ঢাকা, রোববার 10 February 2019, ২৮ মাঘ ১৪২৫, ৪ জমাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সরস্বতিপূজা আজ

স্টাফ রিপোর্টার : ‘সরস্বতী মহাভাগে বিদ্যে কমললোচনে/ বিশ্বরূপে বিশালাক্ষী বিদ্যংদেহী নমোস্তুতে’ এই মন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে আজ রোববার বাণী অর্চনা, বিদ্যার দেবী শ্রী শ্রী সরস্বতী পূজা উদযাপিত হবে। এ দিন বিদ্যা ও জ্ঞানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সরস্বতীর চরণে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবেন হিন্দু সম্প্রদায়ের অগণিত ভক্ত।
প্রতি বছর মাঘ মাসের শুক্লা পঞ্চমীতে সরস্বতী পূজা হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। বিদ্যার দেবী হওয়ায় শিক্ষার্থীরাই এ উৎসব পালন করে থাকে বেশি। এ জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই বেশি সরস্বতীর আরাধোনা করা হয়ে থাকে। তবে পঞ্জিকা মতে এবার পঞ্চমী তিথি শনিবার সকাল থেকে শুরু হওয়ায় অনেক বাসাবাড়ি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার সকাল ১০টার মধ্যেই পূজা শুরু করার বাধ্যবাধকতা আছে।
সরস্বতী পূজা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তারা দেশে বিদ্যমান সম্প্রীতির সুমহান ঐতিহ্যকে আরও সুদৃঢ় করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। আবহমানকাল থেকে এ দেশের মানুষ পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের মধ্য দিয়ে নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করে আসছে। দেশে বিদ্যমান সম্প্রীতির এই সুমহান ঐতিহ্যকে আরও সুদৃঢ় করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখতে হবে।’
সরস্বতী পূজা উপলক্ষে তিনি দেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, সরস্বতী পূজা বাংলাদেশে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি ধর্মীয় উৎসব। ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায়-নির্বিশেষে এই উৎসবে সবার অংশগ্রহণ এ দেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনায় ও ঐতিহ্যে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।
সরস্বতী পূজা উপলক্ষে সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণীতে সবাইকে জ্ঞানার্জনে ব্রতী হয়ে দেশ গঠনে আত্মনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিদ্যা, বাণী ও সুরের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সরস্বতী সত্য, ন্যায় ও জ্ঞানালোকের প্রতীক।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে রয়েছে সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের নিজ নিজ ধর্ম পালনের পূর্ণ স্বাধীনতা। আবহমানকাল ধরে এখানে জাতি-ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সকল ধর্মের মানুষ মিলেমিশে একত্রে বসবাস করে আসছেন। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে পালন করেছেন। ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। পারস্পরিক এ সম্প্রীতি সামনের দিনগুলোতে আরও সুদৃঢ় হবে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মতে দেবী সরস্বতী সত্য, ন্যায় ও জ্ঞানালোকের প্রতীক। বিদ্যা, বাণী ও সুরের অধিষ্ঠাত্রী। অজ্ঞতার অন্ধকার দূর করতে কল্যাণময়ী দেবীর চরণে বিদ্যা ও জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রণতি জানাবেন তারা। সরস্বতী পূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায় বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা বাণী অর্চনাসহ নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
রাজধানীসহ সারা দেশের মন্দির ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পূজা ছাড়াও অন্য অনুষ্ঠানমালায় আছে পুষ্পাঞ্জলি প্রদান, প্রসাদ বিতরণ, ধর্মীয় আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সন্ধ্যা আরতি, আলোকসজ্জা প্রভৃতি।
প্রতি বছরের মতো এবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে সাড়ম্বরে বিদ্যা ও আরাধনার অধিষ্ঠাত্রী দেবী সরস্বতী পূজার আয়োজন করা হয়েছে। আজ সকালে শুরু হবে পূজার্চনা এবং অঞ্জলি প্রদান। এ ছাড়াও সকালে হাতেখড়ি এবং প্রসাদ বিতরণ করা হবে। সন্ধ্যায় আরতি এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এ ছাড়াও হলজুড়ে বিভিন্ন বিভাগ ও ইন্সটিটিউটের বিদ্যার্থীরা পূজার আয়োজন করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে রাত ১২টা ১ মিনিটে প্রতিমা স্থাপন, সকাল ৯টায় পুষ্পাঞ্জলি এবং পরে প্রসাদ বিতরণ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ