ঢাকা, রোববার 26 January 2020, ১২ মাঘ ১৪২৬, ২৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

প্রার্থীদের প্রচারণা তুঙ্গে থাকলেও  ভোটে আগ্রহ নেই ভোটারদের 

 

মোহাম্মদ জাফর ইকবাল: সিটি নির্বাচনের পোস্টার-ব্যানারে ছেয়ে গেছে রাজধানীর অলি-গলি। প্রচারণাও তুঙ্গে। প্রার্থীরা বাসযোগ্য ঢাকা গড়তে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছেন। নির্ঘুম এ লড়াই চলবে বুধবার রাত ১২টা পর্যন্ত। আগামী শনিবারই ভোটযুদ্ধ। নির্বাচন অনুষ্ঠানে সব ধরনের প্রস্তুতি চলছে। কিন্তু ভোটারদের মধ্যে সেই নির্বাচনী আমেজ বা উত্তেজনা নেই। সবার একটাই প্রশ্ন, ভোট হবে তো? ভোটারদের পাশাপাশি সরকার বিরোধী রাজনীতিক দল, দেশের সুশীল সমাজসহ সবাই নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিএনপি বলছে, সরকারি দল তাদের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর হুমকি দিচ্ছে। তারা প্রতিনিয়ত বিরোধী প্রার্থীদের ভয় ভীতি দেখাচ্ছে। সরকারি দলের পক্ষ থেকে ভোটের দিন ‘সর্বশক্তি’ প্রয়োগ করার অগ্রিম আভাস দেয়া হচ্ছে হবে। সরকারি দলের নেতাদের এ ধরনের নির্দেশনায় স্থানীয় নেতা-কর্মীরা আরো উগ্র ও লাগামহীন আচরণ করছে বলে জানা গেছে।  রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই পাল্লা দিয়ে স্বরূপে ফিরছে ভোটচিত্র। এবারো নানামুখী শঙ্কা প্রকাশ করছেন ভোটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই। 

সূত্র মতে, ঢাকার দুই সিটিতে (উত্তর ও দক্ষিণ) ১২৯টি সাধারণ ওয়ার্ড, ৪৩টি সংরক্ষিত আসনে ভোটের লড়াই হবে। ২২ জানুয়ারি তফসিল ঘোষণার পর ২ জানুয়ারি বাছাই, ৯ জানুয়ারি প্রত্যাহারের শেষ করে প্রচারে মাঠে নেমেছেন প্রার্থীরা। ভোট গ্রহণের দিন ছিল ৩০ জানুয়ারি। কিন্তু হিসাবে গরমিল ধরা পড়ে পূজার কারণে। দাবি ওঠে ভোটের তারিখ পেছানোর। ইসির অনড় থাকায় বিষয়টি গড়ায় আদালতে। রাজপথে শুরু হয় আন্দোলন। অবশেষে ভোটের দিন পেছানো হয়েছে। ভোট হবে ১ ফেব্রুয়ারি। ভোটের দিন নিয়ে সমস্যার চূড়ান্ত সমাধান হয়নি। ভোটারের তরফ থেকে জনৈক ব্যক্তি আদালতের দ্বারস্থও হয়েছেন। তার দাবি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনের পর প্রত্যাহারের সুযোগ না থাকলে তফসিলের পর ভোটের দিন পেছানো যায় কী করে?  বাছাইয়ের ২১ দিন পর বিএনপি মনোনীত উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের বিরুদ্ধে ইসিতে লিখিত আবেদন করেছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। যিনি ক্ষমতাসীণ আওয়ামী লীগের সক্রিয় সমর্থখ বলে প্রচার রয়েছে। অনেকেই বলছেন, নির্বাচনের আগে তার এমন অভিযোগের তাৎপর্য রয়েছে।  

জানা গেছে, ১ ফেব্রুয়ারিকে কেন্দ্র করে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই স্ব স্ব অবস্থান থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইতোমধ্যে নির্বাচন নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। বৈঠক থেকে নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে বিভিন্ন বাহিনীর প্রধানের উদ্দেশে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বলেন, আমি চাই না কোনো অভিযোগ, অনিয়ম, বিচ্যুতি আমাদের পর্যন্ত আসুক। ছোটখাটো কোনো সমস্যা হলে নিজ নিজ বাহিনীর প্রধানের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করবেন। কোনো গাফিলতি হলে পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে আপনারা নিজেরাই তা সমাধান করবেন। কোনো বিচ্যুতি হলে কাউকে ছাড়ব না। কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেব। সিটি নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে পুলিশের যা যা করণীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো: শফিকুল ইসলাম। তিনিও বলেন, কারো বিরুদ্ধে কোনোরকম গাফিলতি কিংবা হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  ইতোমধ্যে, নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট নেওয়ার প্রক্রিয়া জানতে ও জানাতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রার্থীরা প্রস্তুত করছেন তাদের পোলিং এজেন্ট। প্রচারণা নিয়ে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে ক্ষণেক্ষণে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের পাহাড় গড়ে উঠেছে। প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হয়েছেন মেয়রপ্রার্থী, কাউন্সিলরসহ কর্মী-সমর্থকরা। ঘরবাড়ি, নির্বাচনি প্রচারণা কেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।  নির্বাচন কমিশনের ইতিবাচক বক্তব্য দিলেও এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। 

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, বিএনপিকে সরকার নির্বাচন থেকে বিরত রাখার ‘অপকৌশল’ করছে। তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আমাদের যে দুজন মেয়রপ্রার্থী আছেন তারা ইতোমধ্যেই ঢাকা মহানগরীতে গণজোয়ার সৃষ্টি করেছেন। তাদের বিভিন্নভাবে এই নির্বাচনের যে প্রতিযোগিতা সেখান থেকে তাদের সরিয়ে দেওয়ার জন্য, বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। শারীরিক আক্রমণ পর্যন্ত করা হয়েছে তাবিথ আউয়ালের ওপরে, ইশরাকের মিছিলে আক্রমণ করা হয়েছে। তাদের দুই কাউন্সিলরের ওপর আঘাত করা হয়েছে। অসংখ্য নেতা-কর্মীকে মারধর করা হয়েছে। পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়। নির্বাচন কমিশনার, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ দিয়েও লাভ হয়নি। মাঠে ভ্রাম্যমাণ ম্যাজিস্ট্রেট নামানো হলেও তারা কোনো কাজ করছে না বলে অভিযোগ বিএনপির। 

সিটি নির্বাচনে ভোট ডাকাতির শঙ্কা প্রকাশ করেছেন জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব। নাগরিকদের সচেতনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এবার আপনাদের ভোট দিতে আসতেই হবে। আপনার ভোটাধিকার আপনাকেই রক্ষা করতে হবে। আর কেউ ভোট ডাকাতি করতে এলে হাত কেটে দেবেন। 

এদিকে আওয়ামী লীগের তরফ থেকেও অভিযোগের কমতি নেই। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দিবালোকের মতো পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে বিএনপি নির্বাচনে লোক দেখানো অংশগ্রহণ করেছে। নির্বাচনে জেতার চেয়ে তাদের বড় লক্ষ্য হচ্ছে নির্বাচনটাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। কোনো ধরনের ঝামেলা করতে চাইলে জনগণ তাদের প্রতিহত করবে। এক সভায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে আওয়ামী লীগ গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে। ভোটের দিন আওয়ামী লীগ তার সকল শক্তি নিয়োগ করে বিজয়ী হওয়ার চেষ্টা করবে।

বিএনপি সমর্থিত ঢাকা দক্ষিণের মেয়রপ্রার্থী ইশরাক হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস। তিনি বলেছেন, ইশরাকের বাসায় ভোট চাওয়ার পর আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলরদের প্রচারে ধাওয়া করেছে ইশরাকের লোকজন। এদিকে তাবিথ আউয়াল ও ইশরাক হোসেন দুজনেই দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, ১ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন তারা মাঠে থাকবেন। এক মিনিটের জন্য তারা মাঠ ছাড়বেন না। তবে কোনো বাধা, কারচুপির আভাস পেলে তারা জনগণকে নিয়ে প্রতিহত করবেন। দলটির অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তও এমনটি। গত নির্বাচনে মাঠ ছেড়ে দিলেও এবার তারা মাঠে থাকবে। 

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, আমাদের দেশে নির্বাচন মানেই সংঘাত-সংঘর্ষ, অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ। দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভোটার এবং প্রার্থীদের আস্থায় আনতে পারেনি। আইনের প্রয়োগ দেখাতে পারেনি। মারামারি হয়েছে অনেক। ভোটের দিন পর্যন্ত আরো অঘটন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। তিনি বলেন, নির্বাচনের অতীত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, আবারো একটা প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের আয়োজন চলছে। নির্বাচন কমিশন ও সরকারি দলের আচরণে সেটাই প্রমাণিত হচ্ছে। 

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন এবার তথ্য দিচ্ছে না।   আইনি নোটিশ পাঠিয়েও লাভ হচ্ছে না। এটার কারণ কি, নাকি এটা তাদের অযোগ্যতা, তা আমরা বুঝতে পারছি না। তারা আইন-কানুন, বিধি-বিধানের কোনো তোয়াক্কা করছে না।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ঢাকা সিটি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীদের শতকরা একশ ভোটার ভোট দিলেও তারা জয় পাবেন না। কারণ মেশিন (ইভিএম) তাদের জিততে দেবে না। মান্না বলেন, গত জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ভোট ডাকাতি করেছে। কিন্তু তারা জানে, এবারের সিটি নির্বাচনে তারা ভোট ডাকাতি করতে পারবে না। কারণ দেশের জনগণ জানে, মিডিয়া জানে, সারা বিশ্ব জানে যে আওয়ামী লীগ ভোট ডাকাতি করে ক্ষমতায় এসেছে। এজন্য এ সিটি নির্বাচনে যদি একই ভাবে ক্ষমতায় আসে তাহলে আরও বড় বদনামের মুখোমুখি হতে হবে। এ কারণে এবার তারা মেশিন (ইভিএম) আমদানি করেছে। তিনি বলেন, প্রথম যখন ইভিএম চালুর কথা বলা হয়, তখন বলেছি এখনও বলছি। এ মেশিন তো মানুষই বানায়। মানুষ বানায় তার উপকারের জন্য। না বোঝার কি আছে। আমরা রুমে একটা ফ্যান লাগাই বাতাস পাওয়ার জন্য। আরাম পাওয়ার জন্য। তেমনি ইভিএম যেমন করে বানিয়েছে সেইভাবে কমান্ড শুনবে। আপনি যতই ধানের শীষে ভোট দেন না কেন, যদি ভেতরে কমান্ড দিয়ে রাখা হয় যে বোতামই চাপ দেয়া হোক না কেন নৌকায় ভোট পড়বে। তাহলে আপনার কিছু করার নেই। কোনো প্রমাণ নেই আপনি কোথায় ভোট দিলেন। কোনো মামলা করতে পারবেন না। প্রতিবাদও করতে পারবেন না। এতবড় জালিয়াতি এ সরকার করছে। বিএনপির নীতিনির্ধারকদের উদ্দেশে মান্না বলেন, আপনারা নির্বাচনে যোগ দেয়ার পরে, প্রার্থীদের নমিনেশন জমা দেয়ার পরে বলছেন এ ইভিএম মানি না। একথা কি আগে বলা যেত না? ৩ মাস, ৬ মাস আগে কি ক্যাম্পেইন করা যেত না? একথা কি বলা যেত না- ইভিএম বাতিল করেন তারপর আমরা ভোটের কথা ভাবব। আপনারা যদি মনে করেন জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে জয় ছিনিয়ে নিয়ে আসবেন। এটা অবাস্তব। ১০০ জনের ১০০ জনই যদি আপনাদের ভোট দেয়- তারপরও আপনারা জয় পাবেন না। কারণ মেশিন আপনাদের জিততে দেবে না।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করিম,  বলেন, ডিজিটাল কারচুপি করার জন্যই ইভিএম ব্যবহার করা হচ্ছে। ব্যালটে কারচুপি হলে তার নিদর্শন থাকে। কিন্তু ইভিএমে কারচুপি হলেও কোনো নিদর্শন থাকবে না। এ জন্যই সবার মতামত উপেক্ষা করে নির্বাচন কমিশন ইভিএম ব্যবহার করছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দেশের মানুষ আর কোনো প্রহসনের নির্বাচন সহ্য করবে না। সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হলে নির্বাচন কমিশন ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে। 

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কে জিতবে- সে বিষয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। নিজের অ্যাকাউন্ট দেয়া ওই স্ট্যাটাসে ফলোয়ারদের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে তিনি লেখেন, ‘মেয়র নির্বাচনে জিতবে কে?’ এরপর ঢাবির এই অধ্যাপক নিজেই জবাব দিয়ে লেখেন, ‘জিতবে ইভিএম’।

সিটি নির্বাচনে সবার জন্য সমতল (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) ভূমি নেই বিএনপি নেতাদের এমন অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বিএনপি নেতাদের প্রতি পাল্টা প্রশ্ন রেখে ওবায়দুল কাদের বলেন, কোথায় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই? আমাদের দলের প্রার্থী বা নেতারা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন, এমন একটি উদাহরণ দেখান? ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির অভিযোগ হাওয়ার ওপরে। এর সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। পারলে তারা অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ নিয়ে আসুক। মনগড়া কথা না বলে তথ্যপ্রমাণ নিয়ে জাতির সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, মনগড়া কথা বললে তো হবে না। তারা সবসময় অন্ধকারে ঢিল ছুড়ে।

নির্বাচন নিয়ে পক্ষে-বিপেক্ষ যখন চুলছেরা বিশ্লেষণ চলছে তখনও নিরবে ভোটাররা। তারা সার্বিখ বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করছেন। অনেকের প্রশ্ন, ভোট হবে তো? আক্ষেপ করে মোহাম্মদপুরের ব্যবসায়ী আবদুর রহমান বলেন, প্রত্যেকবারই প্রচারণা হয়। প্রার্থীরা ভোট চান। কিন্তু গত কয়েখবারই ভোট দিতে পারিনি। এবার যে ভোট দিতে পারবো তার গ্যারান্টি কে দিবে? ফার্মগেটে তরবারি বিক্রেতা ছগির আহমেদ বলেন, নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে আমাদের কোনো আগ্রহ নেই। কারণ যেখানে আগের দিন রাতে ভোট হয়ে যায় সেখানে এটা নিয়ে আমার কোনো চিন্তা নেই। ভোট এবারো তিনি দিতে পারবেন না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ