ঢাকা, শুক্রবার 17 January 2020, ৩ মাঘ ১৪২৬, ২০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

বিধ্বস্ত উড়োজাহাজের নিহত ইরানি যাত্রীদের দাফন সম্পন্ন

১৬ জানুয়ারি, রয়টার্স : তেহরানের কাছে বিধ্বস্ত ইউক্রেইনীয় উড়োজাহাজের নিহত ইরানি যাত্রীদের দাফন সম্পন্ন করেছে ইরান। গত সপ্তাহে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ভূপাতিত ওই উড়োজাহাজের ১৭৬ জন আরোহীর মধ্যে অধিকাংশের শনাক্তকরণ সম্পন্ন হয়েছে বলে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

৮ জানুয়ারির ওই ঘটনার পর থেকে ইরানজুড়ে শোক পালনের পরও মানুষের আবেগ কমেনি। লাশ সংগ্রহের সময় এক নিহতের স্বজনরা তার কফিনের ওপরে থাকা জাতীয় পতাকা ছিড়ে ফেলে। অনলাইনে পোস্ট করা এক ভিডিওতে দেখা যায়, ওই নিহতের মা চিৎকার করে বলছেন, “এটি ছিড়ে ফেলো।” ইউক্রেইন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট পিএস৭৫২-র অধিকাংশ আরোহীই ইরানি বা ইরান-কানাডা দ্বৈত নাগরিক। এদের মধ্যে অনেক শিক্ষার্থী ছিলেন যারা বিদেশে পড়াশোনার করেন। ছিল প্রবাসী বেশ কয়েকটি পরিবার, যারা দেশে স্বজনদের মধ্যে ছুটি কাটিয়ে বাড়িতে ফিরছিলেন। তেহরানের ময়নাতদন্ত দপ্তরের প্রধান জানিয়েছেন, ১৭৬ জন নিহতের মধ্যে এ পর্যন্ত ১২৩ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে।

নিহতদের অনেককে তেহরানের দক্ষিণে বেহেশত ই জাহরা গোরস্তানে দাফন করা হয়েছে। অন্যান্যদের বিদেশে পাঠানো হবে বলে ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে। 

শনিবার ইরানি সশস্ত্র বাহিনী তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়েছে স্বীকার করার পর থেকেই ইরানজুড়ে বিক্ষোভ হচ্ছে। চার দিন পার হলেও বিক্ষোভ থামেনি। কয়েকটি জায়গায় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ইরানিরা বুধবারও প্রতিবাদের ডাক দিয়েছে। তবে আগের দিনগুলোর মতো মিছিল এ দিন দেখা যায়নি বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এর বদলে গণমাধ্যমে আসা ভিডিওগুলোতে বিক্ষোভের কেন্দ্রস্থল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সামনে প্রচুর দাঙ্গা পুলিশের উপস্থিতি দেখা গেছে। আগের বিক্ষোভগুলোর ফুটেজে দেখা গেছে, প্রতিবাদকারীদের লাঠি পেটা করছে পুলিশ, গুলির শব্দ, কাঁদুনে গ্যাস ও মাটিতে ছোপ ছোপ রক্তের দাগও দেখা গেছে। 

স্বাধীন প্রতিবেদনের ওপর বিধিনিষেধ থাকায় বিরাজমান অস্থিরতা ও তা নিয়ন্ত্রণে আনতে চালানো দমনপীড়নের পুরো চিত্র নির্ধারণ কঠিন বলে জানিয়েছে।

গুলির কথা অস্বীকার করে পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভের ব্যাপারে সর্বোচ্চ সহনশীলতা দেখানোর জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কানাডার পরিবহনমন্ত্রী মার্ক গার্নাউ জানিয়েছেন, ইরানে যাওয়া কানাডীয় তদন্তকারীরা তেহারানের কাছে উড়োজাহাজের বিধ্বস্ত হওয়ার স্থানটি পরিদর্শন করেছেন এবং বুধবার তাদের বিধ্বস্ত উড়োজাহাজের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করে দেখার কথা রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ