ঢাকা, বুধবার 22 January 2020, ৮ মাঘ ১৪২৬, ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

ইরাকের বিক্ষোভে আবারও সহিংসতায় নিহত ৫

২১ জানুয়ারি, রয়টার্স : রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া ইরাকের বিক্ষোভে আবারও সহিংসতা হয়েছে। এতে তিনটি শহরে সোমবার অন্তত পাঁচ বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। এর মধ্যে বাগদাদে দুই জন, উত্তরাঞ্চলীয় বাকুবাহতে দুই জন আর দক্ষিণাঞ্চলের কারবালাতে নিহত হয়েছে এক জন। বাগদাদে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের তুমুল সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থল থেকে মারাত্মক আহতদের সরিয়ে নিতে দেখেছেন সাংবাদিকেরা। নিহতের কথা স্বীকার না করে ইরাকি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে সংঘর্ষের ঘটনায় ১৪ নিরাপত্তা কর্মী আহত হয়েছে। বাগদাদ থেকে আটক করা হয়েছে নয় বিক্ষোভকারীকে। এদিকে সহিংস উপায়ে বিক্ষোভ দমন যেকোনও মূল্যে এড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে ইরাকে নিযুক্ত জাতিসংঘ দূত।

সম্প্রতি নতুন নির্বাচনি আইন নিয়ে গণভোট আয়োজন, একজন স্বাধীন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ এবং দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিচারের দাবিতে এক সপ্তাহ সময় বেধে দেয় বিক্ষোভকারীরা। সোমবার ওই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে রোববার থেকেই বাগদাদসহ কয়েকটি শহরের রাস্তায় নেমে আসে ইরাকি তরুণরা। সড়ক ও সেতু বন্ধ করে দিয়ে তাদের বিক্ষোভ সোমবারও চলে।

বাগদাদের এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘অধিকারের দাবি জানাতে আমরা রাস্তা বন্ধ করেছি...চাকরি পাওয়া তরুণদের অধিকার। আমরা দাবি করেছি কেন্দ্রীয় সরকার আগাম নির্বাচন দেবে আর এক জন স্বাধীন প্রধানমন্ত্রী মনোনীত করবে। এসব মানা না হলে বিক্ষোভ জোরালো হবে এবং মহাসড়ক ও শহরের কেন্দ্রস্থল বন্ধ করে দেয়া হবে’।

ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, বাগদাদের বিক্ষোভকারীদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে সংঘর্ষ শুরু হয়। ঘটনাস্থলে কর্মরত চিকিৎসাকর্মীরা টিয়ার গ্যাস ও তাজা গুলীতে আক্রান্ত বহু মানুষকে চিকিৎসা দেয়ার কথা জানিয়েছেন।

বাগদাদ ছাড়াও বিক্ষোভ হয়েছে ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নাসিরিয়া, কারবালা ও আমারাতে। এসব শহরে টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভকারীরা। নাসিরিয়া শহরে বিক্ষোভকারীরা একটি রাস্তা অবরোধ করলে একটি দ্রুত গতির গাড়ি থেকে তাদের লক্ষ্য করে গুলী ছোড়া হয়। এতে অন্তত ছয় বিক্ষোভকারী আহত হয়।

আবারও বাগদাদের মার্কিন দূতাবাসের কাছে রকেট হামলা: ইরাকের রাজধানী বাগদাদের সরকারি ও বিদেশী দূতাবাস ভবন অধ্যুষিত গ্রিন জোনে আবারও রকেট হামলা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে আঘাত হানা তিনটি কাতিয়ুশা রকেটের দুটি বিস্ফোরিত হয় মার্কিন দূতাবাসের কাছে। হামলার পর পুরো গ্রিন জোন জুড়ে সতর্ক সংকেত বেজে ওঠে। তবে এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। ইরাকি পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, বাগদাদের বাইরের জাফারানিয়া জেলা থেকে এসব রকেট ছোড়া হয়েছে।

গত ৩ জানুয়ারি মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর বাগদাদে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের কাছে বেশ কয়েক দফায় রকেট হামলা হয়েছে। এসব হামলার জন্য ইরান সমর্থিত আধাসামরিক বাহিনীগুলোকে দায়ী করেছে ওয়াশিংটন। তবে কেউ এসব হামলার দায় স্বীকার করেনি।

এদিকে সোলাইমানি হত্যাকাণ্ডের পর ইরাকে নতুন করে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ সহিংস হয়ে উঠছে। সোমবার ওই বিক্ষোভে বিভিন্ন শহরে অন্তত পাঁচ জন নিহত হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা ইরান ও ওয়াশিংটনের প্রভাবমুক্ত সরকার গঠনের জন্য রাজনৈতিক সংস্কারের দাবি তুলেছে।

রাজনৈতিক সংস্কার কাজে গতি আনতে ইরাকের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটিতে নিযুক্ত জাতিসংঘ দূত। একই সঙ্গে বিক্ষোভকারীদেরও শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এক বিবৃতিতে জাতিসংঘ দূত জেনিন হেন্নিস প্লাসচায়ের্ট বলেন, ‘মানুষের উদ্বেগ নিরসনে এখন পর্যন্ত যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তা শেষ করা না হলে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের সহিংস দমন অসহনীয় আর যেকোনও মূল্যে তা এড়াতে হবে’।

প্রসঙ্গত, কর্মসংস্থানের সংকট, নিম্নমানের সরকারি পরিষেবা এবং দুর্নীতির অভিযোগ তুলে গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে বাগদাদের রাজপথে নামে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী। নির্দিষ্ট কোনও রাজনৈতিক দলের অনুসারী না হয়েও রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে অনিয়ম ও ইরাকে বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলে আন্দোলনকারীরা। 

নিরাপত্তা বাহিনী টিয়ার গ্যাস ও গুলী চালিয়ে তাদের ওপর চড়াও হলে এই বিক্ষোভ আরও জোরালো হয়ে ওঠে, ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন শহরে। ডিসেম্বরের শুরুতে দেশটির আধাসরকারি মানবাধিকার কমিশন জানায় এসব বিক্ষোভে ৪৬০ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও ১৭ হাজার। 

বেশিরভাগ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বিক্ষোভকারীদের ওপর সরকারি বাহিনীর মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগ ও গুলীবর্ষণের ফলে। কাসেম সোলাইমানির হত্যাকাণ্ড ঘিরে বিক্ষোভ কিছুটা স্তিমিত হয়ে এলেও নতুন করে তা আবারও দানা বেঁধে উঠেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ