ঢাকা, শুক্রবার 17 January 2020, ৩ মাঘ ১৪২৬, ২০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

সাপাহারে অতিথি পাখিদের কলতানে মুখরিত ঐতিহ্যবাহী জবাই বিল 

সাপাহার (নওগাঁ) সংবাদদাতা:নওগাঁর সাপাহার ঐতিহ্যবাহী জবাই বিল এখন পরিযায়ী (অতিথি) পাখির কলতানে মুখরিত। সুদুর রশিয়া, সাইবেরিয়া সহ বিশ্বের শীত প্রধান দেশ হতে শত শত পাখি বিলে এসে পাখি সৌন্দর্য্যরে বিকাশ ঘটাচ্ছে।

অতি প্রত্যুষে সরেজমিনে বিল এলাকায় গিয়ে এ দৃশ্য দেখা গেছে, বিদেশ থেকে আগত পিয়াং হাঁস, পাতি সরালি, লেঙজা হাঁস, বালি হাঁস, পাতি কূট সহ দেশী জাতের শামুকখোল, পানকৌড়ী, ছন্নি হাঁস বিল এলাকা মুখরিত করে তুলছে। অতীতে এক শ্রেণীর পাষান ব্যক্তি অবাধে এসব অতিথি পাখি শিকার করে হাটবাজারে বিক্রি করত। এমনকি গত বছরও এলাকার কতিপয় ব্যক্তি এ বিল হতে বেশ কিছু পাতি সরালি হাঁস ফাঁদ পেতে ধরে বিক্রিয় করার সময় জবাই বিল জীববৈচিত্র সংরক্ষন ও সমাজ কল্যাণ সংস্থার সদস্যগণ তাদের হাতে-নাতে ধরে ফেলেন। পরে ওই পাখি শিকারীদের উপজেলা নির্বাহী অফিসার কল্যাণ চৌধুরীর নিকট নিয়ে এলে তিনি ভ্রাম্যমান আদালতে তাদের শাস্তি প্রদান করেন। এর পর হতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কঠোরতা ও জীববৈচিত্র সংরক্ষন কমিটির সদস্যদের জোরালো নজর দারিতে বিল এলাকায় যে কোন ধরনের পাখি শিকার বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে পুরো বিল এলাকা দেশী-বিদেশী পাখির কলতানে মুখরিত হয়ে উঠছে। বিলে অতিতের মত কচুরি পানা না থাকায় ও এলাকার মানুষ হিংস্র সভাবের হওয়ায় ধিরে ধিরে এক সময় বিলে পাখি আসাই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। বেশ কয়েক বছর ধরে ওই এলাকার কিছু উৎযোগী যুবক জবাই বিল জীববৈচিত্র সংরক্ষন ও সমাজ কল্যাণ সংস্থা নামে একটি সংগঠন তৈরী করে বিলে অতিথি পাখি সহ সব ধরনের পাখি শিকার বন্ধ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। বিলে কোন কচুরিপানা না থাকলেও সরকারী ও বে-সরকারী ভাবে মৎস্যজীবিগন খরা মৌসুমে বিলের পানি শুকিয়ে গেলে মা মাছগুলি রক্ষায় বিলের মধ্যে বেশ কিছু এলাকায় বাঁশ কাঠ ও কিছু কচুরিপানা দিয়ে কাঠা নামের একটি করে মাছের অভয়াশ্রম গড়ে তোলে, খরা মৌসুমে মা মাছগুলি যাতে ওই স্থানে লুকিয়ে থাকতে পারে। বর্তমানে জীববৈচিত্র সংরক্ষন কমিটির সদস্যদের প্রচেষ্টাও মৎসজীবিদের তৈরীকৃত কচুরিপানার কাঠা থাকায় অতিতের মত আবারো শীত মৌসুমে দেশি- বিদেশী পাখিরা অবাধে বিলে আসতে শুরু করেছে। ভবিষ্যতে বিলের বিশাল অংশে কচুরিপানা দিয়ে মাছ সহ পাখিদের বড় ধরণের অভয়াশ্রম এবং বিলের বিভিন্ন দীপগুলোতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগিয়ে বনাঞ্চল তৈরী করলে সারা বছর বিল এলাকায় পাখিদের আনাগোনায় জবাই বিল আবারো ফিরে পেত তার ঐতিহ্য ও নাব্যতা বলে জীববৈচিত্র সংরক্ষন কমিটির সভাপতি সোহানুর রহমান সবুজ জানিয়েছেন। ইতোমধ্যে অনেক পাখি প্রেমিক ব্যক্তিরা পাখির সৌন্দর্য্য দেখতে বিল এলাকায় ছুটে আসছে। এ বিল পাড়ে পর্যাটকদের জন্য ঘোরা ফেরা ও বসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়া হলে ভবিষ্যতে সাপাহারের জবই বিলটি অত্রালেকার একটি পর্যটক কেন্দ্রে রুপ নিতে পারে বলেও বিলে আগত অসংখ্য পর্যাটক বৃন্দ জানিয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ