ঢাকা, শনিবার 21 September 2019, ৬ আশ্বিন ১৪২৬, ২১ মহররম ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

কাশ্মীরের অনেক বন্দীকে রাখা হয়েছে ৭শ কিলোমিটার দূরে

২০ সেপ্টেম্বর, বিবিসি : বিজেপি সরকার ৫ অগাস্ট কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল ঘোষণার আগে ভারত-শাসিত কাশ্মীরে গৃহবন্দী করা হয় আঞ্চলিক ও রাজনৈতিক নেতাদের। আটক করা হয় হাজার হাজার আন্দোলনকর্মী, স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীকে। একইসঙ্গে কাশ্মীরে মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক, ল্যান্ডলাইন এবং ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী কাশ্মীর থেকে কয়েক শত বন্দীকে দেশটির অন্যান্য অঞ্চলের কারাগারে স্থানান্তর করেছে। কর্মকর্তারা বিবিসিকে জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে ৮০ জনেরও বেশি বন্দীকে আগ্রায় পাঠানো হয়েছে।

বিবিসি সংবাদদাতা ভিনিত খারে উত্তর প্রদেশের আগ্রার সেই কারাগার পরিদর্শন করেছেন। কোন এক শুক্রবারে ভিনিত খারে আগ্রার কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্ধ গেটের বাইরে একটি বিশাল ওয়েটিং হলে অপেক্ষারত কাশ্মীরের সেই বনিদের কয়েকজনের স্বজনের সঙ্গে কথা বলেন। পরিবারের কারাদ- পাওয়া সদস্যদের সাথে সাক্ষাতের পালা কখন আসবে তার জন্য তারা ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করছিলেন।

অপেক্ষারতদের একজন এসেছেন কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে পুলওয়ামা শহর থেকে। তিনি তার ভাইয়ের সাথে দেখা করার অপেক্ষায় ছিলেন, যাকে ৩৪অগাস্টের রাতে নিরাপত্তা বাহিনী ধরে নিয়ে যায়। তিনি বলেন, তাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয় তা আমাদের জানানো হয়নি। সে একজন সাধারণ গাড়িচালক। ভাইয়ের খোঁজ জানতে তিনি নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সাথে বার বার দেখা করেন। সে সময় তাকে বলা হয় যে তাঁর ভাইকে শ্রীনগরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এরপর অনেক চেষ্টা করার পরে তিনি জানতে পারেন যে তার ভাইকে আসলে আগ্রায় আনা হয়েছে।

তিনি ২৮ অগাস্ট আগ্রার পৌঁছালেও জানতে পারেন যে তার কথা প্রমাণ করতে কাশ্মীরের স্থানীয় পুলিশের কাছ থেকে একটি ‘যাচাইকরণের চিঠি’ বা ভ্যারিফিকেশন লেটার আনতে হবে। তাই তিনি আবারও পুলওয়ামায় যান এবং চিঠিটি নিয়ে আগ্রায় ফিরে আসেন।

আবদুল ঘানির দুর্দশাও প্রায় একই রকম। এই দিনমজুর শ্রমিক তার ছেলে এবং ভাগ্নের সাথে দেখা করতে কাশ্মীরের কুলগাম শহর থেকে আগ্রা পর্যন্ত ট্রেন এবং বাসে যাত্রা করে এসেছেন – তাকে জানানো হয় যে এখানে ওই দুজনকেই রাখা হয়েছে। তিনি জানান, তাদের দুজনকে রাত দুইটার দিকে গভীর ঘুমের মধ্যে তুলে নিয়ে যায়। কেন তাদেরকে সেদিন তুলে নেওয়া হয়েছে তার কারণ কেউ আমাদের জানায়নি। তারা কখনই নিরাপত্তা বাহিনীর দিকে পাথর নিক্ষেপ করেনি। আবদুল ঘানি ‘ভেরিফিকেশন লেটার’ সাথে না আনায় বেশ দুশ্চিন্তার মধ্যে ছিলেন। তিনি বলেন, আমি জানতাম না যে আমাকে এ ধরণের কোন চিঠি আনতে হবে। তিনি আরও জানান যে, তাকে ইতিমধ্যে আগ্রায় ভ্রমণের জন্য ১০,০০০ রুপি ব্যয় করতে হয়েছে। এবং পুনরায় ভ্রমণের সামর্থ্য তার নেই।

কয়েক ঘণ্টা পরে, তাদের গেটের ভেতরে যাওয়ার সময় আসে। আবদুল ঘানির আর্জি মঞ্জুর হওয়ার পর তাকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। এক ঘণ্টা পরে তিনি হাসি মুখে বের হয়ে আসেন। বললেন, আমার ছেলে অনেক উদ্বিগ্ন ছিল। কিন্তু আমি তাকে বলেছি যে বাড়িতে সবকিছু ঠিকঠাক আছে।

সন্ধ্যা নাগাদ ওয়েটিং হলটি প্রায় খালি হয়ে পড়ছে, তখন আমি লক্ষ্য করলাম যে একজন নারী এবং একজন পুরুষ জেলখানার গেটের দিকে খুব দ্রুত গতিতে দৌড়ে আসছে। তারা শীনগর থেকে দিল্লি গিয়েছিলেন এবং সেখান থেকে ট্যাক্সি ভাড়া করো করে আগ্রায় এসেছেন। পৌঁছান।

কর্মকর্তাদের কাছে একটি অনুরোধপত্র জমা দেওয়ার পরে তাদেরকে ২০ মিনিটের জন্য তাদের ভাইয়েরর সাথে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়। তারেক আহমেদ দার জানালেন, আমরা আরও কিছুক্ষণ আগে এলে ভাইয়ের সাথে দেখা করার জন্য ৪০ মিনিটের মতো সময় পেতাম। তার কারাবন্দী ভাইযয়ের তিনটি সন্তান রয়েছে। ওই কারাগারে কেবলমাত্র মঙ্গলবার এবং শুক্রবারেই দেখা করার অনুমতি রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ