ঢাকা, সোমবার 24 February 2020, ১১ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৯ জমাদিউস সানি ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

করোনা ভাইরাস: ঝুঁকি মুক্ত নয় বাংলাদেশ

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: চীনের সঙ্গে সরাসরি বাণিজ্যিক যোগাযোগের কারণে করোনা ভাইরাসের ঝুঁকিতে রয়েছে।এছাড়া অন্যান্য যেসব দেশে রোগটি সংক্রমিত হয়েছে, সে দেশগুলোর সঙ্গেও বাংলাদেশের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। তাই এ পর্যন্ত কোনো রোগী পাওয়া না গেলেও ঝুঁকিমুক্ত নয় বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সেমিনার কক্ষে ২০১৯- এনসিওভি (2019- nCoV) ভাইরাস বা নোভেল করোনা ভাইরাস আউটব্রেক সম্পর্কে অবহিতকরণ সভা ও সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি) এ সংবাদ সম্মেলন ও অবহিতকরণ সভার আয়োজন করে।

বাংলাদেশে ভাইরাসটির সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থাগুলো সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশের বিভিন্ন স্থল, নৌ ও বিমানবন্দরগুলোতে ইমিগ্রেশন ও আইএইচআর স্বাস্থ্য ডেস্কগুলোতে সতর্কতা ও রোগের সার্ভেইল্যান্স জোরদার করা হয়েছে। হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরসহ দেশের বিভিন্ন প্রবেশপথে নতুন করোনা ভাইরাস স্ক্রিনিং কার্যক্রম চালু হয়েছে। নতুন ভাইরাস সম্পর্কে ডাক্তার ও স্বাস্থ্য কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে এই ভাইরাসটি চীনের পাশাপাশি থাইল্যান্ড, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, হংকং এমনকি আমেরিকায়ও ছড়িয়ে পড়েছে ইতোমধ্যেই। আক্রান্ত হয়েছেন ১৩শ’ মানুষ। এ পর্যন্ত ৪১ জন মারা গেছেন। বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস ঝুঁকি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। চিকিত্সার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও মহাখালী সংক্রমক ব্যাধি হাসপাতাল। পর্যায়ক্রমে সারাদেশের সরকারি হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত করা হবে। যাতে যেখানে রোগী শনাক্ত হবে, সেখানেই চিকিত্সা দেওয়া যায়। এছাড়া সকল বিমানবন্দর ও স্থল বন্দরগুলোতে বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চীনসহ বিদেশ থেকে যারা আসছেন তাদের মধ্যে সর্দি-কাশি, জ্বর, গলা ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট উপসর্গ থাকলে অবশ্যই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হবে। এ সকল উপসর্গই হচ্ছে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের। এমন উপসর্গ দেখা দিলে তাদেরকে করোনা ভাইরাস আছে কিনা পরীক্ষা করে নিশ্চিত করতে হবে। পরবর্তীতে তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হবে বলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়।

চীনের উহান প্রদেশ থেকে নাগরিকদের সরিয়ে নিচ্ছে বিভিন্ন দেশ। সেখানে প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি শিক্ষক-শিক্ষার্থী আটকা পড়েছেন। চীনের কয়েকটি শহরে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার কারণে সেখানকার প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ কেউ বাংলাদেশে ফিরে আসার আগ্রহ প্রকাশ করলেও দেশটির সরকার সেখানকার সব ধরণের গণপরিবহনে চলাচল বন্ধ করে দেয়ায় এক প্রকার আটক অবস্থায় দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের। তবে ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সব ধরণের সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ দূতাবাস।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, সেখানে বাংলাদেশিরা ভাল আছেন। চীনে কোনো প্রবাসী বাংলাদেশি এখনো পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হননি। এছাড়া চীনের উহানে থাকা প্রবাসীদের প্রতিনিয়ত খোঁজ-খবর রাখা হচ্ছে। শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এদিকে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে একটি হটলাইন খোলা হয়েছে। এই হটলাইন নম্বর হচ্ছে- (৮৬)-১৭৮০১১১৬০০৫।

করোনাভাইরাস সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহানের বাসিন্দারা। এছাড়া চীনের বাইরে ১২টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী ভাইরাসটি। দেশগুলো হলো: থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, নেপাল, ফ্রান্স, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া। এরইমধ্যে চীনে কয়েকজনের মৃত্যুর ঘটনায় চাপা আতঙ্কের মধ্যে আছেন সেখানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। তাদের একজন শামিমা সুলতানা, যিনি গত চার বছর ধরে তার দুই সন্তান নিয়ে উহান শহরে বসবাস করছেন। প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মধ্যে তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসতে চাইলেও শহরটির সব গণপরিবহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকায় সেটাও সম্ভব হচ্ছে না। শামিমা সুলতানা বলেন, খুবই উদ্বেগ, আতঙ্ক আর মেন্টাল প্রেশারের মধ্যে আছি। বাজার করার জন্যও বাইরে যেতে পারছি না। যে খাবার দাবার আছে, সেটা শেষ হলে কি করবো জানি না। এখন যদি বাংলাদেশে ফেরার কোন সুযোগ থাকতো আমি এক মুহূর্তও এদেশে থাকতাম না। কিন্তু বাস, প্লেন, ট্রেন সবই বন্ধ। ফেরার কোন পথ নেই।’

 

চীনে পড়তে যাওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের সতর্ক হয়ে চলার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। শুরুতে এমন উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন মোহাম্মদ শাকিল আহমেদও। তিনি উহানের একটি প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তার মতো উহান শহরে বসবাসরত অন্যান্য শিক্ষার্থীরা শুরুতে ভাইরাসের আতঙ্কে থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে তাদেরকে সব ধরণের সহযোগিতা দেয়ার কথা আশ্বাস দেয়ায় উদ্বেগ কিছুটা কমেছে। কিন্তু চীনা সরকারের নির্দেশনা মানতে গিয়ে এক রকম আটক অবস্থায় সতর্ক হয়ে চলতে হচ্ছে তাদের। মোহাম্মদ শাকিল আহমেদ বলেন, ‘দূতাবাস থেকে আর ইউনিভার্সিটি থেকে সব সময় আমাদের সাথে যোগাযোগ রাখছে। ইউনিভার্সিটি থেকে বলেছে যেন আমরা প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হই।’ শিক্ষার্থীরা যেন তাদের প্রয়োজনীয় বাজার সেরে নিতে পারে এজন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটা বাস সপ্তাহে দুই দিন এই শিক্ষার্থীদের ডর্মেটরি থেকে পাশের সুপার শপে নিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে। এছাড়া কোন শিক্ষার্থীর যদি, জ্বর, ঠান্ডা, কাশি, সর্দি বা বুকে ব্যথা হয়-তাহলে সাথে সাথে এই তথ্য ডর্মেটরির সুপারভাইজারকে জানানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সার্বক্ষণিক খোঁজ নেওয়া হচ্ছে যে আমরা ঠিক আছি কিনা। তারপরও যদি কারও মধ্যে করোনাভাইরাসের লক্ষণ দেখা যায় তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অ্যাম্বুলেন্স করে আক্রান্ত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করবে।’

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ