ঢাকা, শুক্রবার 31 January 2020, ১৭ মাঘ ১৪২৬, ৫ জমাদিউস সানি ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

জেরুসালেম ফিলিস্তিনের অংশ থাকবে : হামাস

৩০ জানুয়ারি, আরব নিউজ, এএফপি : বায়তুল মুকাদ্দাস কিংবা জেরুসালেম ফিলিস্তিনেরই অংশ থাকবে বলে জানিয়েছে গাজা উপত্যকার প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস।

গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সঙ্গে নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় শতাব্দীর সেরা চুক্তি প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

কিন্তু হামাস সেই চুক্তি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে- ট্রাম্পের পক্ষ থেকে কাগজের ওপর যে চুক্তি লেখা হয়েছে, তার কোনো মূল্য নেই; বরং জেরুসালেম ফিলিস্তিনেরই থাকবে।

হামাসের জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র সামি আবু জুহরি বুধবার এক টুইটবার্তায় এ কথা বলেছেন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে ফিলিস্তিনী ও ইসরাইলের মধ্যে সরাসরি আলোচনাকে উৎসাহিত করছে সৌদি আরব। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দীর্ঘপ্রতীক্ষিত শান্তি পরিকল্পনা ঘোষণার পর রিয়াদের এমন বক্তব্য এসেছে।

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে এক ফোনালাপে ফিলিস্তিনীদের অধিকার ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে সৌদি আরবের প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ।

সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে-ফিলিস্তিন ইস্যুতে একটি ন্যায়সঙ্গত ও সমন্বিত সমাধানে পৌঁছাতে সব চেষ্টায় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে রিয়াদ।

সে ক্ষেত্রে ফিলিস্তিনী ও ইসরাইলি পক্ষের মধ্যে একটি সমন্বিত শান্তি পরিকল্পনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেষ্টায় সৌদির সম্মান রয়েছে।

কাজেই এ শান্তি পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক নিয়ে মতানৈক্য আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত দুপক্ষের। যাতে ফিলিস্তিনী জনগণের বৈধ অধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়।

ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা যা বলল

মার্কিন-হামাসের মিত্র কাতার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইসরাইল-ফিলিস্তিন শান্তি পরিকল্পনায় সতর্কভাবে সাড়া দিয়েছে কাতার। বুধবার উপসাগরীয় দেশটি জানিয়েছে, দীর্ঘস্থায়ী শান্তি চেষ্টায় স্বাগত জানাচ্ছে কাতার। তবে হুশিয়ারি করে বলছে- ফিলিস্তিনী অধিকার ছাড়া এই শান্তি অর্জন কখনই সম্ভব হবে না।

বার্তা সংস্থা খবরে জানা গেছে, এই পরিকল্পনা ইসরাইলি উদ্দেশ্যের সঙ্গে অতিবেশি সহায়ক হিসেবে দেখা হচ্ছে। যাতে ফিলিস্তিনীদের কোনো অধিকার নেই। এতে পশ্চিমতীরের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো দখল করতে ইহুদি রাষ্ট্রটিকে মার্কিন সবুজ সংকেত দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া অবিভক্ত জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র কাতার সবসময় ফিলিস্তিনীদের প্রতি সহানুভূতিপ্রবণ। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিকঘাঁটি এই উপসাগরীয় দেশটিতে অবস্থিত।

আবার তেলসমৃদ্ধ দেশটি গাজা উপত্যকার প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস নেতাদের আমন্ত্রণ জানায়। ভূখ-টির একমাত্র বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে কোটি কোটি ডলার ও ফিলিস্তিনী অভাবী পরিবারগুলোকে নগদ অর্থ সহায়তা দিয়ে আসছে।

কাতারের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কিউএনএ জানায়, অধিকৃত ফিলিস্তিনী ভূখণ্ডে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় সব চেষ্টাকে স্বাগত জানায় কাতার। ফিলিস্তিনী-ইসরাইল সংঘাত নিরসনে বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের সব উদ্যোগে সম্মান দেখাচ্ছে দোহা।

সৌদি জোটের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অবরোধের মুখে থাকা দেশটি বলছে, ফিলিস্তিনী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি সমর্থনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে কাতার। পূর্ব জেরুজালেম ও নাগরিকদের তাদের ভূমিতে ফেরত যাওয়ার সুযোগসহ একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের অধিকার নিশ্চিত করা না হলে এই শান্তি স্থায়ী হবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ