ঢাকা, সোমবার 30 September 2019, ১৫ আশ্বিন ১৪২৬, ৩০ মহররম ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

কেশবপুরে কৃষকের বাধার মুখে বুড়িভদরা পাড়ে পাউবোর বৃক্ষ রোপণ 

কেশবপুর (যশোর) সংবাদদাতা : যশোরের কেশবপুর উপজেলার মঙ্গলকোট ব্রিজের দু’পাশে কৃষকদের বাধার মুখে শনিবার সকালে পানি উন্নয়ন বোর্ড বুড়িভদরা নদীর দু‘পাড়ে ফলদ বৃক্ষের চারা রোপণ করেছে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে ৪ কৃষককে আটক করা হয়। এনিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।  জানা গেছে, বুড়িভদরা নদীর খনন কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর নদীর দু’পাড় সুরক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড উপজেলার মঙ্গলকোট ব্রিজের দু’পাশে প্রায় ১০ কিলোমিটার সামাজিক বনায়ন সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ শুরু করে। এ লক্ষ্যে শনিবার সকালে ওই নদীর পাড় দিয়ে সাড়ে ৯ হাজার বিভিন্ন ফলদ বৃক্ষ নিয়ে চারা রোপণের পরিকল্পনা নেয়া হয়। শনিবার সকালে ওই নদীর পাড় দিয়ে গাছ লাগানো শুরু করলে এলাকার শত শত কৃষক জমির মালিকানা দাবি করে বাধা প্রদান করে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে পুলিশ কৃষক ইসমাইল হোসেন, আব্দুর রহিম, ফজলুর রহমান ও আব্দুল আজিজ মোড়লকে আটক করে। পরে কৃষকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে বৃক্ষ রোপণ শুরু করা হয়। 

আলতাপোল গ্রামের মৃত দিলীপ কুমার ঘোষের ছেলে মিহির চন্দর ঘোষ জানান, বুড়িভদরা নদীর প্রস্থ ৬৬ ফুট। চলতি বছর পানি উন্নয়ন বোর্ড ৬৬ ফুট নদী খনন করে মাটি কৃষকের জমির ওপর রাখে। এ সময় কৃষকরা বাঁধা সৃষ্টি করলে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ঠিকাদার যৌথভাবে পরবর্তীতে মাটি সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দেয়। কিন্তু নদী খনন হওয়ার পর পানি উন্নয়ন বোর্ড ওই মাটি না সরালে কৃষকরা তা সমান করে কৃষি কাজের জন্যে উপযুক্ত করে নেয়। এদিকে, সরকারের বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচীর অংশ হিসেবে পাইবো ওই জমির ওপর বৃক্ষ রোপণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। দিশেহারা হয়ে এলাকার কৃষকের পক্ষ থেকে গত ২৫ আগস্ট তিনি কেশবপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারি প্রকৌশলীকে বিবাদি করে যশোর বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৪/১৪৫ ধারায় মামলা করেন। যার নং- পি-৯০১/১৯। বিজ্ঞ আদালত শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্যে কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) নির্দেশ দেন। এরপরও আদালতের এ নির্দেশনা উপেক্ষা করে পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রশাসনের সহযোগিতায় ওই স্থানে বৃক্ষ রোপণ করতে যায়। এলাকার কৃষক ইব্রাহিম হোসেন, শহিদুল ইসলাম, শংকর বিশ্বাস ও আনিছুর মোড়ল জানান, নদীর পাড়ে তাদের সামান্য কৃষি জমি আছে। এই জমিতে সবজিসহ বিভিন্ন ধরণের ফসল ফলিয়ে তারা জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। নদী খননকালে মাটি রাখার জন্যে এই জমি থেকে ২০ ফুট করে জমি তাদের ছাড়তে হয়েছে। এরপরও পাউবো তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি জবর দখল করে বৃক্ষ রোপণ শুরু করে। যে কারণে কৃষকরা বাঁধা সৃষ্টি করছে।   মঙ্গলকোট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন বলেন, নদী খননের পর পানি উন্নয়ন বোর্ড নদীর দু’পাড়ে ১০ কিলোমিটার ফলদ বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচী গ্রহণ করে। শনিবার সকালে ওই নদীর পাড় দিয়ে পাউবো বৃক্ষ রোপণ করতে আসলে কৃষকরা বাঁধা সৃষ্টি করে। এ সময় পুলিশ ৪ কৃষককে আটক করে। পরে তাদেরকে আমার জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়।    এ ব্যাপারে কেশবপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মুন্সি আসাদুল্লাহ জানান, নদীর দু‘পাড়ে কোথাও সরকারি জায়গা আছে আবার কোথাও নেই। কিন্তু তারপরও সরকারের কর্মসূচীর অংশ হিসেবে ফলদ বৃক্ষ রোপণ করা হচ্ছে।  উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানূর রহমান বলেন, এলাকাটি ছিল বন্যা ও জলাবদ্ধ কবলিত। চলতি বছর বুড়িভদরা, আপার ভদরা ও হরিহর নদীসহ ছোট বড় ৬১টি খাল খনন করে বন্যা ও জলাবদ্ধমুক্ত করা হয়েছে। নদীর পাড় যাতে ধসে নদীতে না পড়ে সেজন্যে সরকারের কর্মসূচীর অংশ হিসেবে দু‘পাড়ে ফলদ বৃক্ষ রোপণ করা হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ