ঢাকা, রোববার 26 January 2020, ১২ মাঘ ১৪২৬, ২৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

নির্বাচন কমিশন কঠোর না হলে  বড় ধরনের অঘটন ঘটতে পারে -সুজন 

 

স্টাফ রিপোর্টার: ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আচরণবিধি ভঙ্গের ব্যাপারে কঠোর হতে না পারলে, বড় ধরনের অঘটন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশিষ্ট নাগরিক সংগঠন সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন। সংগঠনটি মনে করে, রাতের আধারে ক্যাম্প ভেঙে দেয়া, নির্বাচনী প্রচারণাকালে অন্য দলের প্রার্থীর ওপর হামলা ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের ব্যাপারে কঠোর হতে না পারলে, বড় ধরনের অঘটন ঘটতে পারে এবং তেমন কিছু ঘটলে, তা সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশকে ব্যাহত করবে।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মেয়র পদপ্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা বাড়লেও কাউন্সিলরসহ মোট প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা আগের চেয়ে কমেছে। তবে প্রার্থীদের মধ্যে ব্যবসায়ীর সংখ্যা গতবারের তুলনায় বেশি। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর প্রাক নির্বাচনি প্রার্থী বিশ্লেষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

গতকাল শনিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে রাজধানীর এই দুই সিটিতে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের তথ্য উপস্থাপন নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার এ কথা বলেন। আসন্ন নির্বাচন ও ২০১৫ সালের নির্বাচনে প্রার্থীদের দেয়া হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণ করে পাওয়া ফল সাংবাদিক সম্মেলনে তুলে ধরা হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে প্রাক নির্বাচনী প্রার্থী বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সুজনের প্রোগ্রাম ম্যানেজার দিলীপ কুমার সরকার। এছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন সুজন সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন খান, সহ-সভাপতি ক্যামেলিয়া চৌধুরী এবং সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার প্রমুখ।

তাদের দাবি, মেয়র প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা বাড়লেও কাউন্সিলরসহ মোট প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা আগের চেয়ে কমেছে। তবে প্রার্থীদের মধ্যে ব্যবসায়ী প্রার্থী গতবারের তুলনায় বেশি। এমনটা জানিয়েছে সুজন’র দাবি, নির্বাচনী রাজনীতিতে ব্যবসায়ীদের যুক্ত হওয়ার প্রবণতা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই প্রবণতা জনপ্রতিনিধিদের জনসেবামূলক ভূমিকার পরিবর্তে বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গিমুলক প্রবণতার প্রসার ঘটাতে পারে। এটা বিরাজনীতিকরণের ধারা শক্তিশালী হওয়ারও একটা লক্ষণ। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ঢাকা উত্তরের মেয়র প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কোনও মামলা না থাকলেও দক্ষিণের মেয়র প্রার্থীদের দুজনের বিরুদ্ধে বর্তমানে ও তিন জনের বিরুদ্ধে আগে মামলা ছিল। বিশ্লেষণ উত্থাপনের আগে সুজনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্বাচনি বিধি অনুযায়ী প্রার্থীরা মনোনয়নপত্রের সঙ্গে হলফনামা আকারে সাত ধরনের তথ্য রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে দাখিল করেছেন। আমরা সুজনের উদ্যোগে প্রার্থীদের দেয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে তা গণমাধ্যমের সহযোগিতায় জনগণের কাছে তুলে ধরতে চেয়েছি। এর মাধ্যমে ভোটাররা প্রার্থীদের সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাবে।

বিশ্লেষণ হাজির করার আগে সুজন বলে, নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী প্রার্থীগণ মনোনয়নপত্রের সঙ্গে হলফনামা আকারে ৭ ধরনের তথ্য বিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে দাখিল করেছেন। আমরা সুজনের উদ্যোগে প্রার্থীগণ প্রদত্ত তথ্যসমূহ বিশ্লেষণ করে গণমাধ্যমের সহযোগিতায় জনগণের কাছে তুলে ধরতে চেয়েছি। এর মাধ্যমে ভোটাররা প্র্থাীদের সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাবে।

ব্যবসায়ী বেড়েছে: ঢাকা উত্তরের ৬ জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে ৩ জন (অর্ধেক-৫০%) ব্যবসায়ী। তারা হলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আতিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের তাবিথ আউয়াল ও প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের প্রার্থী শাহীন খান। অন্যান্যদের মধ্যে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পাটির প্রার্থী আহাম্মদ সাজেদুল হক চিকিৎসক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রার্থী শেখ ফজলে বারী মাসউদ শিক্ষক এবং ন্যাশনাল পিপলস পার্টির প্রার্থী আনিসুর রহমান দেয়ান সমাজসেবক। ২৪৮ জন সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীর চার পঞ্চমাংশেরও অধিকের (২০৩ জন বা ৮১.৮৫%) পেশা ব্যবসা। ৯ জন (৩,৬৩%) তাদের পেশার কথা উল্লেখ করেননি।’

বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ২০১৫ সালের তুলনায় এবারের নির্বাচনে ব্যবসায়ীর হার বৃদ্ধি পেয়েছে (৬৭.২০%-এর স্থলে ৭২.৮১%)। দক্ষিণের বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ২০১৫ সালের তুলনায় এবারের নির্বাচনে ব্যবসায়ীর হার বৃদ্ধি পেয়েছে (৭১.২৮%-এর স্থলে ৩,৫৯%)। তারা বলছে, ব্যবসায়ীদের মধ্যে নির্বাচন করার প্রবনতা বাড়ছে। যা একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকার রূপান্তর ঘটাতে পারে; যার ফলাফল অবশ্যই নেতিবাচক।

শিক্ষাগত যোগ্যতা মেয়রের বেড়েছে: ঢাকা উত্তরের ৬ জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে ৫ জনই (৮৩.৩৩%) উচ্চশিক্ষিত। এদের মধ্যে ২ জনের (৩৩.৩৩%) শিক্ষাগত যাগ্যতা স্নাতকোত্তর ও ৩ জনের (৫০%) স্নাতক। তবে ১ জন (১৬.৬৭%) প্রার্থীর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। তিনি প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের প্রার্থী শাহীন খান। ঢাকা উত্তরের ৫৪টি ওয়ার্ডের ২৪৮ জন সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে অধিকাংশ প্রার্থীর (১৫৬ জন বা ৬২.৯০%) শিক্ষাগত যােগ্যতা এসএসসি বা তার নিচে। শুধুমাত্র এসএসসি'র নিচেই ১২৩ জন (৪৯.৫০%)।

ঢাকা উত্তরের সর্বমোট ৩৩১ জন প্রার্থীর মধ্যে অধিকাংশের (২০৩ জন বা ৬১.৩২%) শিক্ষাগত যাগ্যতা এসএসসি বা তার নিচে। শুধুমাত্র এসএসসি’র নিচে ১৫৬ জন (৪৭.১৩%)। ঢাকা উত্তরে ২০১৫ সালের নির্বাচনের তুলনায় একদিকে স্বল্পশিক্ষিত প্রার্থীর হার বেড়েছে (৫৯,৪০% এর স্থলে ৬১.৩২%), অপরদিকে উচ্চশিক্ষিত প্রার্থীর হার হ্রাস পেয়েছে (২৭.৪১% এর স্থলে ২৫.২৭%)। ঢাকা দক্ষিণের ৭ জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে ৩ জন (৪২.৮৬%) উচ্চশিক্ক্ষিত। এদের মধ্যে ২ জনের (২৮.৫৭%) শিক্ষাগত যােগ্যতা স্নাতকোন্ত ও ১ আগর (১৪.২৯ ) স্নাতক। তবে ৩ জন (৪২.৮৬%) প্রার্থীর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থীদের হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণ করে বেসরকারি সংস্থা সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বলেছে, কাউন্সিলর পদপ্রার্থীদের মানে অবনতি ঘটছে। ব্যবসায়ী ও স্বল্পশিক্ষিত প্রার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। সাংবাদিক সম্মেলনে হলফনামার তথ্য তুলে ধরেন সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার। সুজনের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা উত্তরের ছয়জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে পাঁচজন (৮৩.৩৩%) উচ্চশিক্ষিত। তাঁদের মধ্যে দুজনের (৩৩.৩৩%) শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকোত্তর ও তিনজনের (৫০%) স্নাতক। তবে একজন (১৬.৬৭%) প্রার্থীর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই।

কাউন্সিলর প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা কমেছে: ঢাকা উত্তরের মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর মিলিয়ে মোট ৩৩১ জন প্রার্থীর মধ্যে অধিকাংশের (২০৩ জন বা ৬১.৩২%) শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি বা তার নিচে। ঢাকা উত্তরের ৫৪টি ওয়ার্ডের ২৪৮ জন সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে অধিকাংশ প্রার্থীর (১৫৬ জন বা ৬২.৯০%) শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি বা তার নিচে। শুধু এসএসসির নিচেই রয়েছেন ১২৩ জন (৪৯.৫০%)। আর স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী প্রার্থী ২২ জন। সুজন বলেছে, মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে উচ্চশিক্ষিতের হার বেশি হলেও কাউন্সিলর পদপ্রার্থীদের মধ্যে স্বল্পশিক্ষিতের হার বেশি। ২০১৫ সালের তুলনায় এবার ঢাকা উত্তরে স্বল্পশিক্ষিত প্রার্থীর হার বেড়েছে। ২০১৫ সালে ছিল ৫৯ দশমিক ৪০ শতাংশ, এবার ৬১ দশমিক ৩২ শতাংশ। অন্যদিকে উচ্চশিক্ষিত প্রার্থীর সংখ্যা কমেছে। ২০১৫ সালে ছিল ২৭ দশমিক ৪১ শতাংশ, এবার উচ্চশিক্ষিত প্রার্থী ২৫ দশমিক ২৭ শতাংশ।

ঢাকা দক্ষিণের সর্বমোট ৪০৯ জন প্রার্থীর মধ্যে অধিকাংশের (২৬৬ জন বা ৬৫.০৩%) শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি বা তার নিচে। বিশ্লেষণে দেখা যায় মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে উচ্চশিক্ষিত ও স্বল্পশিক্ষিতের হার সমান (৪২.৮৬%) হলেও, কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে স্বল্পশিক্ষিতের হার অনেক বেশি। ২০১৫ সালের নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের সাথে তুলনা করলে দেখা যায় যে, স্বল্পশিক্ষিতের হার সমান রয়েছে (৬৬.৭৪)। উচ্চশিক্ষিত প্রার্থীর ক্ষেত্রে সামান্য কিছু অবনতি হয়েছে (১৯৮৩% এর হলে বর্তমানে ১৯.৩১%)।

প্রার্থীদের মামলার হিসেব: ঢাকা উত্তরের ৬ জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে শুধুমাত্র বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী আহাম্মদ সাজেদুল হকের বিরুদ্ধে অতীতে একটি মামলা ছিল, যা থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন। আর কোনও প্রার্থীর বিরুদ্ধে কখনও মামলা দায়ের হয়নি। ঢাকা উত্তরের সর্বমোট ৩৩১ জন প্রার্থীর মধ্যে ৯৯ জনের (২৯.৯১%) বিরুদ্ধে বর্তমানে, ৪৪ জনের (১৩.২৯%) বিরুদ্ধে অতীতে এবং ২১ জনের আছে বা ছিল।

ঢাকা দক্ষিণের ৭ জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে ২ জনের (২৮.৫৭%) বিরুদ্ধে বর্তমানে, ৩ জনের (৪২.৮৬%) বিরুদ্ধে অতীতে এ ৪ ২৯%) উভয় সময়ে মামলা আছে বা ছিল। ঢাকা দক্ষিণের সর্বমােট ৪০৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ১০৯ জনের (২৬.৬৫%) বিরুদ্ধে বর্তমানে, ৫০ জনের (১২.২২%) বিরুদ্ধে অতীতে এবং ২৬ জনের (৬.৩৬%) উভয় সময়ে মামলা আছে বা ছিল।

আচরণবিধি ভঙ্গ প্রসঙ্গে: আচরণবিধি বিষয়ে সুজনের পর্যবেক্ষণ বলছে, মনোনয়ন দাখিলের দিন থেকেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মেয়র প্রার্থীরা আচরণবিধি ভঙ্গ করে আসছেন। তারা নিয়মবহির্ভূতভাবে মিছিল করে ব্যাপক সংখ্যক মানুষ নিয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। পরবর্তীতে কোন কোন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীর বিরুদ্ধে মিছিল করা, নির্ধারিত সময়ে আগে বা পরে শহযন্ত্র ব্যবহার, ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রচার, গাড়িবহর ব্যবহার, মোটরসাইকেলের বহুল ব্যবহার, রাতের আধারে ক্যাম্প ভেঙে দেয়া, নির্বাচনী প্রচারণাকালে অন্য দলের প্রার্থীর ওপর হামলা ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের ব্যাপারে কঠোর হতে না পারলে, বড় ধরনের অঘটন ঘটতে পারে এবং তেমন কিছু ঘটলে, তা সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশকে ব্যাহত করবে। 

ইভিএম নিয়ে বিতর্ক আছে: আসন্ন সিটি নির্বাচনে ইভিএমের ব্যবহার নিয়ে আলোচনা শুরু থেকেই বিতর্ক আছে উল্লেখ করে সুজন বলে, ‘সকল রাজনৈতিক দল একমত না হলেও, এই নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন ইডিএম ব্যবহারে বন্ধপরিকর। আমরা মনে করি, বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইভিএম ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রথম বাধা হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা। নির্বাচন কমিশনের ওপর যদি ভোটারদের আস্থা থাকতো, তবে ইভিএম ব্যবহার নিয়ে হয়তো প্রশ্ন উঠতো না।

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ব্যবসায়ী প্রার্থীর আধিক্য বাড়ছে। রাজনীতি এখন পুরোপুরি ব্যবসায় পরিণত হচ্ছে। ধনাঢ্য হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছে রাজনীতি। ধনী প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ছে। আবার উচ্চশিক্ষিত প্রার্থীর সংখ্যা কমছে। সব মিলে প্রার্থীদের মানে অবনতি ঘটছে। তিনি বলেন, কাউন্সিলর পদে নির্দলীয় নির্বাচন হওয়ার কথা। কিন্তু দলগুলো দলীয় মনোনয়ন দিচ্ছে। দলগত নির্বাচন হলে প্রার্থীর সংখ্যা কমে যায়। বেশি প্রার্থী থাকলে বেশি যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থী বাড়ার সুযোগ থাকে।

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলেও এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের সক্রিয়তা নেই। একজন নির্বাচন কমিশনারও বলেছেন, নির্বাহী হাকিমদের কার্যক্রম দৃশ্যমান নয়। কেউ হয়তো এমন কিছু করতে চান না, যাতে সরকারি দল রুষ্ট হয়। এটা অশনিসংকেত।

সুজনের সভাপতি এম হাফিজ উদ্দীন খান বলেন, হলফনামার তথ্যের সঠিকতা যাচাই করা না হলে এসব তথ্য নেয়ার কোনো অর্থ নেই। তিনি হলফনামার তথ্য যাচাই করার দাবি জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ