ঢাকা, মঙ্গলবার 4 February 2020, ২১ মাঘ ১৪২৬, ৯ জমাদিউস সানি ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

গত ৫ বছরেও খুলনার শিল্পকলা একাডেমির কাজ শেষ হয়নি॥ মার্চে চালুর পরিকল্পনা

খুলনা অফিস : কাজে ধীরগতির কারণে আগামী মার্চ মাসেও খুলনার শিল্পকলা একাডেমি চালু নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। একাডেমির অবকাঠামোর কাজ শেষ হলেও মূল মিলনায়তনের আসবাব, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, বিদ্যুৎ সংযোগ সরঞ্জাম স্থাপনের অনেক কাজই এখনও বাকি।

মুজিব বর্ষের প্রথমদিন আগামী ১৭ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে এই একাডেমি যাত্রা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। সে অনুযায়ী ৫ মার্চের মধ্যে এসব কাজ শেষ করার টার্গেট নির্ধারণ করেছে গণপূর্ত বিভাগ। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ঢিলেমির কারণে মার্চ মাসেও এই কাজ শেষ না হওয়ার আশংকা তৈরি হয়েছে। শিল্পকলা একাডেমি ঘুরে দেখা গেছে, খুলনার সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে এই একাডেমি কমপ্লেক্স। একাডেমির দৃষ্টিনন্দন ফটক ও প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের কাজ শেষ। মুক্তমঞ্চ, দেয়ালের টালি, লোহার সীমানা প্রাচীরসহ আনুষঙ্গিক কাজও শেষ হয়েছে গতবছর। কিন্তু অবকাঠামো ছাড়া মিলনায়তনের অন্য প্রায় সব কাজই বাকি।

একাডেমি চালু না হওয়ায় কয়েকমাস আগে নির্মাণ করা ভবনসহ অন্যান্য স্থাপনা অযতেœ পড়ে আছে। রক্ষণাবেক্ষণ না করায় পুকুরের পানিও নোংরা হয়ে গেছে।

খুলনার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের নেতারা জানান, একটি আধুনিক শিল্পকলা একাডেমি নির্মাণের জন্য অনেক আন্দোলন করেছে খুলনার মানুষ। এর জন্য মিছিল-সমাবেশ এমনকি হরতালও হয়েছে। অবশেষে নগরীর শেরে বাংলা রোডের পুরাতন নার্সিং ইন্সটিটিউটের জায়গায় শিল্পকলা একাডেমি কমপ্লেক্স তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করে সরকার। প্রথমে প্রকল্পের ব্যয় ছিলো ২২ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

২০১৫ সালের ১৯ জানুয়ারি ৪ তলা প্রশাসনিক ভবন, ৫০০ আসনের মিলনায়তন, আর্ট গ্যালারি, মুক্ত মঞ্চ নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে গণপূর্ত বিভাগ। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে তাদের কাজ শেষ করার কথা ছিলো। কিন্তু নকশা না পাওয়া, পুরাতন ভবন অপসারণে দীর্ঘসূত্রতার কারণে সময়মতো কাজই শুরু হয়নি।

পরবর্তীতে দুই ধাপে ২০১৯ সালের জুন মাস পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। এই সময় স্থাপনাটি আরও দৃষ্টিনন্দন করতে এর নকশায় বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন আনা হয়। এতে কাজ করতে আরও সময় লেগেছে, ব্যয়ও বেড়েছে।

প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অবকাঠামো নির্মাণের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারের কাজ শেষ হয়েছে আরও আগে। আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করে দৃষ্টিনন্দন কয়েকটি স্থাপনা তৈরি করা হচ্ছে। পানির ওপর মুক্তমঞ্চ এবং ৪ তলা প্রশাসনিক ভবনের কাজ শেষ। শেষ হয়েছে ৫০০ শয্যার মিলনায়তন, আর্ট গ্যালারি, লিং করিডোরের ভৌত কাজ। মিলনায়তনের দেওয়ালে টেরাকোটার কাজও শেষ। কিন্তু মিলনায়তনের ভেতরে বসার চেয়ার, সিলিং, এসিসহ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, সাউন্ড সিস্টেমসহ আনুষাঙ্গিক কাজ শুরু হয়েছে মাত্র।

খুলনা জেলা কালচারাল অফিসার সুজিত কুমার সাহা বলেন, মুজিব বর্ষের প্রথম দিন একাডেমিতে অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য ৫ মার্চের মধ্যে স্থাপনা বুঝিয়ে দিতে গণপূর্ত বিভাগকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

গণপূর্ত বিভাগ খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী লতিফুল ইসলাম জানান, বিদেশ থেকে মালামাল আনতে সময় লেগেছে। ঠিকাদারকে ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে সব কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও তারা একটু ধীরগতিতে কাজ করছে। তারপরও মার্চ মাসেই একাডেমি চালু করা যাবে আশা করছি।

স্থানটি ঘুরে দেখা গেছে, নগরীর শেরে বাংলা সড়কের অনেকটা ভেতরে গিয়ে কমপ্লেক্সটি তৈরি হচ্ছে। এর চারপাশে আবাসিক ভবন। আর প্রবেশপথের মূল ভবনের সামনেই রয়েছে গণপূর্ত বিভাগের একটি সরকারি ভবন। এই ভবনের জন্যই ঢাকা পড়ে গেছে স্থাপনাটি দৃষ্টিনন্দন অংশ। মূল কমপ্লেক্সটি দৃশ্যমান হওয়া এবং গাড়িং পার্কিংয়ের জন্য সরকারি ভবনটি অপসারণ করা জরুরি। এজন্য সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক, খুলনা সিটি মেয়র গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে আধা সরকারিপত্র প্রেরণ করেছেন। খুলনার সাংস্কৃতিক কর্মীরাও স্মারকলিপি দিয়েছে। কিন্তু ভবন অপসারণ কাজে তেমন গতি পাচ্ছে না।

একাডেমি ঘুরে আরও দেখা গেছে, দৃষ্টিনন্দন করার জন্য একাডেমির দক্ষিণপাশের সীমানা প্রাচীরে লোহার এঙ্গেল ব্যবহার করা হয়েছে। এতে বাইরের মানুষও একাডেমির ভেতরের অংশ দেখতে পাচ্ছেন। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দারা সুযোগটির অসদব্যবহার করছেন। প্রায় লোহার গ্রিল টপকে ভেতরে চলে আসছেন স্থানীয়রা। গ্রিল টপকে শিশু-কিশোরেরা পুকুরের পানিতে গোসল করছেন। দেয়ালটি নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। একাডেমি উন্মুক্ত করার আগে ওই অংশের নিরাপত্তা কিভাবে বাড়ানো যায় তা ভেবে দেখার জন্য স্থপতির প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন সাংস্কৃতিক কর্মীরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ