ঢাকা, রোববার 26 January 2020, ১২ মাঘ ১৪২৬, ২৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার না করতে বললেন ইশরাক  * বাধা সত্ত্বেও শৃঙ্খলা না ভাঙ্গার আহ্বান তাবিথের  

 

স্টাফ রিপোর্টার : প্রতিপক্ষের শত বাধা সত্ত্বেও শৃঙ্খলা ভঙ্গ না করার আহ্বান জানিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী তাবিথ আউয়াল বলেছেন, ‘আমাদের মূল শক্তি হচ্ছে জনগণ, তারা আমাদের সঙ্গে আছেন। প্রচারে নেমে আমরা নগরবাসীর ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। নির্বাচনী মাঠে আর কোনো অঘটন ঘটুক, তা চাই না। যতো বাধা আসুক আমরা শৃঙ্খলা ভাঙবো না।’

অন্যদিকে নর্বাচনে প্রভাব বিস্তার না করার জন্য আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের প্রতি আহ্বান জানান ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, কোন প্রার্থী বা পরিবারের প্রভাব পড়বে না নির্বাচনে। কারণ, দেশটা কারো পারিবারিক সম্পত্তি না। বিএনপি মনোনিত মেয়রপ্রার্থীরা গতকাল নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগে অংশ নেন।  

এদিন মিরপুর এলাকার ৬, ২ ও ১৫ নং ওয়ার্ডে কয়েকটি নির্বাচনী পথসভায় অংশ নিয়ে তাবিথ আউয়াল বলেন, নেতা-কর্মী ও ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সামনের সাত দিন কঠিন সময়। নির্বাচন থেকে দূরে সরাতে আপনাদের ভয়-ভীতি দেখানো হবে। আপনার ভয় পাবেন না। সাহস নিয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট কেন্দ্রে যাবেন। আসলে ভয় যারা দেখাচ্ছেন তারা আপনাদেরকে বেশি ভয় পায়।

ইভিএমের ব্যাপারে আবারো জোর আপত্তি জানিয়ে ধানের শীষের এই প্রার্থী বলেন, ‘আমরা ইসিকে অনুরোধ করছি, সব যুক্তিগুলো আমলে নিয়ে এ নির্বাচনের জন্য ইভিএম বন্ধ রাখুন। অন্তত এ নির্বাচনে ব্যালটে ভোট নিন। ভবিষ্যতে সব রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে এ বিষয়ে করণীয় ঠিক করা যাবে।’

তাবিথ আউয়ালের আজকের প্রতিটি সভায় নেতা-কর্মী ও সাধারণ ভোটারদের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। নেতা-কর্মীরা ধানের শীষ ধানের শীষ স্লোগানে মিরপুরের নানা অলিগলি প্রকম্পিত করে তোলেন। মাইকিং করে স্থানীয়দের ভোট চাওয়া হয়। মেয়র প্রার্থী নিজে দিনভর ধানের শীষের লিফলেট বিতরণ করেন। এলাকার মুরব্বীদের তিনি বুকে জড়িয়ে ধরেন। অনেককে তাবিথ আউয়ালের জন্য দোয়া করতে দেখা যায়।  

এদিন, সকাল ১১টায় মিরপুর ৬নং সেকশন কাঁচাবাজার এলাকায় পথসভা করার মধ্য দিয়ে ১৬তম দিনের মতো নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন তাবিথ আউয়াল।  

ধানের শীষের প্রচারণায় হামলা ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা প্রসঙ্গে তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে বলতে হচ্ছে, নির্বাচন কমিশন যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করেননি। এজন্য সামগ্রিকভাবে নির্বাচনে একটি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তারপরও আমাদের মনোবল শক্ত আছে, আমরা ইতিবাচক ভূমিকায় আছি, এ ভূমিকায়ই থাকবো।’ তিনি বলেন, ‘ভোটারদের মন এখন ১ ফেব্রুয়ারির দিকে। ভোটাররা কেন্দ্রে গিয়ে সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারলে আমরা জয়লাভ করবো।’

স্থানীয়দেও উদ্দেশে তাবিথ আউয়াল বলেন, মিরপুরে চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা চলছে। আমরা বিজয়ী হলে এসব নির্মূলে কাজ করবো। কাউকে অন্যায় করতে দেয়া হবে না। মিরপুর গার্মেন্ট শিল্প এলাকা। এখানে কর্মীদের নিরাপত্তা নেই। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করবো।

বিএনপির এ মেয়র প্রার্থী বলেন, বস্তিবাসীদের উচ্ছেদ করতে বারবার পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগিয়ে দেয়া হচ্ছে। এতে বস্তিবাসীরা অনেক কষ্টে আছেন। আমরা নির্বাচিত হতে পারলে তাদেরকে পূনর্বাসন করা হবে।

দুর্নীতি ও দুঃশাসনের সাথে আপস করেন নাই বলেই বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে উল্লেখ করে তাবিথ আউয়াল বলেন, ১ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষে ভোট দিলে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির পথ তরান্বিত হবে।

এ পথসভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, বিএনপির ক্রিড়া বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল হক, ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী মাহফুজ হোসাইন খান সুমন, ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন দুলু, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির দফতর সম্পাদক এবিএম রাজ্জাক, যুবদল উত্তরের সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম মিল্টন, জিয়া পরিষদের মহাসচিব ড. এমতাজ হোসেনসহ বিএনপি তার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

এ এলাকায় গণসংযোগ শেষে তাবিথ আউয়াল দুপুর ২টায় ইসিবি চত্ত্বরে পথসভা ও গণসংযোগ করেন। এসময় তিনি এলাকাসীকে নির্ভয়ে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান। তিনি এলাকার উন্নয়নে নানা প্রতিশ্রুতি দেন।

এরপর ১৫ নং ওয়ার্ডের স্থানীয় মাটিকাটা বাজারে পথসভায় বক্তব্য রাখেন। তাবিথ আউয়াল বলেন, অতীতে আপনাদের যতো প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে, আপনাদের যতো দাবিগুলো রয়েছে সেসব দাবি ও প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের সময় এসে গেছে। আপনারা ধানের শীষে ভোট দিয়ে আমাকে সেই সুযোগ দেবেন।  

তিনি বলেন, যে এলাকার বাজারেই যাই দেখি দ্রব্যমূল্য অসহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। এই এলাকায় শিশুরা ও মা-বোনেরা রাতে নির্ভয়ে চলাচল করতে পারেন না। তাদের নিরাপত্তার যথেষ্ট অভাব রয়েছে। এখানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খুবই করুণ। খেলার মাঠ নেই, বাতাস দুঃষিত। দূষণ মুক্ত পরিবেশ তৈরির জন্য মাননীয় আদালত  রায় দিয়েছে। যারা অতীতে দায়িত্বে ছিলেন, তারা আদালতের রায় মানে নাই। জনগণের দাবিও তারা পূরণ কওে নাই। তিনি বলেন, আমাদের দায়িত্ব দিলে আমরা জনগণের এসব দাবি বাস্তবায়নের চেষ্টা করবো।

তাবিথ আউয়াল বলেন, সামনে সাতটি দিন কঠিন সময় পার করতে হবে। কোনো ভয় পাবেন না। আপনাদের ভয়-ভীতি দেখানো হবে, নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে দিতে। কিন্তু আপনারা নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে যাবেন। আসলে ভয় যারা দেখাচ্ছেন তারা আপনাদেরকে বেশি ভয় পায়।

গণসংযোগে অংশ নিয়ে বিএনপি নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান সকলকে ধানের শীষে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে জেলে বন্দী করে রাখা হয়েছে। তার মুক্তির জন্য আমাদেরকে ১ ফেব্রুয়ারি ভোট কেন্দ্রে যেতে হবে। ভোট দিয়ে সরকারকে বার্তা দিতে হবে যে, ঢাকাবাসী খালেদা জিয়াকে মুক্ত দেখতে চায়।

এরপর তাবিথ আউয়াল ভাষানটেক পকেট গেট, ভাষাণটেক কাঁচাবাজার, মানিকদি মাঠের মোড়, বালুরঘাটে, আজিজ মার্কেটে, হাজী মার্কেটে ও আলাউদ্দিরটেকে পথসভা ও গণসংযোগ করেন।

মিরপুর ১৪ নম্বর মোড়ে পথসভার মাধ্যমে এদিনের গণসংযোগ শেষ হয়। এ সময় তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ স্বৈরাচার। তাদের কাছে কালোটাকা ও পেশীশক্তি আছে, আমাদের পক্ষে আছে জনগণ। জনগণই আমাদের মূল শক্তি। এ সময় বিএনপি নেতা শাহিদা আক্তার রিতা ও জোট নেতা শাহাদাৎ হোসেন সেলিম উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে তাবিথ আউয়ালের মা নাসরিন ফাতেমা আউয়াল আজ কাওলা ও দক্ষিণ খান এলাকায় গণসংযোগ করেছেন। ঘণ্টা দুয়েক লিফলেট বিতরণ করে ভোট চান তিনি। এ সময় মহিলা দলের নেতা-কর্মীরা তার সঙ্গে ছিলেন।

তাবিথের পক্ষে নির্বাচনী মাঠে রিজভী: ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের পক্ষে নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শনিবার বেলা ৩টার দিকে মালিবাগ আবুল হোটেলের সামনে থেকে গণসংযোগ শুরু করেন। এরপর তিনি মালিবাগ চৌধুরী পাড়া, মীরবাগ, মধুবাগ হয়ে হাতিরঝিলের পাশ হয়ে আবারও মধুবাগ হয়ে বড়মগবাজার  রেলগেইটের সামনে এসে প্রচারণা শেষ করেন। এ সময় রিজভী আহমেদ রাস্তার পাশে, ফুটপাথে, দোকানি মাঝে তাবিথ আউয়ালের ধানের শীষ প্রতীকের লিফলেট বিতরণ করেন।

এসময় তার সাথে ছিলেন মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, ২২, ২৩ ও ৩৬ নং ওয়ার্ডে সংরক্ষিত আসনে মহিলা কাউন্সিলর নীলুফা ইয়াসমীন নীলু, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আক্তারুজ্জামান বাচ্চুসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।

পরে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে রিজভী বলেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য যেখানে যতটুকু সুযোগ পাচ্ছে গণতন্ত্রের জন্য তার সর্বোচ্চ ব্যবহার করার চেষ্টা করছে বিএনপি। এই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রচারণা চালাতে গিয়ে ইতোমধ্যে উত্তরের মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল, দক্ষিণের প্রার্থী ইশরাক হোসেনের ওপর হামলা হয়েছে। বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের ওপর হামলা হয়েছে। তারপরও আমরা গণতান্ত্রিক স্বার্থে সবকিছু  মেনে নিয়ে চরম নিপীড়ন, নির্যাতন, হুমকী-হামলার মধ্যেও এই নির্বাচনটিকে কাজে লাগাতে চাই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য।

এদিকে গতকাল শনিবার গোপীবাগের নিজ বাসায় নির্বাচনি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। 

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইশরাক হোসেন বলেন,‘আমি যতটুক জানি উনি (তাপস) একজন সজ্জন ব্যক্তি। আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থক এবং আমার প্রতিপক্ষ প্রার্থীর প্রতি আমার আহ্বান থাকবে, নির্বাচনে কোন প্রকার ইনফ্লুয়েন্স করবেন না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে যারা থাকবেন তারা নিরপেক্ষভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করবেন। এরপরে নির্বাচনী ফলাফল যা হবে আমরা তা মেনে নেব। কিন্তু এতে কারচুপি হলে জনগণ কোনভাবেই সেটা মেনে নেব না।’

আপনাদের শারীরিকভাবে বা প্রচারণায় বাধা দেয়ার অভিযোগ প্রতিপক্ষ বলছেন সঠিক নয়-  এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইশরাক হোসেন বলেন, আমার পাশে এখনো মাথায় ব্যান্ডেজ নিয়ে একজন দাঁড়িয়ে আছেন। উনার নাম আমিনুল ইসলাম উনি ৫৬ ওয়ার্ডের কামরাঙ্গীরচর এলাকার আমাদের একজন কর্মী।  সে গতকাল শুক্রবার আধানের শীষ প্রতীকের প্রচারণা চালানোর সময় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা তার ওপর হামলা চালায়। আর কে অস্বীকার করল না করল সেটাতে কিছু যায় আসে না। বাস্তবতাতো থেকেই যায়। তার মত আরো অনেককেই আহত করা হয়েছে। গত কয়েকদিন আগে আমাদের ৪১ নম্বর কাউন্সিলর প্রার্থীকেও ফিজিক্যালি আহত করা হয়েছে। আমি এবিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি । তারপর তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেছি। তারপরও বলবেন সঠিক নয়!

দেশটা কারো জমিদারি নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরাও কারো কথায় পরোয়া করি না। উনারা কি বললেন, না বললেন সেটা তো কিছু যায় আসে না। যেটা দৃশ্যমান সেটা আপনারাতো দেখতেছেন। এটা কারো নিজের দেশ না। এটা আমাদেরও দেশ। এখানে কারো জমিদারি চলবে না। স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে সবার সমান অধিকার।

আপনার প্রতিপক্ষ মেয়র প্রার্থী আওয়ামী লীগ পরিবারের সস্তান, তার দল ক্ষমতায়, তার ফুফু দেশের প্রধানমন্ত্রী, তিনি কি ফুফুর ক্ষমতার জোরে প্রভাবে জয়ী হবেন কিনা এমন প্রশ্নে ইশরাক বলেন, আমরা অনেক আগে থেকেই বলে আসছি এই নির্বাচন কমিশনের পক্ষে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না। আমার প্রতিপক্ষ কোন পরিবারের সেটা আমি  বড় করে দেখতে চাই না। কারণ এই দল থেকে যারা মনোনয়ন পাবে সবাই তো দলের অবৈধ সুযোগ সুবিধা পাবে। আর এটাই স্বাভাবিক। কারণ তারা তো রাষ্ট্রযন্ত্র দলীয়করণ করেছে। আর কে কোন পরিবারের সেটা আমার দেখার বিষয় না। এই দেশটার মালিক হচ্ছে জনগণ। এ দেশটা কারো পরিবারের সম্পত্তি নয়। আমি শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবো। জনগণকে সাথে নিয়ে এই স্বৈরাচারকে বিদায় করব।

অনেকদিন হয়ে গেল নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন, জনগণ ভোটকেন্দ্রে যাবে কিনা এ বিষয়ে তাদের কাছ থেকে কেমন সাড়া পেয়েছেন জানতে চাইলে ইশরাক হোসেন বলেন, খুব ভালো সাড়া পাচ্ছি। প্রথম দিকে প্রচারণায় তারা আমাদের বলেছিলেন, আমরা কি ভোট দিতে পারব? তারা গত নির্বাচনের আলোকে তাদের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা বলেছিলেন। কিন্তু এবার যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে তারা নিজেরাই সংকল্পবদ্ধ হয়েছেন এবার ভোট কেন্দ্রে যাবেন এবং ধানের শীষে ভোট দিবেন।

ভোট কেন্দ্রে পাহারা সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভোট কেন্দ্র পাহারা বলতে কোন কিছু নেই। কেউ যদি বলে থাকে সেটা ইনফরমাল ল্যাঙ্গুয়েজে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটা নির্বাচন পরিচালনা কমিটি করা হয়। এবারও আমরা সেটা করব। এবার নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যারা নিযুক্ত থাকবেন তারা সততার  সঙ্গে এবং জনগণের সঙ্গে কাজ করবেন বলে আমি আশা করি। কারণ তাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে জনগণের প্রতি। তারা কোনো দলীয় ক্যাডার বাহিনী নয়। আমরা তাদের সহযোগিতা করব। আমরা আশা করছি সবার সার্বিক সহযোগিতায় একটা সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে।  

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ