঠিতে বলা হয়, এই প্রতিষ্ঠানটি সরকারের অনুমোদন নেয়নি। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি ধর্মীয় উগ্রবাদ, উগ্রবাদী সংগঠন সৃষ্টি, জঙ্গি কার্যক্রমের পৃষ্ঠপোষকতাসহ স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী কর্মকান্ডে যুক্ত।
পরে লেকহেড গ্রামার স্কুলের কার্যক্রম বন্ধের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ৯ নবেম্বর স্কুলের ১২ শিক্ষার্থীর অভিভাবক এবং এক মালিক খালেদ হাসান মতিন রিট আবেদনটি দায়ের করেন। রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে লেকহেড গ্রামার স্কুলের কার্যক্রম বন্ধ করা কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত হবে না এবং বন্ধ স্কুল কেন খুলে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। সরকারের শিক্ষা সচিব, ঢাকার জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়। এই রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে তা যথাযথ ঘোষণা করে এই রায় দেন হাইকোর্ট।
২০০৬ সালে ধানমন্ডি ৬/এ সড়কে প্রতিষ্ঠিত হয় লেকহেড গ্রামার স্কুল। গুলশানে এই স্কুলের আরও দু’টি শাখা রয়েছে।
লেকহেড স্কুলের কয়েকজন  আইএসে যোগ দিতে সিরিয়ায় গেছেন -এটর্নি জেনারেল
রাজধানীর লেকহেড গ্রামার স্কুলের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন মধ্যপ্রাচ্যে সক্রিয় জঙ্গি সংগঠন আইএসে যোগ দিতে গেছেন বলে জানিয়েছেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আদালতের নির্দেশে স্কুলটি নিয়ে সরকারের গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ভয়াবহ তথ্য রয়েছে উল্লেখ করে তিনি এ কথা বলেন। এর  আগে লেকহেড স্কুলের শাখা খুলে দিতে হাইকোর্টের রায় সাত দিনের জন্য স্থগিত করে আদেশ দেন আপিল বিভাগ। এর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে স্কুলটির বিষয়ে কথা বলেন এটর্নি জেনারেল।
এটর্নি জেনারেল বলেন, আমার মতে আপিল বিভাগে আমরা যে গোয়েন্দা প্রতিবেদন দাখিল করেছি তাতে ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা উল্লেখ ছিল। এই স্কুলের সাবেক পরিচালনা পর্ষদ, সাবেক কিছু শিক্ষক ও অভিভাবকের বিরুদ্ধে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া এই স্কুলের সঙ্গে যুক্ত একজন সেনা কর্মকর্তা (মেজর) মিরপুরে একটি বাড়িতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে মারা গেছেন। এই স্কুলের শিক্ষক, অবিভাবক ও পরিচালনা পর্ষদের কয়েকজন সদস্য সিরিয়ায় আইএসের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
মাহবুবে আলম বলেন, জঙ্গি কার্যক্রমে পৃষ্ঠপোষকতা ও ধর্মীয় উগ্রবাদে উৎসাহ দেয়ার অভিযোগে বন্ধ করে দেয়া লেকহেড গ্রামার স্কুলে সাত দিনের মধ্যে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠনের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ