ঢাকা, রোববার 10 February 2019, ২৮ মাঘ ১৪২৫, ৪ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

২০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা: চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় অগ্নিকাণ্ডে ২৫টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় ২০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। বৃহস্পতিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) মিরসরাই পৌরবাজারে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো হলো, মোঃ নুরুল হকের হক সু স্টোর (জুতার দোকান), মোঃ শফিউল আলমের রনি সু স্টোর (জুতার দোকান), মোঃ স্বপনের স্বপন স্টোর (জুতার দোকান), স্বপন কুমার নাথের মা-মনি টেইলার্স, হরলাল নাথের টেইলার্স দোকান, মোঃ মুন্নার আল আযীয ফার্মেসী, আবুল হোসেন ডিলারের মুদি দোকান ও কীটনাশকের দোকান, মোঃ রুবেলের হাওলাপুরী পশু খাদ্য দোকান, শিমুল দাশের শিমুল স্টোর (মুদি দোকান), বজেন্দ্র কুমার নাথের বাবু স্টোর (মুদি দোকান), মোঃ ইউসুফের আল আমিন ট্রেডার্স (কনফেকশনারী পাইকারী দোকান), সঞ্জয় শীলের  জলসা হেয়ার কাটিং, রুবেল চন্দ্র নাথের গোপাল স্টোর (পান দোকান ও কসমেটিক্স দোকান), বেচু কুমার দাশের লন্ডী দোকান, ডা. জাফর উল্ল্যাহ খানের খান ফার্মেসী। এছাড়া মার্কেটের সামনে ভ্রাম্যমান দোকানের মধ্যে রয়েছে জামশেদ আলম, আমান উল্ল্যাহ, দিলীপ দাশ, নেপাল বাবু, নিতাই দাশ, মনা দাশ, তৈয়বুল আলম, ঝোলন নাথ ও রতন দাশের পান-সুপারি-জর্দার দোকান।
শিমুল স্টোরের মালিক শিমুল দাশ জানান, তারা দোকানে প্রায় ৪০ লাখ টাকার মালামাল ছিলো নগদ ছিলো সাড়ে ৩ লাখ টাকা। কৃষি ব্যাংক থেকে ১০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে দোকানে মাল তোলেন তিনি। বাবু স্টোরের বজেন্দ্র কুমান নাথ জানান, তার দোকানেও প্রায় অর্ধ কোটি টাকার মালামাল ছিলো। এছাড়া নগদ ছিলো ১০ লাখ টাকা। তার সিসি লোন রয়েছে ৩৫ লাখ টাকার। মেসার্স আল আমিন ট্রেডার্সের মালিক মোঃ ইউসুফ জানান, তার দোকানে প্রায় ৩০ লাখ টাকার মালামাল ছিলো। নগদ ছিলো ৬০ হাজার টাকা। জলসা হেয়ার কাটিংয়ের মালিক সঞ্চয়শীল জানান, তার দোকানে প্রায় ১ লাখ টাকার মালামাল ছিলো। নগদ ছিলো ৩২ হাজার টাকা। গোপাল স্টোরের মালিক রুবেল চন্দ্র নাথ জানান, তার দোকানে প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল ছিলো। নগদ ছিলো প্রায় ২ লাখ টাকা। আবুল হোসেন ডিলার জানান, তার দোকানে ২০ লাখ টাকার মালামাল ছিলো। নগদ ছিলো ১০ হাজার টাকা। স্বপন সু স্টোরের মালিক মোঃ স্বপন জানান, তার দোকানে ৩ লাখ টাকার জুতা ছিলো। নগদ ছিলো ১৪ হাজার টাকা। হক সু স্টোরের মালিক নুরুল হক জানান, তার দোকানে ২৫ লাখ টাকার মালামাল ছিলো। নগদ টাকা ছিলো ১ লাখ ৫০ হাজার। রনি সু স্টোরের মালিক মোঃ শফিউল আলম জানান, তার দোকানে ১৫ লাখ টাকার মালামাল ছিল। নগদ ছিলো ১২ হাজার টাকা। মা-মনি টেইলার্সের মালিক স্বপন কুমার নাথ জানান তার দোকানে ৬ লাখ টাকার মালামাল ছিলো। আল আযীয ফার্মেসীর মালিক মুন্না জানান তার দোকানে ১৫ লাখ টাকার ওষুধ ছিলো। খান ফার্মেসীর মালিক ডা. জাফর খান জানান তার দোকানে প্রায় ৬ লাখ টাকার ওষুধ ছিলো। এছাড়া ছোট দোকানগুলোতে প্রায় ৫ লাখ টাকার মালামাল ছিলো বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার রাতেও দোকান বন্ধ করে বাড়িতে চলে যান ব্যবসায়ীরা। পৌরবাজারের এই টিন শেড মার্কেটটিতে প্রায় ২৫টি ছোট-বড় দোকান ছিলো। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টায় পৌরবাজারের রনি সু স্টোর ও মা-মনি টেইলার্সের পেছন থেকে আগুনের ধোঁয়া প্রথমে দেখা যায়। পরবর্তীতে মহূর্ত্বের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখায় পুরো মার্কেটে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। মিরসরাই ফায়ার সার্ভিস স্টেশান ও সীতাকুন্ড ফায়ার সার্ভিস স্টেশানের ২টি ইউনিট ও স্থানীয়দের সহায়তায় প্রায় ২ঘন্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রনে আনা সক্ষম হয়। ততক্ষণে মার্কেটের সব দোকান আগুনে ভষ্মিভ’ত হয়ে যায়। পুড়ে যায় গুরুত্বপূর্ণ সব কাগজপত্র।
মিরসরাই ফায়ার সার্ভিসের স্টেশান অফিসার রবিউল আজম জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টায় অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে মিরসরাই ও সীতাকু- ফায়ার সার্ভিস স্টেশানের ২টি ইউনিটের মোট ৫টি গাড়ি প্রায় দেড় ঘন্টা অভিযান চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। বৈদ্যুতিক সর্ট সার্কিটে আগুনের সূত্রপাত ঘটতে পারে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কেটটিতে আগুন নিয়ন্ত্রণের কোন ব্যবস্থা না থাকায় ও টিন শেডের ঘর হওয়ায় মহূর্ত্বের মধ্যে আগুন সব দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পাশ্ববর্তী জনতা ব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো রক্ষ করতে সক্ষম হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ