ঢাকা, বুধবার 26 February 2020, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬, ১ রজব ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

ঝিনুক চাষে অনেক সম্ভাবনা

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঝিনুক বিভিন্ন ধরনের শিল্প হিসাবে (যেমনঃ খাদ্য, রত্ন, সহায়ক, রসায়ন প্রভৃতি) গড়ে উঠলেও আমাদের দেশে ঝিনুক চাষের খুব একটা চল দেখা যায় না।

খাদ্য শিল্প

আমাদের দেশে মুক্তা সংগ্রহের জন্য কিছু কিছু জায়গায় ঝিনুক চাষ হলেও সেগুলো সাধারণত খাওয়া হয় না।অথচ পঞ্চাশেরও অধিক প্রজাতির ঝিনুক ভক্ষণযোগ্য। সামুদ্রিক ঝিনুক (ওয়েস্টার) বেশ দামি খাবার এবং অনেক দেশে এর খামার রয়েছে; যেমনঃ ভারতে বাণিজ্যিকভাবে সামুদ্রিক ঝিনুক উৎপাদন করা হয়।ঝিনুকে জিঙ্ক, লৌহ, ক্যালসিয়াম, সেলেনিয়ামসহ ভিটামিন এ এবং ভিটামিন বি১২-এর ন্যায় গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান রয়েছে। পাশাপাশি এতে ক্যালরির পরিমাণও কম।এক ডজন কাঁচা ঝিনুকে মাত্র ১১০ কিলোক্যালরী শক্তি সঞ্চিত থাকে। 

প্রাচীনকাল থেকেই ঝিনুক যৌন উদ্দীপনা বৃদ্ধিতে সহায়তাকারীর প্রধান উপাদান হিসেবে বিবেচিত।একদল আমেরিকা এবং ইতালীয় গবেষকগণ বিশ্লষণ করে দেখিয়েছেন যে, ঝিনুকে যথেষ্ট পরিমাণে এমিনো এসিড রয়েছে যা যৌন হরমোন সৃষ্টিতে সহায়কের ভূমিকা পালন করতে পারে। উচ্চমানের জিঙ্কে টেস্টোস্টারোন রয়েছে।এর খোলশ ক্যালসিয়াম কার্বোনেট বা চুনজাতীয় উপাদান দিয়ে তৈরী।

কাচা, সিদ্ধ, ভেজে, রোস্ট ইত্যাদি বিভিন্নভাবে খাওয়া যায়। এছাড়াও, বিভিন্ন ধরনের পানীয়ে এর ব্যবহার রয়েছে।

রত্ন শিল্প

হীরার পর সবচেয়ে দামী রত্ন বলে পরিচিত মুক্তার জন্ম হয় ঝিনুক হতে।বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সুদীর্ঘকাল থেকেই মুক্তা আহরণের জন্য ঝিনুক চাষ হয়; যেমনঃ চীনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ বছর আগে থেকে এর চাষ হয়ে আসছে।

সহায়ক শিল্প

পরিবেশের জন্য ঝিনুক খুবই গুরুত্বপূর্ণ; কারণ এটি পানি থেকে শৈবাল, জৈব পদার্থ, দ্রবীভূত ক্ষতিকারক উপাদান দূরীকরণের মাধ্যমে প্রাকৃতিকভাবে পানিকে পরিষ্কার রেখে মাছ চাষে সহাযতা করে।

বাংলাদেশের ৬৯,৯০০ বর্গকিলোমিটার সামুদ্রিক জলরাশিতে প্রায় ৩০০ প্রজাতির ঝিনুক পাওয়া যায় তবু এদেশে এটি খুব বেশি প্রসারিত হয়নি; যেমনটি হয়েছে পার্শ্ববর্তী ভারত, চীন ও জাপানে - এরা বিশ্বের অন্যতম প্রধান ঝিনুক শিল্পোন্নত দেশ।

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ