ঢাকা, রোববার 13 January 2019, ৩০ পৌষ ১৪২৫, ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

এক নজরে শাহজাদপুর

শাহজাদপুর উপজেলা (সিরাজগঞ্জ জেলা) আয়াতন : ৩২৪.৪৭ বর্গ কিমি। সীমানা: উত্তরে উল্লাপাড়া ও বেলকুচি উপজেলা, দক্ষিণে বেড়া ও সাঁথিয়া উপজেলা, পূর্বে চৌহালী উপজেলা, পশ্চিমে ফরিদপুর (পাবনা) ও উল্লাপাড়া উপজেলা।
জনসংখ্যা :  ৪৭২৫০৫; পুরুষ ২৪৭০১৯, মহিলা ২২৫৪৮৬। মুসলিম ৪৫২৯২৯, হিন্দু ১৯৪৭২, বৌদ্ধ ২৪, খ্রিস্টান ২৮ এবং অন্যান্য ৫২।
জলাশয় :  যমুনা, হুরাসাগর, করতোয়া, বড়াল, হুরাসাগর ও গোহালা নদী এবং পানাদহ বিল উল্লেখযোগ্য।
প্রশাসন শাহজাদপুর থানা গঠিত হয়  ১৮৪৫ সালে এবং থানাকে উপজেলায়  রূপান্তর করা হয় ১৯৮২ সালে।
প্রাচীন নিদর্শন ও প্রত্নসম্পদ : মখদুম শাহদৌলার মাযার ও মসজিদ (ত্রয়োাদশ শতাব্দী), বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাচারি বাড়ি, নবরত্ন মন্দির (পোতাজিয়া গ্রাম) পঞ্চনাধ্যানী বুদ্ধের ভাস্কর্য ।
ঐতিহাসিক ঘটনাবলী : ১৮৭৩ সালের প্রজা বিদ্রোহের সূতিকাগার শাহজাদপুর উপজেলা। বিপ্লবী নেতা ঈশানচন্দ্র রায় নিজ গ্রাম দৌলতপুর থেকে সিরাজগঞ্জের কৃষক বিদ্রোহে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন (১৮৭৩-১৮৭৬)। এছাড়া ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, পাকিস্তান বিরোধী আন্দোলন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান ও সর্বোপরি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে এ উপজেলার অধিবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান : মসজিদ ৩৫৮, মন্দির ৫৩, মাযার ২৩, তীর্থস্থান ১। উল্লেখযোগ্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান: শাহজাদপুর জামে মসজিদ, বদরউদ্দিনের মসজিদ, পোতাজিয়া নবরতœ মন্দির , পোরজনা আশ্রম উল্লেখযোগ্য।
শিক্ষার হার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড় হার ৩৬.৯৮%; পুরুষ ৪২.৪০%, মহিলা ৩১.০৬%। কলেজ ১৩, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৪৮, ভোকেশনাল ইনস্টিটিউশন ১, প্রাথমিক বিদ্যালয় ২১৫, কমিউনিটি বিদ্যালয় ২, মদরাসা ৫৭। উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: শাহজাদপুর সরকারি কলেজ, পোরজনা মুকন্দনাথ উচ্চ বিদ্যালয় (১৮৮০), শাহজাদপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় (১৮৮২), পোতাজিয়া উচ্চ বিদ্যালয় (১৮৯৪), সোনাতনী উচ্চ বিদ্যালয় (১৯০৫), স্থল পাকগাশী ইন্সটিটিউশন (১৮৬৪), খাসসাতবাড়িয় উচ্চ বিদ্যালয় (১৯০৪), জামিরতা উচ্চ বিদ্যালয় (১৯০০)।
পত্র-পত্রিকা ও সাময়িকী মাসিক: বিবর্তন, সাহিত্য দর্পণ; অবলুপ্ত: সাপ্তাহিক গণবাংলা, সাপ্তাহিক মৌসুমী। বর্তমান প্রকাশিত হচ্ছে, এম,এ, জাফর লিটন সম্পাদিত সাপ্তাহিক উত্তর দিগন্ত, শফিকুজ্জামান শফির জনতার মশাল, এ্যাড. আনোয়ার হোসেনের শাহজাদপুর বার্তা
সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান লাইব্রেরি ৫, জাদুঘর ১, সিনেমা হল ৫, নাট্যদল ১১, থিয়েটার ১, যাত্রাপার্টি ৩, মুক্তমঞ্চ ১, মহিলা সংগঠন ১১, ক্লাব ১২৭।
জনগোষ্ঠীর আয়ের প্রধান উৎস কৃষি ৪২.৭৩%, অকৃষি শ্রমিক ৫.৯০%, শিল্প ১৭.৪৯%, ব্যবসা ১৬.০৩%, পরিবহন ও যোগাযোগ ২.৪৪%, চাকরি ৪.৭৭%, নির্মাণ ০.৯৯%, ধর্মীয় সেবা ০.২০%, রেন্ট অ্যান্ড রেমিটেন্স ০.২৯% এবং অন্যান্য ৯.১৬%।
কৃষিভূমির মালিকানা ভূমিমালিক ৫১.৭৮%, ভূমিহীন ৪৮.২২%। শহরে ৩৪.৩১% এবং গ্রামে ৫৪.১১% পরিবারের কৃষিজমি রয়েছে।
প্রধান কৃষি ফসল ধান, সরিষা, ডাল, গম, পাট, আখ, মরিচ, শাকসবজি।
বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় ফসলাদি  চীনা, কাউন, মসুর ডাল, ছোলা, তিল, তিসি, যব, মিষ্টি আলু।
প্রধান ফল-ফলাদি আম, কাঁঠাল, পেঁপে, পেয়ারা, নারিকেল।
মৎস্য, গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির খামার মৎস্য ২৩, গবাদিপশু ৪৭৮৮, হাঁস-মুরগি ১৮৫, কৃত্রিম প্রজনন উপকেন্দ্র ১।
 যোগাযোগ বিশেষত্ব পাকারাস্তা ৮৬ কিমি, আধা-পাকারাস্তা ১৬ কিমি, কাঁচারাস্তা ৬৮৫ কিমি; নৌপথ ৭৭ নটিক্যাল মাইল।
বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায়  সনাতন বাহন পাল্কি, ঘোড়ার গাড়ি, গরুর গাড়ি। শিল্প ও কলকারখানা সিমেন্ট ফ্যাক্টরি, ডাইং ফ্যাক্টরি, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, ফ্লাওয়াার এন্ড রাইস মিল, অয়েলমিল, টেক্সটাইল মিল, বরফকল, ওয়েল্ডিং কারখানা, হিমাগার।
কুটিরশিল্প তাঁতশিল্প, স্বর্ণশিল্প, লৌহশিল্প, মৃৎশিল্প, বাঁশের কাজ, সেলাই কাজ।
হাটবাজার ও মেলা হাটবাজার ৬৩, মেলা ৭। শাহজাদপুর,  কৈজুরী, মুলকান্দি, শিবরামপুর, বেতকান্দি, কাশিনাথপুর বাজার ও তালগাছী গরু-ছাগলের হাট এবং বাসন্তী মেলা, দোলের মেলা ও বারুণী মেলা,রবীন্দ্র মেলা উল্লেখযোগ্য।
প্রধান রপ্তানিদ্রব্য  তাঁতের কাপড় :
বিদ্যুৎ ব্যবহার এ উপজেলার সবক’টি ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পল্লী বিদ্যুতায়ন কর্মসূচীর আওতাধীন। তবে ৩৫.১৩% পরিবারের বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।
প্রাকৃতিক সম্পদ  ঝিনুক, মুক্তা।
পানীয় জলের উৎস নলকূপ ৯৪.৫৫%, ট্যাপ ০.৫১%, পুকুর ০.২২% এবং অন্যান্য ৪.৭২%। এ উপজেলার অগভীর নলকূপের পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি প্রমাণিত হয়েছে।
স্যানিটেশন ব্যবস্থা এ উপজেলার ১৩.৭০% (গ্রামে ১০.২২% ও শহরে ৩৯.৮৩%) পরিবার স্বাস্থ্যকর এবং ৮৩.২৭% (গ্রামে ৮৬.৮৬% ও শহরে ৫৬.৩১%) পরিবার অস্বাস্থ্যকর ল্যাট্রিন ব্যবহার করে। ৩.০৩% পরিবারের কোনো ল্যাট্রিন সুবিধা নেই।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ ১৮৯৭ ও ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষে এ উপজেলায় বহু লোকের প্রাণহানি ঘটে। এছাড়াও ১৮৮৫ ও ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে এ উপজেলার ঘরবাড়ি ও অন্যান্য সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
স্বাস্থ্যকেন্দ্র উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ১১, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ৬, শিশু হাসপাতাল ১, চক্ষু হাসপাতাল ১।
এনজিও ব্র্যাক, আশা, প্রশিকা, টিএমএসএস, উজ্জীবন, ব্রাক, পিপিডি।  [এ.আর সিদ্দিকী]
তথ্যসূত্র আদমশুমারি রিপোর্ট ২০০১, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো; শাহজাদপুর উপজেলা সাংস্কৃতিক সমীক্ষা প্রতিবেদন ২০০৭।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ