ঢাকা, রোববার 26 January 2020, ১২ মাঘ ১৪২৬, ২৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

বিএনপি সবসময় অন্ধকারে ঢিল ছুঁড়ে : ওবায়দুল কাদের

 

স্টাফ রিপোর্টার: নির্বাচনে জিততে সরকার তার সকল অর্গান ব্যবহার করছে এমন অভিযোগের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিএনপিকে তথ্য-প্রমাণ নিয়ে আসতে বলেছেন। মনগড়া কথা না বলে তথ্য-প্রমাণ নিয়ে জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে বলেও দাবি করেন তিনি।

গতকাল শনিবার দুপুরে মহাখালি ব্র্যাক ইন সেন্টারে নারী গাড়ি চালকদের মধ্যে সার্টিফিকেট বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি’র অভিযোগ নির্বাচনে জিতে সরকার তার সবগুলো অর্গান ব্যবহার করছে। এমন প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, বিএনপি প্রমাণ নিয়ে আসুক কোথায় কোথায় নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন হচ্ছে। তথ্য প্রমাণ নিয়ে আসুক সেটা দেশবাসী জানুক। তথ্যপ্রমাণ নিয়ে আসুক কোথায় নির্বাচনকে প্রভাবিত করা হচ্ছে কোথায় আচরণ বিধি লংঘন হচ্ছে। মনগড়া কথা বললে তো হবে না তারা সবসময় অন্ধকারে ঢিল ছুঁড়ে।

অসুস্থতা নিয়ে খালেদা জিয়ার আবেদন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, এ বিষয়ে তার কিছু জানা নেই। এটাতো সরকারের বিষয় নয় আদালতের বিষয়।

এখানে সরকারের কোনো সহমর্মিতার বিষয় থাকবে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সহযোগিতা সহমর্মিতার কোনো ঘাটতি তো নেই। তবে আমরা সহানুভূতি দেখিয়ে আইনকে প্রভাবিত করতে পারবো না। কাজেই এটা আইনগত বিষয় আমি কোনো মন্তব্য করতে পারব না।

এর আগে ব্র্যাকের প্রশিক্ষিত নারী গাড়ি চালকদের মধ্যে সার্টিফিকেট বিতরণ অনুষ্ঠানের বক্তব্য তিনি বলেন, রাজনীতি এখন বেপরোয়া হয়ে গেছে। রাস্তায় গাড়ি চালকরা যেমন বেপরোয়া থাকে তেমনি পথচারীরাও বেপরোয়াভাবে রাস্তা পারাপার হন।

ব্র্যাকের গাড়িচালক প্রশিক্ষণের উদ্যোগের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, ব্রাক সব সময় তৃণমূল নিয়ে কাজ করে। তাদের এই গাড়িচালক প্রশিক্ষণ তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে যাবে এমন প্রত্যাশা করেন তিনি।

নারী প্রশিক্ষণার্থীদের এই ৮ম ব্যাচে মোট ১১ জন প্রশিক্ষণার্থী ছিলেন। উত্তরার ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে ৩ মাসের আবাসিক প্রশিক্ষণ শেষে এদের শতভাগই উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং লাইসেন্স পেয়েছেন।

এ পর্যন্ত এই স্কুল থেকে অপেশাদার মৌলিক গাড়িচালনা প্রশিক্ষণ পেয়েছেন ৭ হাজার ৩৮৮ জন, যার মধ্যে ১ হাজার ৯৭৩ জন নারী। পেশাদার চালকের প্রশিক্ষণ পেযেছেন ১০ হাজার ৩৭৩ জন, যার মধ্যে ২১৪ জন নারী। ৫৯৯ জন নারীকে মোটর সাইকেল চালনার প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। এদের অনেকেই সরকারি, আন্তর্জাতিক ও দেশীয় উন্নয়ন সংস্থা ও বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানে সুনামের সঙ্গে চাকরি করছেন।

২০১১ সাল থেকে ব্র্যাকের কমিউনিটি রোড সেফটি অ্যাওয়ারনেস প্রোগ্রামের আওতায় এ পর্যন্ত ১২ লাখেরও বেশি মানুষ নিরাপদ সড়ক ব্যবহারের প্রশিক্ষণ পেয়েছে। ৫ হাজার ৪৫১ জন স্কুলশিক্ষক এবং ৪ লাখ ৯৮ হাজার ছাত্রছাত্রীকে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ বলেন, ভবিষ্যতে ব্র্যাক ড্রাইভিং স্কুল প্রতিটি জেলা ও বিভাগ পর্যায় নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা আছে। এছাড়াও ব্র্যাক একটি রোড সেফটি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করতে ইচ্ছুক। আশা করি নারী উন্নয়নে এই উদ্যোগকে সরকার দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেবে। ব্র্যাক সড়ক নিরাপত্তার জন্যে সরকারের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করে যাবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ