ঢাকা, রোববার 26 January 2020, ১২ মাঘ ১৪২৬, ২৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের চার  ধারা নিয়ে রিট আজকের তালিকায়

 

স্টাফ রিপোর্টার: অপব্যবহারের মাধ্যমে যেকোনো ব্যক্তিকে ‘হয়রানি করার সুযোগ’ থাকা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের চারটি ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিট শুনানির জন্য হাইকোর্টে আজ রোববারের কজলিস্টে রয়েছে।

আজ রোববার হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এই শুনানি হবে বলে জানিয়েছেন আটজনের পক্ষে রিটকারী আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

আইনজীবী বলেন, ধারাগুলো হলো- আক্রমণাত্মক, মিথ্যা বা ভীতি প্রদর্শন, তথ্য-উপাত্ত প্রেরণ, প্রকাশ ইত্যাদি সংক্রান্ত ধারা ২৫; ওয়েবসাইট বা কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে ধর্মীয় মূল্যবোধ বা অনুভূতিতে আঘাত করে এমন কোনো তথ্য প্রকাশ, সম্প্রচার ইত্যাদি সংক্রান্ত ধারা ২৮; মানহানিকর তথ্য প্রকাশ, প্রচার ইত্যাদি সংক্রান্ত ধারা ২৯ এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানো ইত্যাদির অপরাধ ও দ- সংক্রান্ত ৩১ ধারা।

আল জাজিরা, ওয়াশিংটন পোস্ট, ভয়েস অব বাংলা, দ্য ডেইলি স্টারসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পত্রিকার প্রতিবেদন সংযুক্ত করে রিটে এসব ধারায় যেসব শাস্তি রয়েছে তা বাতিল ও অবৈধ ঘোষণা করার দাবি জানানো হয়েছে।

হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় গত ১৯ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও সাংবাদিকসহ মোট ৮ জনের পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ওই রিট আবেদন করেন। তিনি বলেন, আইনটির চারটি ধারা মত প্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করে বলে এ রিট আবেদন করা হয়েছে।

রিটকারীরা হলেন- বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) একাংশের মহাসচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আসাদ উদ্দিন, মো. আসাদুজ্জামান, মো. জোবাইদুর রহমান, মো. মহিউদ্দিন মোল্লা ও মো. মুজাহিদুল ইসলাম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল, ড. মো. কামরুজ্জামান ও ড. মো. রফিকুল ইসলাম।

রিটে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং তথ্য মন্ত্রণালয়কে বিবাদী করা হয়েছে।

রিট আবেদনে দু’টি যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। প্রথমত, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের ২৫, ২৮, ২৯ ও ৩১ ধারা সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত মৌলিক অধিকার মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে খর্ব করে। দ্বিতীয়ত, আদালতের প্রতিষ্ঠিত নীতি হলো- অপরাধের সংজ্ঞা সুনির্দিষ্টভাবে বর্ণনা করতে হয়। কিন্তু এসব ধারা সুস্পষ্টভাবে অপরাধকে সংজ্ঞায়িত করা হয়নি। ফলে এসব ধারার অপব্যবহারের মাধ্যমে পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো ব্যক্তিকে হয়রানি করার সুযোগ রয়েছে।

 

 

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ