ঢাকা, বৃহস্পতিবার 27 December 2018, ১৩ পৌষ ১৪২৫, ১৯ রবিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ব্যাপক সহিংসতায় পরিস্থিতি ভয়াবহ

স্টাফ রিপোর্টার : ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ব্যাপক সহিংসতায় নির্বাচনী পরিস্থিতি ভয়াবহ বলে অভিযোগ করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। একইসাথে সরকার ও নির্বাচন কমিশন ধানের শীষের প্রার্থীদের নির্বাচনের মাঠ থেকে বিতাড়নের সব ব্যবস্থা সম্পন্ন করেছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় ঐক্যফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে ড. কামাল হোসেন এ কথা বলেন। তার পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে এ অভিযোগ করেন গণফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা জগলুল হায়দার আফ্রিক। তিনি বলেন, ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে প্রশাসন, আইন-আদালত, পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলাবাহিনী, আওয়ামী লীগ, সর্বোপরি নির্বাচন কমিশন স্বয়ং কাজ করছে। ধারাবাহিকভাবে প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় হামলা-মামলা, গ্রেফতার ও প্রার্থীদের উপর নৃশংসতা জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। নির্বাচনের মাত্র তিনদিন আগেও প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় আনা হয়েছে। তার শরীরের ৬টি স্থানে রামদা দিয়ে কোপানো হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছে বলে জানা গেছে। হামলায় গতকাল দেশব্যাপী প্রার্থীসহ চার শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছে। এছাড়া পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু, কার্যকরী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিকল্পধারার মহাসচিব শাহ মো: বাদল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে ড. কামাল বলেন, নীলনকশার নির্বাচনে ভোট কারচুপির সংবাদ যেন গণমাধ্যমে না আসে, সে জন্য পরিকল্পিতভাবে নানা ধরনের বাধা সৃষ্টি করছে নির্বাচন কমিশন। মোটরসাইকেল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা, একসঙ্গে একাধিক মিডিয়ার সাংবাদিক একই ভোটকক্ষে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থেকে ভোটকেন্দ্র পর্যবেক্ষণ, সরাসরি সম্প্রচার করা যাবে না-সাংবাদিকরা মোটরসাইকেল ব্যবহার করে সংবাদ সংগ্রহ করতে পারবেন না। নির্বাচন কমিশন এমন নীতিমালা জারির মাধ্যমে মূলত মুক্ত ও স্বাধীন গণমাধ্যমকে গলাটিপে হত্যা করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের এসব বাধানিষেধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করছে যে, নির্বাচন কমিশন গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করে ক্ষমতাসীনদের নীলনকশা বাস্তবায়নের অপচেষ্টায় লিপ্ত। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের দিন ইন্টারনেটের গতি কমানোর জন্য ফোর জি টু জি ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ভোট কেন্দ্রে সংঘটিত নানা রকম ঘটনার সংবাদ মিডিয়ায় দ্রুত আসার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে। তিনি বলেন, এই অবস্থায় ঐক্যফ্রন্টের ভরসা এ দেশের জনগণ তথা ভোটারগণ। ড. কামাল বলেন, যারা অতীতে কোনোদিন ভুল করেনি, তারা এবারও ভুল করবে না। সব ভয়-শঙ্কাকে জয় করে ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে এদেশের সংগ্রামী মানুষ আগামী ৩০ ডিসেম্বর ভোটযুদ্ধে সব আগ্রাসনকে মোকাবিলা করে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে
গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য, দেশের মালিকানা জনগণ ফিরে পাওয়ার জন্য এবং আমাদের স্বাধীনতাকে অর্থবহ করার লক্ষ্যে।
ঐক্যফ্রন্টের এ শীর্ষ নেতা বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশব্যাপী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী, নেতা-কর্মী-সমর্থকদের উপর পরিচালিত হামলা-মামলা-নির্যাতন ও গণগ্রেফতার চলছেই। পুলিশি হয়রানিসহ নানামুখী সীমাহীন নির্যাতনের মুখে ঐক্যফ্রন্টের নেতা-কর্মীদের বড় একটা অংশ আজ ঘর ছাড়া। ফলে তারা নির্বাচনী কাজে অংশগ্রহণ করতে পারছেন না। পোস্টার লাগানো এবং লিফলেট বিতরণ করা যাচ্ছে না। প্রচারের মাইক ভাংচুর এবং মাইক বহনকারী যানবাহনসহ ছিনিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ও নেতা-কর্মীদের ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট চাওয়ার পরিবেশ সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে একপক্ষীয় প্রচারণা চালাচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা। সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টির পরিবেশ যে হয়নি, তা এখন আর হলফ করে বলার প্রয়োজন নেই।
তিনি বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এতটাই পক্ষপাতদুষ্ট ও বেপরোয়া যে, তিনি এখন আর কারো কথাই শুনতে চান না।তিনি দেশবরেণ্য ব্যক্তিবর্গের কথাও শুনছেন না। ২৫ ডিসেম্বর দুপুর ১২টার দিকে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্য কমিশনারদের সঙ্গে নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে আলোচনার জন্য যান। সেখানে ড. কামাল হোসেনসহ ঐক্যফ্রন্টের অন্য নেতারা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য পুলিশের নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করা আবশ্যক বলে জানান। তারা আরো জানান, পুলিশ ২৫ মার্চ রাতে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে রাজারবাগ থেকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে দেশ স্বাধীন করেছে। সেই স্বাধীন দেশে আজ পুলিশ সরকারি দলের ক্যাডার হয়ে ঐক্যফ্রন্টসহ বিরোধী প্রার্থী, কর্মী ও নেতৃবৃন্দের উপর হামলা চালাচ্ছে। গ্রেফতার করছে পাইকারি হারে। পুলিশের কতিপয় সদস্য জানোয়ারের মতো আচরণ করছে। এ ব্যাপারে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের হস্তক্ষেপ কামনা করলে তিনি অত্যন্ত অশোভন আচরণ করেন। এতে ড. কামাল হোসেনসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতৃবৃন্দ সভা বর্জন করেন। এ ব্যাপারে অতি উৎসাহী আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ মিডিয়ায় বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন।
জনৈক এইচ টি ইমাম, যিনি বঙ্গবন্ধুর হত্যাকা-ের পর জাতীয় বেঈমান ও বিশ্বাসঘাতক খন্দকার মোশতাকের শপথ অনুষ্ঠানের দায়িত্ব পালন করেন। অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, তিনি আজ আওয়ামী লীগের  কা-ারির ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন এবং আওয়ামী লীগকে ৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচনে কারচুপি ও ভোট ডাকাতির মাধ্যমে জয়লাভের দায়িত্ব নিয়েছেন। সেই এইচ টি ইমাম বলছেন, ড. কামাল হোসেন নাকি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে ‘মাস্তানী’ করেছেন। এইচ টি ইমামের মতো বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের একজন সহযোগী কর্তৃক ড. কামাল হোসেন সম্পর্কে এ ধরনের উক্তি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং লজ্জাস্কর। আমরা তার এই উক্তি ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি। সবাইজানেন যে,প্রধান নির্বাচন কমিশনারের এক নিকটাত্মীয় অর্থাৎ ভাগিনা তারই বদান্যতায় ক্ষমতাসীন মহাজোটের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী। ফলে তিনি পরম আদরের ভাগিনার পক্ষে থাকবেন, এটাই স্বাভাবিক। তাই অবিলম্বে ক্ষমতাসীনদের কলের পুতুল হিসেবে ইতিমধ্যে পরিচিত এই বহুল বিতর্কিত প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি জানাচ্ছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।
ড. কামাল বলেন, ফরিদপুর, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ বেশ কয়েকটি জেলায় চিহ্নিত দলবাজ ব্যক্তিদের ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ফরিদপুর-১ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মনজুর হোসেনের মনোনয়ন ফরমের সমর্থনকারী হিসেবে স্বাক্ষর করেন রবিন কুমার লস্করও আছেন। তিনি কাজী সিরাজুল ইসলাম কলেজের সহকারী অধ্যাপক। বোয়ালমারি উপজেলার ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পেয়ে ইতিমধ্যে রবিন কুমার লস্কর ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে প্রশিক্ষণও নিয়েছেন। বোয়ালমারী উপজেলায় দলবাজ হিসেবে আরো ৫ জন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০ জন, সিলেটে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৯ জন দলবাজ কর্মকর্তাকে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সন্দেহাতীতভাবে বলা যায়, দলবাজ হিসেবে পরিচিত উক্ত কর্মকর্তারা অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পথে অন্যতম বাধা। অবিলম্বে এসব কর্মকর্তাকে অপসারণ করে এসব জায়গায় দলনিরপেক্ষ কর্মকর্তা নিয়োগের দাবি জানাচ্ছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।
এদিকে মঙ্গলবার রাতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে নির্বাচনী প্রচারণার পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ফ্রন্টের অন্যতম নেতা গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু বলেন, আজকেও আমার নির্বাচনী এলাকায়(ঢাকা-৭) আমরা প্রচারণার সময়ে কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সারাদেশে এরকম অবস্থা। রাষ্ট্রপতির এলাকা থেকে ধানের শীষের প্রার্থী ফজলুর রহমান আমাকে জানিয়েছেন, পুলিশ বলে দিয়েছে আপনারা এলাকা থেকে বেরিয়ে যান। না হলে পরিণতি ভালো হবে না। এই যদি অবস্থা হয় তাহলে আপনরা বুঝেন কি অবস্থা? আসলে পরিস্থিতি এতো ভয়াবহ যে ভাষায় বুঝাতে পারবো না। মিডিয়ার ভাইরা আপনারা সহকর্মীদের মাধ্যমে সব কিছু জানতে পারছেন। আমরা বলে বুঝাতে পারবো না কী অবস্থায় আমরা আছি।
এই পর্যায়ে গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, আমার কাছে মনে হয়েছে হামলা-মামলা তো আছেই, পুরো বাংলাদেশকে একটা কারাগারে পরিণত করেছে সরকার। এই কারাগারের মধ্যে সকলে বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মী। গত কয়েক সাপ্তাহে আমার নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-৬ আসন থেকে তিন‘শ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা ছিলো না। নতুন নতুন মামলা দিয়ে তাদের জামিনও বন্ধ করে রেখেছে। এখনো পর্য়ন্ত আমাদের কর্মীরা মাঠে নামতে পারেনি। যখনই নামে বিড়াল ছানার মতো ধরে নিয়ে যায়। ঢাকাসহ সারাদেশের অবস্থা দেখে আমাদের মনে হচ্ছে একটা রক্তক্ষয়ী নির্বাচনের দিকে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। সরকার ও নির্বাচন কমিশন কেনো এই অবস্থা সৃষ্টি করলো আমাদের কাছে আজকে বড় প্রশ্ন।
 সেনা মোতায়েন সম্পর্কে তিনি বলেন, জনগণ আশা করেছিলো সেনা বাহিনী মাঠে নামলে পরে পরিবেশ উন্নত হবে, বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীরা মাঠে নামবে এবং তারা প্রচার-প্রচারণা করতে পারবেন। সেটাও আমরা দেখছি যে, আমাদের সেই আশা হতাশায় পরিণত করেছে। সেনা বাহিনীর প্রতি আমাদের আবেদন এখন পর্যন্ত যেসব ঘটনা ঘটেছে। ভবিষ্যতে যেন এই ধরনের ঘটনা না ঘটে আপনারা একটা গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবেন। জনগণের আস্থা আপনাদের সাথে আছে এবং সেই আস্থায় আপনারা আগামী কয়েকদিন মাঠে থেকে কায্র্করি ব্যবস্থা নেবেন। আমরা অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। দেশের মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করার জন্য অপেক্ষায় আছে।
সুব্রত দাবি করে বলেন, দেশের ৯০ ভাগ ভোটার আজকে ধানের শীষে ভোট দেবার জন্য উতালা হয়ে আছে। ৩০ তারিখ যদি তারা ভোট কেন্দ্রে যেতে পারে বাংলাদেশে একটা নিরব ভোট বিপ্লব হয়ে যাবে। আমি সরকারকে বলব, মাথা ঠান্ডা রেখে ভবিষ্যত বাংলাদেশ যাতে তার স্বাধীনতা, গণতন্ত্র রক্ষা হয় সেজন্য কাজ করবেন। শুধুমাত্র ক্ষমতায় থাকার জন্য জনগণকে আর প্রতারিত করবেন না।
সাংবাদিক সম্মেলনে দেশব্যাপী হামলা, মামলা, নির্যাতন, গণগ্রেফতার, গুলী ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন জেলায় ২৪ ডিসেম্বর সাতক্ষীরায় ৭৪ জন, নড়াইলে ২০, ময়মনসিংহে ৫৫, চুয়াডাঙ্গায় ৩৫, জামালপুরে ২২, পঞ্চগড়ে ১১, নওগাঁয় ৪০, চাঁদপুরে ৩৯, ঝিনাইদহে ৭৬, কুমিল্লায় ৬২, কিশোরগঞ্জে ২২, টাঙ্গাইলে ২৮, মেহেরপুরে ১৫ ও মাগুরায় ১১ জন, ২৫ ডিসেম্বর তিন শতাধিক জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। গতকালও দেশের বিভিন্নস্থানে চার শতাধিক নেতাকর্মী আটক করা হয়েছে। এছাড়া প্রার্থীসহ তিন শতাধিক বিএনপি নেতাকর্মী আহত হয়েছে। এছাড়া জামায়াত ও শিবিরের দুই শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। 
২৪ ডিসেম্বর সেনা মোতায়েনের পর সারা দেশে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, হাবিবুর রহমান হাবিব, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, মিয়া নূর উদ্দিন আহমেদ অপু, শেখ ফরিদ উদ্দিন মানিক, গৌতম চক্রবর্তী, সরদার সারফুদ্দিন আহমেদ সান্টু, শরিফুল আলম, মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, কর্নেল (অব.) আজিম উল্লাহ বাহার ও ডাক্তার সানসিলা জেবরিনের উপর হামলা হয়। এর আগে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও নূরের রহমান জাহাঙ্গীর, মির্জা আব্বাস, আফরোজা আব্বাসের উপর গুলী ও হামলার ঘটনা সংঘটিত হয়। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত তিনজন প্রার্থীর প্রার্থীতা বাতিল করেছেন হাইকোর্ট। তারা হলেন : নরসিংদী-৩ মঞ্জুর এলাহী, নাটোর-৪ আদুল আজিজ, গাইবান্ধা-৪ ফারুক আলম।
ঝিনাইদহ-৩ আসনের জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী মতিয়ার রহমানকে তার মেয়ের ঢাকার বাসা থেকে স্ত্রীসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পাবনা: প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় আনা হয়েছে। বুধবার বিকেলে তাকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন হাবিবের ভাতিজা সুমন ম-ল। তিনি বলেন, উনার (হাবিব) অবস্থা খুবই খারাপ। তার শরীরের ৬টি স্থানে রামদা দিয়ে কোপানো হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য আমরা তাকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় নিয়ে এসেছি। নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে বুধবার বেলা ১১টার দিকে ঈশ্বরদীর আলহাজ টেক্সটাইল মিলস উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নেতাকর্মীরা জড়ো হলে হঠাৎ করে হাবিবুর রহমান হাবিবের ওপর হামলা চালানো হয়। তার শরীরের কয়েকটি স্থানে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিকেলে হেলিকপ্টারযোগে তাকে ঢাকায় নেয়া হয়।
ঢাকা-৬ আসনের জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী সুব্রত চৌধুরীকে রাজধানীর বংশাল থানার সুরিটোলা এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় আজ (মঙ্গলবার) বিকেলে ঘেরাও করে রাখে পুলিশ। এ আসনের ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট রাসেলসহ ৩ নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ সময় মাইক ও দুটি মিনি ট্রাক ভাংচুর এবং পোস্টার চিনিয়ে নেওয়া হয়। এতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ১০ নেতা-কর্মী আহত হন।
কুমিল্লা-৩ আসনের জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী মুজিবুল হকের মামা জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তৌফিক মীরের বাসায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগ যৌথভাবে পুলিশের ছত্রছায়ায় ২৫ ডিসেম্বর বিকেলে হামলা চালায়। এ সময় বাড়ি নারী-শিশুরাও হামলার শিকার হয়। হামলাকারীরা বাড়ির আসবাবপত্র ভেঙ্গে চুরমার করে দেয়।
পটুয়াখালী-৩ আসনের জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা দশমিনা উপজেলার ৩ নং বেতামী ইউনিয়নের চেয়পারম্যান মুহিবুল আলম মুহিবুলকে মঙ্গলবার তার বাড়ির সামনে থেকে পুলিশ ও বিজিবি গ্রেফতার করেছে। অথচ তার বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে কোনো ধরনের মামলা ছিল না।
মাদারীপুর-২ আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী মিল্টন বৈদ্যের বাড়িতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হামলা করেছে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। হামলায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। এ সময় প্রার্থীর বাড়িতে থাকা একটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। তবে আওয়ামী লীগের অভিযোগ, তাঁদেরও ৫-৭ জন আহত হয়েছেন।
সাতক্ষীরা-৪ আসনের জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী গাজী নজরুলের স্ত্রী ও মেয়েকে মঙ্গলবার দুপুরে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
টাঙ্গাইল-৬ আসনের নাগরপুরে সোমবার রাত থেকে পুলিশ, যৌথ বাহিনী, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা পুরো এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। তারা ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত ধানের শীষ প্রার্থীর সব পোস্টার ছিঁড়ে ফেলে। বাধা দিতে গেলে যুবদল নেতা আনোয়ার হোসেনের মাথা ফাটিয়ে দেয় সন্ত্রাসীরা। সোমবার থেকে বিএনপি নেতা মোনায়েম খান, ছাত্রদল নেতা সাইদুরসহ ২৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তারা ধানের শীষ প্রতীকের ৮টি কার্যালয় বন্ধ করে দিয়েছে। গ্রেফতার, হামলা, নির্যাতন অব্যাহত থাকায় নাগরপুরজুড়ে এক বিভীষিকাময় পরিস্থি’তির সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় নাগরপুরের দুভুরিয়ায় ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী গৌতম চক্রবর্তীর গাড়িবহরে হামলা হয়। এ সময় প্রার্থী গৌতম চক্রবর্তীসহ ৫ জন আহত হন।    
যশোর-৩ আসনের জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী অনিন্দ ইসলামের ধানের শীষ মার্কায় প্রচারের সময় আজ (মঙ্গলবার) গাড়িবহর থেকে ৩ জনকে পুলিশ আটক করেছে।
মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী শাহ মোয়াজ্জেম সোমবার সিরাজদিখানে নির্বাচনী প্রচারণায় গেলে ১৮-২০ মোটরসাইকেলযোগে প্রায় ৩০-৩৫ জন সন্ত্রাসী হামলা চালায়। তারা ৫টি গাড়ি ভাঙচুর করে। এ সময় গাড়িতে থাকা ঐক্যফ্রন্ট নেতা-কর্মীসহ ৬ জন আহত হন।
 শেরপুর-১ আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকার গাড়ির বহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ২৪ ডিসেম্বর বিকেলে সদর উপজেলার ঘুঘুরাকান্দি এলাকায় ওই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় প্রিয়াংকার পাজেরো গাড়ি ভাঙচুর এবং তার আত্মীয়সহ ১০ নেতা-কর্মী আহত হন। আজ (মঙ্গলবার)এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রচার কাজে তাকে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা বাধা দিচ্ছে বলে উল্লেখ করেন।
ঢাকা-১৪ সাভার আসনের জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী ডা. সালাউদ্দিনের স্ত্রী সাবিনা সালাউদ্দিনের নেতৃত্বে আশুলিয়ার কাঠগড়ায় জনসংযোগের সময় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা হামলা করে। পুলিশ এ সময় তাজুল ইসলাম ও মুক্তার নামে ঐক্যফ্রন্টের দুই নেতাকে গ্রেফতার করে।
বগুড়া-৫ আসনে বিএনপি মনোনীত ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মো. সিরাজের নির্বাচনী প্রচার বহরে হামলা করে ৮টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টায় নির্বাচনী গণসংযোগে বের হন ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী জিএম সিরাজ সহ শতাধিক দলীয় নেতাকর্মী।
বরিশাল-২ আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ধানের শীষের প্রার্থী সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুর প্রচার অভিযানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা হামলা করেছে। এ ঘটনায় প্রার্থী সান্টুসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। প্রার্থী সান্টুও ইটের আঘাতে আহত হন। সোমবার বিকেল ৪টার দিকে গণসংযোগ শেষে ফেরার পথে বানারীপাড়া পৌরসভার সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
 নোয়াখালী-১ আসনে জাতীয় ঐক্যফ্যন্ট প্রার্থী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের গণসংযোগের সময় সন্ত্রাসী গুলী ও হামলার ঘটনা ঘটেছ। সোমবার বেলা ২টার দিকে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন খিলপাড়া থেকে মল্লিকা দিঘীরপাড় যাওয়ার সময় একদল সন্ত্রাসী তার গাড়িবহর ধাওয়া করে। এরপর শাহপুর উত্তর বাজার পৌঁছলে সন্ত্রাসীরা তার প্রচার গাড়িতে হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা মাহবুব উদ্দিন খোকনের ঢাকা-মেট্টো-চ-১৭-৭২৫৯ ও ঢাকা মেট্টো-চ-৫২-০৪৫৭ গাড়ি ভাঙচুর করে। এ সময় সোহেল রানা, ইমন, মহসিন, সাইফুল ও সবুজ ভূঁইয়া আহত হয়। ঘটনার পর পরই মাহবুব উদ্দিন খোকন চাটখিল থানায় এসে ওসি’র ঘটনার ঘটনার বর্ণনা করেন এবং সাংবাদিকদেরকে ব্রিফ করেন।
বাগেরহাট-২ আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম বাগেরহাট প্রেস ক্লাবে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, গত দুদিনে তার আসনে প্রতিপক্ষের হামলায় ৩০ নেতা-কমী আহত হয়েছে। সন্ত্রাসীরা জেলা বিএনপির অফিস ভাঙচুর করা হয়েছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে ঐক্যফ্রন্টের অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মীকে পিটিয়ে আহত করেছে সন্ত্রাসীরা। আহতদের বাগেরহাটের বাইরে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। সোমবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি’র প্রার্থী এম এ সালাম আরও দাবি করেন বিএনপি’র প্রার্থীর প্রচারে মাইকিং করতে বাধা দেয়া হচ্ছে। পোস্টার লাগালে ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। এমনকি জেলা বিএনপি অফিসে হামলার পর কাউকে অফিসে আসতে বাধা দেয়া হচ্ছে। বাগেরহাট জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তাকে ১৭ বার লিখিত অভিযোগ দেয়ার পরও কোন প্রতিকার পাননি বলে বিএনপি’র এই প্রার্থী অভিযোগ করেন।
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আজহারুল ইসলাম মান্নানের প্রচারণায় স্থানীয় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা হামলা হয়েছে। সোমবার দুপুরে মাঝেরচর ঈদগাহ এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। ছাত্রলীগের হামলায় ১৫ জন ঐক্যফ্রন্ট নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
গাজীপুর-৫ আসনের জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী সাবেক এমপি একেএম ফজলুল হক মিলন (কারাগারে আটক) পক্ষে তার স্ত্রী শম্পা হক মাইক্রোবাস করে থানায় অস্ত্র জমা দিতে যাওয়ার সময় থানা-সংলগ্ন কালীগঞ্জ বাজার বাসস্ট্যান্ডে সন্ত্রাসীরা তার গাড়ি ভাঙচুর করে এবং সঙ্গে থাকা নির্বাচনী পোস্টার কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলে। এ সময় গাড়িতে থাকা বেশ কয়েকজন মহিলা কর্মী আহত হন।
কিশোরগঞ্জ-২ আসনের জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন কটিয়াদীতে নির্বাচনী প্রচারণার সময় পুলিশের হামলায় আহত হয়েছেন। এ সময় তাঁর ছেলে মো. সাব্বির জামান রনিকে পুলিশ আটক করেছে। সোমবার রাত ৯টার দিকে কটিয়াদী পৌরসভার বীর নোয়াকান্দি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। কটিয়াদী পৌরসভার বীর নোয়াকান্দি এলাকায় প্রচারণা চালানোর সময় পুলিশ অতর্কিতে তাদের ওপর হামলা চালায়।আখতারুজ্জামান পুলিশ সদস্যদের নিবৃত্ত করতে গেলে পুলিশ তার ওপর চড়াও হয় এবং লাঠিচার্জ করে। এতে আক্তারুজ্জামান আহত হন। তার নাক-মুখ দিয়ে রক্ত ঝরে।
কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী মো. শরীফুল আলমের নির্বাচনী গণসংযোগে পুলিশ গুলী চালিয়েছে। পুলিশের গুলীতে প্রার্থী মো. শরীফুল আলমসহ ২০ নেতা-কর্মী আহত হন। সোমবার বিকেল ৪টায় কুলিয়ারচর বাজারের গাইলকাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
কুমিল্লা-৩ আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী কে এম মুজিবুল হকের নির্বাচনী এলাকার দুজন ওসি দলীয় নেতার মতো ভূমিকা পালনের মাধ্যমে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে চলেছেন। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের স্বার্থে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত এ কে এম মঞ্জুরুল আলম এবং ভাঙ্গরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমানকে দ্রুত প্রত্যাহার চেয়ে চিঠি দিযেছেন কুমিল্লা-৩ আসনের জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী। উক্ত দুজন কর্মকর্তার সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে ঐক্যফ্রন্টের নেতা-কর্মীরা প্রচার কাজে অংশ নিতে পারছেন না।
নড়াইল-২ আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী এ জেড এম ফরিদুজ্জামান ফরহাদ গণসংযোগে যাওয়ার পথে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের হামলায় জেলা বিএনপি’র দপ্তর সম্পাদক টিপু সুলতান, লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য রাকিব মন্ডলসহ ১০ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত বিএনপি নেতাদের লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে
চট্টগ্রাম-৫ হাটহাজারী আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম রবিবার বিকেলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেট এলাকায় গণসংযোগের সময় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শামীমের বড় ভাই মো. সেলিম ও শাহ আলমের নেতৃত্বে তার ওপর হামলা হয়। এতে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীসহ পাঁচ-ছয় কর্মী আহত হন। ভাংচুর করা হয় তার গাড়িও। সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে হাটহাজারী থানার ওসিকে প্রত্যাহারের দাবি জানান জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী।
নড়াইল-২ আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীর মোটরসাইকেল বহরে হামলা চালিয়েছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। এতে বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাংচুর করা হয়।
নাটোর-২ আসনের জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিনের প্রচারণায় আবার হামলা হয়েছে। এ হামলায় বিএনপির ৫ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।
এদিকে বাধাদান ও হয়রানির কারণে এখনো অনেক প্রার্থী নির্বিঘেœ নির্বাচনী প্রচার চালাতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। সংগঠনটি বলছে, ব্যাপক আগ্রহ থাকলেও সহিংসতার কারণে ভোটারদের মধ্যে অবাধে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। এখনো সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সবাই শঙ্কিত।
ঠাকুরগাও ২ আসনে ধানের শীষের সমর্থকদের উপর আওয়ামী লীগের হামলার পাশাপাশি পুলিশের গ্রেফতার অব্যহত রয়েছে। অদ্য ২৬ ডিসেম্বর বিকাল বেলা তিন জন ধানের শীষের সমর্থককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।( মোট ৩ জন)
দিনাজপুর-৬ আসনে গত দুই দিনে বেশ কয়েকজন বিএনপি ও জামায়াত কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। আটক কৃতরা হলো, ২৪ ডিসেম্বর, সন্ধ্যা ও দিবাগত রাতে হাকিমপুর উপজেলার ডাঙ্গাপাড়া বাজার হতে বিএনপি নেতা (১) মোঃ হাবিবুর রহমান ও ডাঙ্গাপাড়া বাজারের (২) মোঃ রায়হান হোসেন কে বিনা ওয়ারেন্ট ও বিনা মামলায় গ্রেফতার করে হাকিমপুর থানা পুলিশ। ২৫ ডিসেম্বর, দুপুরে নবাবগঞ্জ উপজেলার ধানের শীষের কর্মী (৩) ডা. মনিরুল ইসলাম (৪) মোঃ রেজাউল করিম, হরিপুরের (৫) মোঃ হামিদুল ইসলাম ও (৬) মোঃ আশরাফুল ইসলাম ও (৭) মোঃ বকুল হোসেন কে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ বিনা ওয়ারেন্ট ও বিনা মামলায় গ্রেফতার করে। এছাড়াও ২৫ ডিসেম্বর, ঘোড়াঘাট উপজেলার সিংড়া ইউপির মঘলিশপুর গ্রামের ধানের শীষ প্রতীকের কর্মী মোঃ ইউসুফ আলির বাসায় সকাল ১০ টায় ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের ১০-১৫ জন আক্রমণ করে বাড়ির ঢেউটিন ভাংচুর করে এবং তার ঘরের ভেতর রাখা আলমারী, চেয়ার, টেবিল, খাট, আরও অন্যান্য জিনিসপত্র ভাংচুর সহ ৩০ হাজার টাকা লুট করে নেয়।( মোট ৭ জন)
নীলফামারী ২ আসনে গতকাল জলঢাকায় বাসাবাড়ী,ৱাস্তা থেকে এখন পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ৷এবং এলাকাৱ বিভিন্ন গুরুত্বপূণ্র্ জায়গায় পুলিশ ওদ পেতে আছে বলে জানা যায়৷(মোট ১৫ জন)
রংপুর ৫ আসনে গতকাল ২৫ ডিসেম্বর রাতে অভিযান চালিয়ে জামায়াতের প্রায় ১০ নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ। আটককৃতরা হলো, (১) তায়েক আহমেদ (২) সোহেল (৩) আবুবকর (৪) আসাদুল, ভাংনী ইউনিয়ন,(৫) বাটুল (৬) লিটু (৭) জাহেরুল (৮) কবীর,ময়েনপুর ইউনিয়ন, (৯) ডাঃ আমিনুল, (১০) ডাঃ বাদল,বালারহাট ইউনিয়ন। এর মধ্যে সোহেলকে ব্যাপক শারীরিক নির্যাতন করেন বলে জানা যায়। (মোট ১০ জন)
চাপাইনবাবগঞ্জ ৩ আসনে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এর হামলার পাশাপাশি পুলিশি গ্রেফতার অব্যহত রয়েছে। গতকাল ২৫ ডিসেম্বর ইউনিয়ন পরিষদের দুইজন আমীর সহ মোট পাঁচ জন জামায়াত কর্মীকে আটক করে পুলিশ।
সিরাজগঞ্জ ৪ আসনে উল্লাপাড়া হলে গতকাল রাতে অভিযান চালিয়ে তিনজন জামায়াত কর্মীকে আটক করে পুলিশ। আটককৃতরা হলো,১.মালেক মেম্বার পিতা, রব্বান আলি কালিকাপুর ২.আমিনুল পিতা, চড়িয়া শিকার ৩.আব্দুল খালেক পিতা মৃত আকবর আলি ভেংরি।এছাড়াও ধানের শীষের মিছিলে হামলার ঘটনাও ঘটে। এতে উভয় পক্ষের সংঘর্ষে ৪ জন আহত হয়। ( মোট ৩ জন)
পাবনা- ৫ আসনের গত রাতে ধানের শীষ প্রতীকের এম পি পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ ইকবাল হোসাইনকে ১ নং আসামি করে মোট ১৪৫ জন নেতাকর্মীর নামে আই সি টি আইনে পাবনা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
যশোর ২ আসনে ধানের শীষের সমর্থকদের পুলিশি হয়রানি ও গ্রেফতার অব্যহত রয়েছে। তারই অংশ হিসাবে গতকাল রাতে অভিযান চালিয়ে দুই জন জামায়াত কর্মীকে আটক করে পুলিশ।
বাগেরহাট ৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও সমর্থকদের উপর পুলিশ ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ প্রতিনিয়ত হয়রানি চালাচ্ছে। গত ২৫ ডিসেম্বর পুলিশ অভিযান চালিয়ে জামায়াতের প্রায় ৯৯ জন সমর্থক ও কর্মী কে আটক করেছে বলে জানা যায়।
খুলনা ৫ আসনে গতকাল ২৫ ডিসেম্বর অভিযান চালিয়ে পুলিশ জামায়াতের ২৯ জন নেতাকর্মীকে আটক করেছে। আটককৃতরা হলো, ফুলতলা উপজিলা (১) রুকনুজ্জামান,(২) কামরুজ্জামান,(৩) নাশীর গাজী,(৪) মফিজুর রহমান,(৫) বিল্লাল,(৬) আলমগীর,(৭) আবুল হোসেন,(৮) সোলাইমান,(৯) সবুজ,(১০) আব্দুল জব্বসর, ডুমুরিয়া ।(১১) শাহাআলম,(১২) আব্বাস,(১৩) ছাত্তার সহ ২৯জন গ্রেপতার। ৩জনকে ৭দিন ও৩জনকে ১৫দিন করে মোবাইল কোটে জেল দিয়েছে।
সাতক্ষীরা ২ ও ৪ আসনে পুলিশের গ্রেফতার ও স্থ’ানীয় আওয়ামী লীগের হামলা অব্যহত রয়েছে। গতকাল সাতক্ষীরা ২ ও ৪ নং আসনের বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় স্থ’ানীয় আওয়ামী লীগ বাড়ি বাড়ি হুমকি প্রদান করে। এছাড়াও কয়েকটি ধানের শীষের সমর্থকদের বাড়ি ও দোকানে আগুন লাগিয়ে দেয় বলে জানা যায়।
খাগড়াছড়ি : খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলায় বিএন নির্বাচনী প্রচারণায় ছাত্রলীগের হামলা। এসময় আহত হয়েছে কমপক্ষে ১৫ জন নেতা-কর্মী। বুধবার উপজেলা বাস টার্মিনাল এলাকায় ধানের শীষ প্রতীকের নির্বাচনী প্রচারণার সময় এ হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় জেলা যুবদলের সভাপতি মাহাবুব সবুজকে আটক করেছে পুলিশ। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে বিজিবি সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের ঘটনায় জেলা বিএনপির সভাপতি এবং সাবেক সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইঁয়া অভিযোগ করেন, রামগড়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে গেলে ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতা-কর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে হামলা চালায়। পরে এক পর্যায়ে তাদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে বিএনপি।
রামগড় থানার ওসি তারেক মোহাম্মদ আ. হান্নান জানান, আমি মিটিংয়ে জেলা সদরে রয়েছি। তবে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে তিনি জানান।
ঢাকা-১৬ আসনের বিএনপির প্রার্থী আহসান উল্লাহ হাসানের প্রচার মিছিলে হামলা চালিয়েছে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা। তাদের সঙ্গে পুলিশ যোগ দিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঢাকা-১৬ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সেক্রেটারী আহসান উল্লাহ হাসান বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে কয়েক হাজার নেতাকর্মী নিয়ে মিরপুর ১১ নম্বর বাস স্টান্ড কেএফসির সামনে থেকে মিছিল শুরু করে। মিছিলটি কিছুদূর এগিয়ে মিরপুর বাংলা স্কুল এন্ড কলেজ গেইটে পৌঁছলে পেছন থেকে তারা হামলার শিকার হয়।
চট্টগ্রাম : কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমের নির্বাচনী প্রচারণার গাড়িবহরে আবারও হামলা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার বিকেল চারটার দিকে জেলার হাটহাজারী উপজেলার মনিপুকুরপাড় এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় প্রচারণায় থাকা বিএনপির অন্তত ৭ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকরা জনতা বাজারের রেলবিট এলাকায় প্রার্থী ইবরাহিমের গাড়িবহর অবরুদ্ধ করে। এসময় তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধরের চেষ্টা করলে বাড়ির নারীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে ঘরে আশ্রয় দেন। সে সময় দুর্বৃত্তদের বাধা দিতে গিয়ে অন্তত ৭ নেতাকর্মী আহত হয়েছে।কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেন, আজ আবার আমাকে মেরে ফেলতে হামলা করেছে তারা। পুলিশকে বলেও কোনো কাজ হচ্ছে না। এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য হাটজারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বেলাল উদ্দিন মো. জাহাঙ্গীরের সাথে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ