ঢাকা, সোমবার 24 February 2020, ১১ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৯ জমাদিউস সানি ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

নদী খননের নামে সরকারের অর্ধশত কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ!

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: কিশোরগঞ্জের ধনপুর তেমুখী থেকে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার চব্বিশা কবরস্থান পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার দাঁড়াইন নদী খননের নামে সরকারের অর্ধশত কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠেছে।খবর ইউএনবির।

নীতিমালা অনুযায়ী নদী খনন না করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার যোগসাজশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অর্ধশত কোটি টাকার বিল তুলে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

পাউবো সূত্র জানায়, দেশের ৬৪টি জেলায় ছোট নদী, জলাশয় ও খাল খননে (প্রথম পর্যায়) একটি প্রকল্প গ্রহণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এরই অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জের ধনপুর তেমুখী থেকে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার ৪নং শাল্লা ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহমান দাঁড়াইন নদী খননের জন্য পাউবো ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ৫৮ কোটি ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। কাগজে-কলমে কাজ শুরু দেখানো হলেও মাঠপর্যায়ে কোনো খনন হয়নি বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন।

নদী খনন না হলেও প্রকল্পের  ৫৮ কোটি ৬ লাখ টাকার মধ্যে ৫০ কোটি টাকার বিল সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওডিটিএল ড্রেজার লিমিডেটকে পরিশোধ করা হয়েছে।

ওডিটিএল ড্রেজার লিমিটেড' নামের প্রতিষ্ঠানটি খনন কাজ পেলেও প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী বা প্রকৌশলীকে প্রকল্প এলাকায় দেখা যায়নি বলে স্থানীয়রা জানান।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশে নদী খনন না করেই এই প্রকল্পের প্রায় ৫০ কোটি টাকার বিল তুলে ভাগ-বাটোয়ারা করে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, কিশোরগঞ্জের ধনপুর তেমুখী থেকে শাল্লা উপজেলার চব্বিশা কবরস্থান পর্যন্ত  দাঁড়াইন নদী খননের কোনো চিহ্ন নেই। নৌকা চলাচলও বন্ধ রয়েছে।

৪নং শাল্লা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি  আব্দুস সাত্তার মিয়া বলেন, যে উদ্দেশ্যে নদী খনন করা হয়েছে তা এখন কোনো কাজেই আসছে না। নদী খননের নামে হরি লুট করেছে ঠিকাদার ও পাউবোর কর্মকর্তারা।

শাল্লা উপজেলা যুবলীগ নেতা হুমায়ুন আহমেদ বলেন, ‘নদী খনন তো দূরের কথা, শুধু দুই পাড় কেটেই নদী খনন করা হয়েছে। নদীর মধ্যভাগে খনন না করায় নৌকা চলাচল বন্ধ রয়েছে।’

এ ব্যাপারে শাল্লায় নিয়োজিত শাখা কর্মকর্তা পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী সমসের আলী মন্টু বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভালোভাবে কাজ না করায় তাদের ৮ কোটি টাকার বিল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।’

সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী (পওর ০২) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মাঠপর্যায়ে সার্ভে করা লাগবে, নদী ভরাট হয়েছে কিনা তা দেখতে হবে।’

‘সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করেছে বিধায় বিল দেয়া হয়েছে।’ যোগ করেন তিনি।-সূত্র: ইউএনবি

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ