ঢাকা, শনিবার 21 September 2019, ৬ আশ্বিন ১৪২৬, ২১ মহররম ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

দখল দূষণে এককালের খরস্রোতা কপোতাক্ষ এখন মৃতপ্রায়!

চৌগাছা (যশোর) সংবাদদাতা : যশোরের চৌগাছা উপজেলার মধ্যভাগ দিয়ে বয়ে যাওয়া এককালের খর¯্রােতা কপোতাক্ষ নদ এখন মৃতপ্রায়। দখল, দূষণ আর পলি জমার কারণে তার এ অবস্থা হয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞ মহল। জানাযায় উপজেলার উত্তর সীমান্ত লাগোয়া তাহেরপুর গ্রামে ভৈরব নদী থেকে কপোতাক্ষ নদের জন্ম। এরপর দুটি নদী পাশাপাশি বয়ে এসে মুক্তদহ নামক স্থান থেকে ভৈরব পূর্বদিকে মোড় নিয়ে মর্যাদ বাওড়ের পাদদেশ হয়ে যশোর শহরের দিকে চলে যায়। আর কপোতাক্ষ নদ চৌগাছা উপজেলার মধ্যভাগ দিয়ে ভারতীয় সীমান্ত ঘেঁষে ঝিকরগাছা, মনিরামপুর, কেশবপুর, পাটকেলঘাটা, তালা, কপিলমুনি ও পাইকগাছা হয়ে সুন্দরবন এলাকায় গিয়ে শিবসা নদীর সাথে মিশে বঙ্গপোসাগরে গিয়ে মিশেছে। কপোত অর্থ কবুতর আর আঁখি অর্থ চোখ অর্থাৎ কপোতের আঁখির মত স্বচ্ছ পানি হওয়ার কারণে এ নদের নামকরণ করা হয় কপোতাক্ষ। বৃটিশ আমলে এ নদের তীরে তাহেরপুর গ্রামে তারা চিনির কল গড়ে তোলে। এখান থেকে চিনি বহনের জন্য তারা বড় বড় জাহাজ ব্যবহার করতো। জাহাজ নোঙ্গর করার স্থানগুলো আজো দৃশ্যমান আছে। কিন্তু কপোতাক্ষের সেই স্বচ্ছ নির্মল পানি আর জোয়ার ভাটার সেই টান আর নেই। নিচেই জমেছে পলি, উপরে ফেলছে পৌর কর্তৃপক্ষ শহরের আর্বজনা, পানিতে মিশিয়ে দিচ্ছে স্যুয়ারেজ লাইনের দূষিত ময়লা পানি, আর সুযোগ সন্ধানীরা দখল করে নিচ্ছে নদীর দুই পাড়। এভাবেই মৃত্যুর প্রহর গুণছে মধু কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতি বিজড়িত কপোতাক্ষ নদ। কপোতাক্ষ নদ এক সময় চৌগাছাবাসীর গর্ব হলেও আজ যেন সবাই ভুলতে বসেছে তার অবদান। সে সময় চৌগাছার ব্যবসা বাণিজ্যের মূলকেন্দ্র ছিল এই নদ। সকল প্রকার পণ্য আনা নেয়া হতো এই কপোতাক্ষ নদ দিয়ে। নদীর তীরে বসবাসকারী শতশত জেলে পরিবারের সংসার চলতো এই নদীতে মাছ ধরে। এখন নদী তীরের সেসব জেলে পল্লীতে আজ চলছে হাহাকার। নদীতে মাছ না থাকার কারণে তারাও বেকার অনেকে পেশা বদল করে অন্য পেশা ধরেছে। নদীতে আর্বজনা ফেলা ও দূষিত পানি দেয়ার ব্যাপারে চৌগাছা পৌরসভার মেয়র নুর উদ্দিন আল মামুন হিমেলের সাথে কথা বলার জন্য বৃহস্পতিবার তার অফিসে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। সেলফোনে ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। নদী আন্দোলনের নেতা মাস্টার আব্দুল জলিল বলেন কপোতাক্ষকে বাঁচাতে হলে এখনই নদীর সীমানা চিহ্নিত করতে হবে, পলি খনন করতে হবে এবং আর্বজনা ফেলা বন্ধ ও দূষিত পানি নদীতে দেয়া বন্ধ করতে হবে। সংবাদকর্মি আজিজুর রহমান বলেন কর্তৃপক্ষ যতদিন সীমানা চিহিৃত করে দখলমুক্ত না করলে নদীকে বাঁচানো যাবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ