ঢাকা, সোমবার 12 February 2018, ৩০ মাঘ ১৪২৪, ২৫ জমদিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

প্রিমিয়ার ক্রিকেটে জয় পেয়েছে ব্রাদার্স শেখ জামাল ও রূপগঞ্জ

স্পোর্টস রিপোর্টার : প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে জয় পেয়েছে ব্রাদার্স ইউনিয়ন, শেখ জামাল ও লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। ব্রাদার্স ইউনিয়ন  ২৪ রানে হারিয়েছে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবকে। অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবকে ২৮ রানে হারিয়ে শেখ জামাল ও  মোহামেডানকে ৬২ রানে হারিয়ে প্রথম জয় পেয়েছে রূপগঞ্জ। বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে জয় পেয়েছে ব্রাদার্স ইউনিয়ন। ব্রাদার্স ২৪ রানে হারিয়েছে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবকে। অধিনায়ক অলক কাপালীর অলরাউন্ড পারফরম্যান্স টানা দ্বিতীয় জয় এনে দিয়েছে ব্রাদার্স ইউনিয়নকে। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে সাত উইকেটে ২৯৪ রান করেছে ব্রাদার্স। মাত্র ৬৭ বলে পাঁচটি করে চার ও ছক্কায় ৭৯ রানের আক্রমণাত্মক ইনিংস এসেছে অলকের ব্যাট  থেকে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬৯ রান করে অপরাজিত ছিলেন ইয়াসির আলী। দুই উইকেট নিয়েছেন শ্রীলংকার বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি দলে সুযোগ পাওয়া আরিফুল হক। দেলোয়ার হোসেনের শিকারও দুই উইকেট। তিনজন হাফসেঞ্চুরি করলেও লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি প্রাইম ব্যাংক। ৪৭.৪ ওভারে ২৭০ রানে অলআউট হয়ে যায় তারা। সাত নম্বরে নামা নাহিদুল ইসলামের ব্যাট থেকে এসেছে সর্বোচ্চ ৮৮ রান। ৬৯ বলের ঝড়ো ইনিংসটি সাজানো আটটি চার ও চারটি ছক্কায়। এছাড়া ওপেনার জাকির হাসান এবং ভারতের কুনাল চান্দেলা ঠিক ৫০ রান করে আউট হয়েছেন। ব্যাটিংয়ের পর বল হাতেও আলো ছড়িয়ে ৪৬ রানে তিন উইকেট নিয়েছেন অলক। দীর্ঘ দিন জাতীয় দলের বাইরে থাকা অলকই ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়। এছাড়া দুটি করে উইকেট নিয়েছেন খালেদ আহমেদ ও সোহরাওয়ার্দী শুভ। বিকেএসপির চার নম্বর মাঠে জয় পেয়েছে শেখ জামাল ধানমন্ড ক্লাব। তানবীর হায়দারের বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবকে ২৮ রানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় জয় পেয়েছে শেখ জামাল।  শেখ জামালের দেয়া ২৯৪ রান তাড়ায় ২৬৬ রানে গুটিয়ে যায় নবাগত অগ্রণী ব্যাংক। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি শেখ জামালের। ৫৬ রানের মধ্যে ফিরে যান টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যান। চতুর্থ উইকেটে ৯৪ রানের জুটি গড়ে ৪ রানের মধ্যে ফিরে যান রঞ্জি ও ইলিয়াস সানি। রঞ্জি ফিরেন ৫৮ রান করে। সানি ৪০। অধিনায়ক নুরুল হাসানের সঙ্গে ৮২ রানের জুটিতে জোড়া উইকেট হারানোর ধাক্কা সামাল দেন তানবীর। তার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে শেষ ৬ ওভারে ৫৮ রান তুলে নেয় শেখ জামাল। ইনিংসের শেষ বলে শফিউল ফেরান তানবীরকে। ৪৮ বলে ৩ ছক্কা আর ৫ চারে  লেগ স্পিনিং অলরাউন্ডার করেন ৭১ রান। দলকে তিনশ রানের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া এই ইনিংসে তানবীর জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।  ৬৮ রানে ৪ উইকেট নেন শফিউল। রান তাড়ায় অগ্রণী ব্যাংকের প্রথম নয় ব্যাটসম্যানের আট জনই যান দুই অঙ্কে। ফিফটি নেই একটিও। সর্বোচ্চ ধীমান ঘোষের ৪৮। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় অগ্রণী ব্যাংক। তাদের পঞ্চাশ ছোঁয়া জুটি একটিই। চতুর্থ উইকেটে রাফাতউল্লাহ মোহাম্মদের সঙ্গে ৬২ রানের জুটি গড়েন ধীমান।  শেষের দিকে আব্দুর রাজ্জাক ও শফিউলের ব্যাটে ব্যবধান কমায় অগ্রণী ব্যাংক।  শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে ফেরার আগে ৩১ বলে তিনটি ছক্কা আর একটি চারে শফিউল করেন ৪৪ রান। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে তার সেরা। ২১ রানে ৩ উইকেট  নেন নাজমুল ইসলাম। আরেক বাঁহাতি স্পিনার সানি ৩ উইকেট নেন ৫০ রানে। ফতুল্লাহ খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে জয় পেয়েছে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। আব্দুল মজিদের ফিফটিতে লড়াইয়ের পুঁজি পাওয়া লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জ জিতেছে সহজেই। মোশাররফ হোসেন ও আসিফ হাসানের বাঁহাতি স্পিনে তারা হারিয়েছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবকে। লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে মোহামেডানকে ৬২ রানে হারিয়ে প্রথম জয় পেয়েছে রূপগঞ্জ। ২৩২ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ১৬৯ রানে গুটিয়ে যায় শামসুর রহমানের দল। লিগে এটি তাদের টানা দ্বিতীয় হার। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে সালাউদ্দিন পাপ্পুর সঙ্গে ৪৮ রানের উদ্বোধনী জুটিতে দলকে ভালো শুরু এনে দেন মজিদ। ৪ রানের মধ্যে পাপ্পু ও সামি আসলামকে হারিয়ে চাপে পড়ে রূপগঞ্জ। সেখান থেকে দলকে ২ উইকেটে ১৩২ রানের দৃঢ় ভিতের দাঁড় করান নাঈম ইসলাম ও ম্যাচ সেরা মজিদ। দুই জনে মিলে তৃতীয় উইকেটে গড়েন ৮০ রানের জুটি। ৩ বলের মধ্যে দুই থিতু ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে দেন কাজী অনিক। ১১৫ বলে তিনটি করে ছক্কা-চারে ৭০ রান করে ফিরেন ওপেনার মজিদ। কোনো বাউন্ডারি চারে নাঈম ৫১ বলে করেন ৩৬ রান। শেষের দিকে ঝড় তুলতে পারেননি রূপগঞ্জের কোনো ব্যাটসম্যান। তবে তুষার ইমরান ৩৪ বলে ৪০ আর অভিষেক মিত্রের ৪৫ বলে অপরাজিত ৪৫ রানের ইনিংসের ওপর ভর করে লড়াইয়ের পুঁজি পায় দলটি। ৪৪ রানে ৫ উইকেট নিয়ে মোহামেডানের সেরা বোলার অনিক। ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো পাঁচ উইকেট পেলেন বাঁহাতি এই পেসার। রান তাড়ায় রূপগঞ্জের মতো মোহামেডানও শুরু করে ৪৮ রানের উদ্বোধনী জুটি দিয়ে। কিন্তু মজিদের মতো কেউ ধরে রাখেননি তাদের ইনিংস। ভালো শুরু কাজে লাগাতে পারেননি কেউই। মোহামেডানের প্রথম ৫ ব্যাটসম্যানের সবাই যান দুই অঙ্কে। কিন্তু ত্রিশের ঘর ছাড়াতে পারেননি কেউই। সর্বোচ্চ অধিনায়ক শামসুরের ৩৪। এক সময়ে মোহামেডানের স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ১২১ রান। দুই বাঁহাতি স্পিনার  মোশাররফ ও আসিফের সঙ্গে পেসার মোহাম্মদ শহীদও উইকেট শিকারে যোগ দিলে আর পেরে উঠেনি মোহামেডান। ৫৮ রানে শেষ ৭ উইকেট হারিয়ে দুইশ পর্যন্তও যেতে পারেনি দলটি। ২৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে রূপগঞ্জের সেরা বোলার  মোশাররফ। আসিফ ও শহীদ নেন তিনটি করে উইকেট।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ