ঢাকা, মঙ্গলবার 29 May 2018, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ১২ রমযান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ধারাবাহিক রেমিটেন্স কমছে ॥ উদ্বিগ্ন সরকারের নীতিনির্ধারকরাও

মুহাম্মাদ আখতারুজ্জামান : সরকারের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখার অন্যতম খাত হলো প্রবাসী বাংলাদেশীদের পাঠানো রেমিটেন্স। এ খাতটি এখন রীতিমতো মন্দাবস্থায় পড়েছে। ধারবাহিকভাবে কমছে রেমিটেন্স প্রবাহ। রেমিটেন্স বাড়াতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন উদ্যোগও কাজে আসছে না। রেমিটেন্স কমার ধারাবাহিকতায় গতবছর যে রেমিটেন্স এসেছে তা সরকারের নীতি নির্ধারকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিয়েছে।
২০১৭ সালে যে রেমিটেন্স এসেছে তা বিগত ৬ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ফলে এ খাতেও সরকারের শৃঙ্খলা ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম। এ অবস্থা চলতে থাকলে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা আরও অবনতির দিকে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে সরকারকে রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়ানোর জন্য কার্যকরি পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ জনশক্তি রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য বিশ্লেষণে জানা যায়, ২০১৭ সালে প্রবাসী বাংলাদেশীরা রেমিটেন্স পাঠিয়েছে এক হাজার ৩৫২ কোটি ৬৮ লাখ ডলার। আর অর্থবছর হিসাবে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রেমিটেন্স এসেছে এক হাজার ২৭৬ কোটি ৯৪ লাখ ডলার। যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৪ শতাংশ কম। আর এ রেমিটেন্স পাঠানোর পরিমাণ বিগত ৬ বছরের মধ্যে সর্বনি¤œ। এর আগে ২০১১-১২ অর্থ বছরে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশীরা রেমিটেন্স পাঠিয়েছিল ১ হাজার ২৮৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার। আর বছর হিসাবে ২০১২ সালে প্রবাসী বাংলাদেশীদের রেমিটেন্স পাঠানোর পরিমাণ এক হাজার ৪১৬ কোটি ৩৯ লাখ ডলার। আর এ বছর জনশক্তি রফতানি হয়েছিল ৬ লাখ ৭ হাজার ৯৯৮ জন। এর পরের বছর ২০১৩ সালে জনশক্তি রফতানি ৪ লাখের কোটায় নেমে আসে। কমে যায় রেমিটেন্স প্রবাহ। এ বছর প্রবাসী বাংলাদেশীরা রেমিটেন্স পাঠায় এক হাজার ৩৮৩ কোটি ২১ লাখ ডলার। এরপর সরকার বেশি জনশক্তি বিদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চালাতে থাকে কিন্তু পরের বছর ২০১৪ সালেও ৪ লাখের কোটা অতিক্রম করতে পারেনি। তবে এ বছর প্রবাসী বাংলাদেশীরা একটু বেশি রেমিটেন্স পাঠায়। এ বছর রেমিটেন্স পাঠানোর পরিমাণ ছিল এক হাজার ৪৯৪ কোটি ২৫ লাখ ডলার। এর পরের বছর ২০১৫ সালে সরকারের জনশক্তি রফতানি ও রেমিটেন্স দুটি খাতেই ইতিবাচক ধারা ফিরে আসে। এ বছর সাড়ে ৫ হাজারেরও বেশি শ্রমিক বিদেশে যায় এবং রেমিটেন্স পাঠায় এক হাজার ৫২৭ কোটি ৯ লাখ টাকা। ঘুরে দাড়ানোর একবছরের মাথায় ২০১৬ সালে আবারও কমতে থাকে রেমিটেন্স প্রবাহ। নেমে আসে আগের অবস্থানে। এ বছর রেমিটেন্স কমে দাঁড়ায় এক হাজার ৩৬০ কোটি ৯৭ লাখ ডলারে। রেমিটেন্স কমার ধারাবাহিকতা পরের বছর তথা ২০১৭ সালেও অব্যাহত থাকে। আগের বছরের তুলনায় আরও কমে। রেমিটেন্স কমার পরিমাণ বিগত ৬ বছরের মধ্যে সর্বনি¤œ পর্যায়ে নেমে আসে। আর এটা সরকারকে ভাবিয়ে তুলেছে। ২০১৬ সালে রেমিটেন্স কমার কারণ অনুসন্ধানে নামে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক। রেমিটেন্স বাড়াতে নেয়া হয় বিভিন্ন উদ্যোগ তারপরও গত বছর রেমিটেন্স আসার পরিমাণ কমে যায়। রেমিটেন্স না বাড়ার পিছনে সরকারের কার্যকরি ভূমিকার অভাব রয়েছে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। 
দেশের জিডিপিতে ১২ শতাংশ অবদান রাখা অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। রেমিটেন্সের নি¤œগতিতে সরকারের নীতি-নির্ধারকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। রেমিটেন্সের উৎস দেশগুলোতে অর্থনৈতিক মন্দা এবং মোবাইল ব্যাংকিংসহ অন্যান্য মাধ্যমে হুন্ডি প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈধপথে প্রবাসীদের অর্থ কম আসছে বলে মনে করেন আর্থিক ও ব্যাংকিং খাত বিশেষজ্ঞরা। মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে প্রবাসী আয় বিতরণের অভিযোগে গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর মোবাইলভিত্তিক আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশের ২ হাজার ৮৮৭টি এজেন্টের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে ১ হাজার ৮৬৩টি এজেন্ট হিসাব বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। বিকাশের মাধ্যমে অবৈধভাবে দেশে প্রবাসী আয় আসার কারণে তা বৈধ পথে আসা আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে বলে মনে করে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এ ব্যাপারে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, অর্থনীতির সূচকগুলোর মধ্যে রেমিটেন্সটা নেতিবাচক। প্রবাসীদের আয় কমে যাওয়ায় রেমিটেন্স কমছে। সৌদি আরবে আগে যে কাজ আমাদের  শ্রমিকরা ১০ রিয়ালে করত, তা এখন আট রিয়ালে করছে। অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রেও এটা সত্য। তাদের আর্নিং কমেছে। আবার রেমিটেন্স কমার পেছনে অনেক দেশে বাংলাদেশীরা নাগরিকত্ব পেয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করাও অন্যতম একটি কারণ। তবে প্রতিবছর আমরা  প্রায় পাঁচ লাখ লোক বিভিন্ন দেশে পাঠাচ্ছি। প্রতিনিয়ত দেশের বাইরে মার্কেট খোঁজার চেষ্টা করছি। আশা করছি সামনে রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়বে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মো. রাজী হাসান বলেন, প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার কারণ খুঁজতে গবেষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রবাসী আয় কমে যাওয়ার বেশ কিছু কারণ ইতিমধ্যে খুঁজে পাওয়া গেছে। এসব কারণ ধরে রেমিট্যান্স বাড়াতে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
এদিকে বাংলাদেশ ইনিস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) গবেষণায় ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিটেন্স কমার কারণ হিসেবে ব্যাংক কর্মকর্তাদের অসদাচরণকে দায়ী করা হয়। এ ছাড়া ব্যাংকের শাখার দূরত্ব, অর্থ পেতে সময়ক্ষেপণ, নানা ধরনের জবাবদিহিতা, বিভিন্ন ধরণের কাগজপত্রের প্রয়োজনীয়তা, সাপ্তাহিক ছুটি, অবৈধ অভিবাসী ইত্যাদি বেশ কয়েকটি কারণকে দায়ী করা হয়েছে। গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, মোবাইলে রেমিটেন্স সেবা ব্যাপকভাবে বাড়ছে। প্রবাসীরা বিকাশ, রকেট, এম ক্যাশ, ইউ ক্যাশসহ অন্যান্য এমএফএস সার্ভিসের মাধ্যমে রেমিটেন্স  প্রদান করছে। ফলে দ্রুত বিদেশ থেকে পাঠানো রেমিটেন্স  প্রবাসীদের আত্মীয়-স্বজনের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এভাবে বিদেশ থেকে অর্থ পাঠানোকে বৈধ চ্যানেলে অন্তর্ভুক্ত করলে রেমিটেন্স  প্রবাহ হ্রাস পাওয়ার পরিবর্তে বেড়ে যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের উপদেষ্টা এস কে সুর চৌধুরী বলেন, গত কয়েক বছর ধরে রেমিটেন্স  প্রবাহে শ্লথ  প্রবৃদ্ধি বিদ্যমান। আবার এটিও অস্বীকার কারার উপায় নেই যে, ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে রেমিটেন্সের একটি বড় অংশ অবৈধভাবে দেশে আসছে। হুন্ডি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব নয়। তবে বিভিন্ন উপায়ে এটিকে কমিয়ে আনতে হবে। সে জন্য বিভিন্ন উপায় খুঁজছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ইয়াছিন আলি বলেন, অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলে রেমিটেন্স আসার কারণে জাতীয় অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ জন্য মোবাইল ব্যাংকিং চ্যানেল কাজে লাগাতে হবে। মোবাইল ব্যাংকিংকে রেমিটেন্স আনার ক্ষেত্রে কাজে লাগাতে না পারলে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিটেন্স  প্রবাহ আরও কমে যেতে পারে।
মন্ত্রিসভার ২০১৬-১৭ অর্থবছরের কার্যাবলী সম্পর্কিত বার্ষিক  প্রতিবেদনে বলা হয়, এক অর্থবছরে জনশক্তি রফতানি ৩১ শতাংশ বাড়লেও রেমিটেন্স ১৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ কমেছে। রেমিটেন্স কমার কারণ প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, অনেক দিন ধরে রেমিটেন্স কমছে। কমার বড় কারণ হচ্ছে সরকারি চ্যানেলে লোকজন কম টাকা দিতে চাচ্ছে। হয়তো এটা অন্য ফরমে চলে আসছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমে যাওয়াও রেমিটেন্স কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। দেশে রেমিটেন্সের অর্ধেকের বেশি আসে মধ্য প্রাচ্যের ছয়টি দেশ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ওমান, কুয়েত ও বাহরাইন থেকে। রেমিটেন্স কমার পেছনে সৌদি আরবসহ মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলোর সাম্প্রতিক সময়ের অর্থনৈতিক দুর্বলতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতাকে দায়ী করছেন তারা। সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের বিপরীতে ব্রিটিশ পাউন্ড, ইউরোর দাম কমে গেছে। এমনকি মালয়েশিয়ান রিংগিত ও সিঙ্গাপুরি ডলারের মূল্যমানও কমে গেছে। এর ফলে ওইসব দেশের  শ্রমিকদের আয়ও কমে গেছে বলে জানান খাত সংশ্লিষ্টরা।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমায় মধ্য প্রাচ্যে দেশগুলোতে  প্রবাসীদের বেতন ও মজুরি কমে গেছে। অর্থাৎ ইনকাম কমে যাওয়ায় রেমিটেন্স পাঠানো কমে গেছে। এছাড়া বড় কারণ ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা পাঠানো প্রক্রিয়া কঠিন হওয়ায়  প্রবাসীরা হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠাচ্ছেন।
পূবালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক হেলাল আহমদ চৌধুরী বলেন, ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিটেন্স পাঠালে খরচ বেশি। এর  প্রভাব পড়ছে রেমিটেন্স  প্রবাহে। তাই খরচ কমিয়ে আনতে হবে। এ ছাড়া ব্যাংকারদের গ্রাহকদের সঙ্গে আরও ভালো আচারণ করতে হবে। তাদের কর্মদক্ষতা বাড়াতে হবে।
বাংলাদেশ জনশক্তি রপ্তানি শুরু করে ১৯৭৬ সালে। বাংলাদেশ জনশক্তি রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (বিএমইটি) গত ৪২ বছরে জনশক্তি রপ্তানির হিসাব ও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স পাঠানোর পরিমাণ নিম্নে দেয়া হলো-
বছর     জনশক্তি রপ্তানির সংখ্যা     রেমিটেন্সের পরিমাণ (মার্কিন ডলার)
১৯৭৬    ৬,০৮৭ জন    ২ কোটি ৩৭ লাখ ডলার
১৯৭৭    ১৫,৭২৫ জন    ৮ কোটি ২৭ লাখ ডলার
১৯৭৮    ২২,৮০৯ জন    ১০ কোটি ৬৯ লাখ ডলার
১৯৭৯    ২৪,৪৯৫ জন    ১৭ কোটি ২০ লাখ ডলার
১৯৮০    ৩০,০৭৩ জন    ৩০ কোটি ১৩ লাখ ডলার
১৯৮১    ৫৫,৭৮৭ জন    ৩০ কোটি ৪৮ লাখ ডলার
১৯৮২    ৬২,৭৬২ জন    ৪৯ কোটি ০৭ লাখ ডলার
১৯৮৩    ৫৯,২২০ জন    ৬২ কোটি ৭৫ লাখ ডলার
১৯৮৪    ৫৬,৭১৪ জন    ৫০ কোটি ০০ লাখ ডলার
১৯৮৫    ৭৭,৬৯৪ জন    ৫০ কোটি ০০ লাখ ডলার
১৯৮৬    ৬৮,৬৫৮ জন    ৫৭ কোটি ৬২ লাখ ডলার
১৯৮৭    ৭৪,০১৭ জন    ৭৪ কোটি ৭৬ লাখ ডলার
১৯৮৮    ৬৮,১২১ জন    ৭৬ কোটি ৩৯ লাখ ডলার
১৯৮৯    ১,০১,৭২৪ জন    ৭৫ কোটি ৭৮ লাখ ডলার
১৯৯০    ১,০৩,৮১৪ জন    ৭৮ কোটি ১৫ লাখ ডলার
১৯৯১    ১,৪৭,১৫৬ জন    ৭৬ কোটি ৯৩ লাখ ডলার
১৯৯২    ১,৮৮,১২৪ জন    ৯০ কোটি ১৯ লাখ ডলার
১৯৯৩    ২,৪৪,৫০৮ জন    ১০০ কোটি ৯০ লাখ ডলার
১৯৯৪    ১,৮৬,৩২৬ জন    ১১৫ কোটি ৩৫ লাখ ডলার
১৯৯৫    ১,৮৭,৫৪৩ জন    ১২০ কোটি ১৫ লাখ ডলার
১৯৯৬    ২,১১,৭১৪ জন    ১৩৫ কোটি ৫৩ লাখ ডলার
১৯৯৭    ২,৩১,০৭৭ জন    ১৫২ কোটি ৫০ লাখ ডলার
১৯৯৮    ২,৬৭,৬৬৭ জন    ১৫৯ কোটি ৯২ লাখ ডলার
১৯৯৯    ২,৬৮,১৮২ জন    ১৮০ কোটি ৬৬ লাখ ডলার
২০০০    ২,২২,৬৮৬ জন    ১৯৫ কোটি ৪৯ লাখ ডলার
২০০১    ১,৮৯,০৬০ জন    ২০৭ কোটি ১০ লাখ ডলার
২০০২    ২,২৫,২৫৬ জন    ২৮৪ কোটি ৭৭ লাখ ডলার
২০০৩    ২,৫৪,১৯০ জন    ৩১৭ কোটি ৭৬ লাখ ডলার
২০০৪    ২,৭২,৯৫৮ জন    ৩৫৬ কোটি ৫৩ লাখ ডলার
২০০৫    ২,৫২,৭০২ জন    ২২৪ কোটি ৯৮ লাখ ডলার
২০০৬    ৩,৮১,৫১৬ জন    ৫৪৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার
২০০৭    ৮,৩২,৬০৯ জন    ৬৫৬ কোটি ২৭ লাখ ডলার
২০০৮    ৮,৭৫,০৫৫ জন    ৮৯৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার
২০০৯    ৪,৭৫,২৭৮ জন    ১,০৭১ কোটি ৭৭ লাখ ডলার
২০১০    ৩,৯০,৭০২ জন    ১,১০০ কোটি ৪৭ লাখ ডলার
২০১১    ৫,৬৮,০৬২ জন    ১,২১৬ কোটি ৮০ লাখ ডলার
২০১২    ৬,০৭,৭৯৮ জন    ১,৪১৬ কোটি ৩৯ লাখ ডলার
২০১৩    ৪,০৯,২৫৩ জন    ১,৩৮৩ কোটি ২১ লাখ ডলার
২০১৪    ৪,২৫,৬৮৪ জন    ১,৪৯৪ কোটি ২৫ লাখ ডলার
২০১৫    ৫,৫৫,৮৮১ জন    ১,৫২৭ কোটি ০৯ লাখ ডলার
২০১৬    ৭,৫৭,৭৩১ জন    ১,৩৬০ কোটি ৯৭ লাখ ডলার
২০১৭    ১০,০৮,৫২৫ জন    ১,৩৫২ কোটি ৬৮ লাখ ডলার
৪২ বছর    ১,১৪,৬৪,৯৪৩ জন    ১৭,৬১৮ কোটি ৭৯ লাখ ডলার

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ