ঢাকা, শুক্রবার 13 September 2019, ২৯ ভাদ্র ১৪২৬, ১৩ মহররম ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

চট্টগ্রামে ভারী বৃষ্টিপাত ॥ বিভিন্ন স্থানে পানিবদ্ধতা ॥ ভূমি ধসের আশঙ্কা

চট্টগ্রাম ব্যুরো- গত বুধবার দিবাগত মধ্য রাত থেকে বৃহস্পতিবার সারাদিন চট্টগ্রাম মহানগরী ও আশেপাশের এলাকায় থেমে থেমে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় পানিবদ্ধতা দেখা দেয়। একদিকে জোয়ারের পানি ও অন্যদিকে ভারী বৃষ্টিপাতে পানি জনজীবনে দুর্ভোগ সৃষ্টি করে। এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত সন্ধ্যা ৭টার দিকে চট্টগ্রাম মহানগরীতে বৃষ্টিপাত অব্যাহত ছিল।

এদিকে পানিবদ্ধতার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে ভাংগা সড়ক জনসাধারনকে চরম দুগর্তিতে ফেলে। ভারী বর্ষণে গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম মহানগরীর চকবাজার, বহদ্দারহাট, বাদুরতলা, শুলকবহর, কাপাশগোলা, কে.বি. আমানআলী রোড, বাকলিয়া, আগ্রাবাদ সিডিএ, আগ্রাবাদ এক্সেস রোড, বেপারিপাড়া, মোল্লাপাড়া, পোর্ট কনেকটিং রোড, মুহুরীপাড়া, হাজীপাড়া, প্রবর্তক মোড়, মুরাদপুর, ষোলশহর ২ নম্বর গেট, হালিশহরবড়পুল, ছোটপুল, হালিশহর,  চান্দগাঁও, জিইসি মোড়,   কাতালগঞ্জ, ষোলশহর ২ নম্বর গেইট, চাক্তাই, মিঞাখান নগর, রাজাখালী, পাথরঘাটা মুরাদপুর, বায়েজীদ, মোহাম্মদপুর,   চান্দগাও  খাজারোড, হামজারবাগ, মোহাম্মদপুর,  নয়াবাজার বিশ্বরোড, রেয়াজউদ্দিনবাজার, তিন পোলেরমাথা, হেমসেন লেন, জামালখানবাই লেন, ফিরিংগীবাজার, এয়াকুবনগর, মেহেদীবাগ,  কাট্রলি, পাহাড়তলী, খুলশীসহ প্রায় এলাকায় কোথাও হাটুসমান ও কোথাও কোমরসমান  পানি হয়েছে। ডুবে যায়   দোকান, বাসা-বাড়িও।

শাহআমানত  ব্রিজ থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত প্রধান সড়কের বেশ কয়েকটি এলাকা পানিতে ডুবে যাওয়ায় যানচলাচলে ধীরগতি নেমে আসে। নগরজুড়ে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজটের। এতে আটকা পড়েন বিমানবন্দরের যাত্রী, রোগীসহ নানা শ্রেণি ও পেশার মানুষ।

বৃষ্টির কারণে জোয়ারের পানিতে আগ্রাবাদ মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালের নিচতলায় হাঁটু পানি জমে। এতে হাসপাতালের শিশু বিকাশ কেন্দ্র, জেনারেল ওয়ার্ড, বহির্বিভাগ ও প্রশাসনিক কার্যালয় বন্ধ করে দেওয়া হয়। 

এদিকে ভারী বর্ষণে ভুমিধসের শঙ্কা থাকায় সরকারি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন ১৭ পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বাস করা লোকজনকে সরাতে কার্যক্রম চালিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) দেলোয়ার হোসেন  জানান, ভারী বর্ষণে ভূমিধসের সম্ভাবনা থাকায় নগরের বিভিন্ন পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বাস করা লোকজনকে সরিয়ে নিতে মাইকিং কার্যক্রমসহ সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাচ্ছে জেলা প্রশাসন।তিনি বলেন, সেখান থেকে লোকজনকে সরে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে উদ্বুদ্ধ করছেন আমাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেরা। ঝুঁকিপূর্ণভাবে বাস করা এসব লোকজনের জন্য ৮টি আশ্রয়কেন্দ্র এবং পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এদিকে আবহাওয়া অফিসের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মৌসুমী বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, বিহার, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ অতিক্রম করে বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে তা প্রবল অবস্থায় বিরাজমান রয়েছে। রংপুর, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ী দমকা/ঝড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরণের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য অব্যাহত রয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে তিন নম্বর   স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ