ঢাকা, রোববার 10 February 2019, ২৮ মাঘ ১৪২৫, ৪ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

মেলা থেকে ফেরা মানুষের হাতে বই আর বই

ইবরাহীম খলিল : অমর একুশে গ্রন্থমেলার নবম দিন শনিবার ছুটির দিন থাকায় বেলা ১১টা থেকে শুরু হয় গ্রন্থমেলা। সকালে ছিল শিশুপ্রহর। সকাল থেকে আবহাওয়া মেঘলা ও শীত কিছুটা বেশি বলে মনে হলেও শিশুরা বাড়িতে বসে থাকেনি। মা-বাবার হাত ধরে দলে দলে বইমেলায় এসেছে। কিনেছে পছন্দের এক বা একাধিক বই। এদিন সকাল ১০টায় থেকে বাংলা একাডেমির আয়োজনে শিশুদের উপস্থিত বক্তৃতা ও সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় বাংলা একাডেমির ভেতরে বইমেলার মূল মঞ্চে। সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতা পর্বে ৫০টি প্রশ্নের উত্তর দেয় শিশুরা। উপস্থিত বক্তৃতা পর্বে লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত বিষয়ে বক্তৃতা দেয় শিশুরা। মেলার দ্বিতীয় প্রহর শুরু হয় বিকেল ৩টায়। ছুটির দিন সন্ধ্যায় উপচে পড়া ভিড় ছিল বইপ্রেমী ক্রেতা-দর্শনার্থীদের। মেলাঙ্গন থেকে শত শত মানুষ বাড়ি ফেরার পথে সবার হাতে হাতেই ছিল বই আর বইয়ের ব্যাগ।
 মেলার নবম দিন প্রতিটা প্রকাশনী সংস্থা থেকে বেশকিছু নতুন বই এসেছে। এ দিনে বাংলা একাডেমিতে নতুন বই জমা পড়ে ২৬৩টি। এর আগের দিন পর্যন্ত  নতুন বই জমা পড়ে ১ হাজার ৯৫টি। গল্প-উপন্যাস-কবিতা-প্রবন্ধ-অনুবাদ-শিশুসাহিত্য সব ধরনের বই আছে এ তালিকায়। এদিন পর্যন্ত সাহিত্যের বিভাগ অনুযায়ী বই জমা পড়ে: গল্প ১০৭টি, উপন্যাস ১২২টি, প্রবন্ধ ৪৫টি, কবিতা ১৬১টি, গবেষণা ১২টি, ছড়া ২৩টি, জীবনীগ্রন্থ ১৯টি, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গ্রন্থ ২৭টি, নাটক ৮টি, বিজ্ঞানবিষয়ক বই ১৩টি, ভ্রমণকাহিনি ১৫টি, ইতিহাসমূলক ১৩টি, রাজনীতিবিষয়ক ৫টি, চিকিৎসাসংক্রান্ত ৫টি, রম্য ৬টি, ধর্মীয় ১টি, অনূদিত বই ৩টি, সায়েন্স ফিকশন/গোয়েন্দা ১১টি এবং বাকিগুলো অন্যান্য।
প্রতিদিন বইমেলার মূলমঞ্চে গতকাল বিকেল ৪টার সময় শুরু হয় আলোচনা পর্ব। আলোচনার বিষয় ছিল- ‘চিত্রশিল্পী  সৈয়দ জাহাঙ্গীর : শ্রদ্ধাঞ্জলি’। মূল প্রবন্ধটি উপস্থাপন করেন মঈনুদ্দীন খালেদ। আলোচনায় অংশ নেন ফরিদা জামান, নিসার হোসেন ও মলয় বালা। সভাপতিত্ব করেন হাশেম খান। এরপর শুরু হয় কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, আবৃত্তি ও সংগীত সন্ধ্যা।
অমর একুশে গ্রন্থমেলার এবারের সংযোজন ‘লেখক বলছি’ মঞ্চে গতকাল উপস্থিত ছিলেন কবি মাহবুব সাদিক, কবি কুমার চক্রবর্তী, কবি মারুফ রায়হান, কথাশিল্পী পাপড়ি রহমান ও কবি-কথাসাহিত্যিক মাহবুব আজীজ। এ মঞ্চে বিকেল ৫টা থেকে ৭টা পর্যন্ত প্রতিদিন পাঁচজন করে লেখক উপস্থিত থাকেন। প্রত্যেকে ২০ মিনিট করে এই মেলায় প্রকাশিত বই নিয়ে কথা বলেন। সঞ্চালনায় থাকেন বাংলা একাডেমির কর্মকর্তারা। মেলার নবম দিন মোড়ক উন্মোচন মঞ্চে মোড়ক উন্মোচন করা হয় ৯০টি বইয়ের। সবমিলে এবারের মেলার সর্বোচ্চসংখ্যক ২১৮টি নতুন বই প্রকাশ পেয়েছে আজ। এ নিয়ে নয়দিনে এবারের মেলায় মোট ১ হাজার ৩শ ১৩টি নতুন বই প্রকাশিত হলো। প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে রয়েছে, ‘শহীদুল জহিরের উপন্যাস সমগ্র’ ও ‘শহীদুল জহিরের গল্পসমগ্র (কথা প্রকাশ), সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর ‘প্রবন্ধসমগ্র’ (বিদ্যা প্রকাশনী)’ আবদুল ওয়াহাবের ‘বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ: রাষ্ট্রতত্ব ও বাঙালির স্ব-শাসন’ ও আনিস আহমেদের ‘জয় বঙ্গবন্ধু জয় শেখ হাসিনা’ (জোনাকী প্রকাশনী), সেলিনা হোসেনের ‘গল্পের নদীতে খেয়াঘাট’, হাবীবুল্লাহ সিরাজীর ‘ঈহা’, মুনতাসীর মামুনের ‘রাজার নতুন পোশাক’ ইমদাদুল হক মিলনের ‘ উপন্যাস ত্রয়ী (পাঞ্জেরী)’ উল্লেখযোগ্য।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ