ঢাকা, শুক্রবার 7 February 2020, ২৪ মাঘ ১৪২৬, ১২ জমাদিউস সানি ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

বিপন্ন সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য 

এইচ এম আব্দুর রহিম: পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ও বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য এখন সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন, দূষণ, অনিয়ন্ত্রিতভাবে বৃক্ষ কর্তন, সচেতনতার অভাব এবং কর্তৃপক্ষের উদাসিনতার কারণে হারিয়ে যাচ্ছে বনটির মূল্যবান প্রাণিজ সম্পদ।

এক সময় এ সুন্দরবনে বাস করত ৪০০ প্রজাতির পাখি। সময়ের বিবর্তনে তা কমে ২৭০ এসে দাঁড়িয়েছে। এরই মধ্যে বিলুপ্ত হয়ে গেছে ১৩০ প্রজাতির পাখি। বাংলাদেশ অংশে সুন্দরবনের প্রায় ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ১ হাজার ৮৭৪ বর্গকিলোমিটার জলভাগ। এই বিস্তীর্ণ নদী ও খালে রয়েছে ১২০ প্রজাতির মাছ। জাহাজের প্রপেলারের আঘাতে ডলফিন প্রাণীর মৃত্যু ঘটছে প্রতিনিয়ত। এছাড়া রাতে চলাচলের সময় টর্চ লাইটের তীব্র আলো ও শব্দ হরিণ এবং নিশাচর প্রাণীসহ সুন্দরবনের পশুপাখির জীবনচক্রের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলেছে। বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বা লোনা পানির বন হিসেবে ১৯৭৭ সালে সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্য ঘোষণা করে জাতিসংঘ শিশু, শিক্ষা, বিজ্ঞান সংস্কৃতি সংস্থা বা ইউনেস্কো। পৃথিবী জুড়ে যে ৫০ প্রজাতির উদ্ভিদ আছে, তার ৩৫ প্রজাতিই পাওয়া যায় সুন্দরবনে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, নদী ভাঙন, অবৈধ বসতি স্থাপন ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে গাছ কাটার ফলে গত ৩৭ বছরে সুন্দরবনের আয়তন কমেছে ১৪০ বর্গকিলোমিটা। সৌন্দর্যের প্রতীক সুন্দরী গাছ কমে গেছে প্রায় ২৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ। ২০০২ সালে এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে সুন্দরবনে তেল দূষণের ওপর একটি গবেষণা চালানো হয়। ওই গবেষণাপত্রে বলা হয়, তেল দূষণের ফলে সুন্দরবনের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করে ওই গবেষণায় উন্নতমানের যন্ত্রপাতি ও উপকরণ সংগ্রহের সুপারিশ করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ ১৮ বছর পর সে সুপারিশ বাস্তবায়ন হয়নি।

বিশ্ব জুড়ে বিপন্ন ৩১ প্রজাতির প্রাণী বেশ সুন্দরবনকে আশ্রয় করে টিকে আছে। এর মধ্যে ১২ প্রজাতির প্রাণী সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এই বনে। ঝড়-জলোচ্ছ্বাস থেকে বাংলাদেশের উপকূলের মানুষ কে শুধু রক্ষা করছে না এই বন, বিপন্ন প্রাণীর শেষ আশ্রয় স্থল ও হয়ে উঠেছে সুন্দরবন। বিপন্ন প্রাণীদের মধ্যে অন্যতম রয়েল বেঙ্গল টাইগার, মেছো বাঘ, ছোট মদন টাক, গ্রেট নট পাখি, রাজগোখরা, জলপাই রঙের কাছিম, দুই প্রজাতির ডলফিন (ইরাবতী ও গাঙেয়), দুই প্রজাতির উদ্বিড়াল ও লোনা পানির কুমির।

 জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের দুই অধ্যাপক মনিরুল এইচ খান ও আব্দুল আজিজের গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক সংস্থাগুলোর আন্তর্জাতিক জোট আইইউসিএন, বাংলাদেশের একাধিক প্রতিবেদনে ও বিশ্বের অন্যতম জীববৈচিত্র্যপূর্ণ এলাকা হিসেবে সুন্দরবনের কথা বলা হয়েছে। প্রকৃতি ও বন্য প্রাণি বিশেষজ্ঞরা সুন্দরবনের সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র সৃষ্টির প্রধান কারণ হিসেবে এর সৃষ্টি প্রক্রিয়া ও ভৌগোলিক অবস্থানের কথা বলেছেন। হিমালয় থেকে নেমে আসা মিষ্টি পানির প্রবাহের সঙ্গে বঙ্গোপসাগরের লবণ পানির মিশ্রণের ফলে এই বনে বিশেষ ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। কাদামাটিতে গড়ে ওঠা ওই বনটির ৫২ শতাংশই সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষিত, ফলে নানা হুমকি ও সমস্যা সত্ত্বেও এই বন পর্যন্ত শুধু বাংলাদেশের বন্য প্রাণিদের জন্য, বিশ্বের প্রাণ সম্পদের অন্যতম বড় আঁধার হিসেবে স্বীকৃত। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেসকো গত ডিসেন্বর মাসে এক প্রতিবেদনে সুন্দর বনের জীববৈচিত্র্যকে বিশ্বের জন্য অসামান্য সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করেছে। সুন্দরবনের বিপন্ন জাতির প্রাণি রক্ষায় এ জন্য সকলকে এগিয়ে আসা প্রয়োজন।          

সর্বশেষ ২০১৯ সালের ডিসেন্বরে ইউনেসকোর পক্ষ থেকে সুন্দরবনের জন্য ১০টি হুমকি চিহ্নিত করা হয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়া, দূষণ, অবৈধ তৎপরতা ও পশুর নদের খননকে অন্যতম চ্যালেঞ্জ হিসেবে চি‎িহ্নত করেছে। সংস্থাটি বলেছে, সুন্দরবন হচ্ছে পৃথিবীর একমাত্র শ^াসমূলীয় বন, যেখানে এখনো পলি পড়ে পড়ে নতুন ভূমির গঠন হচ্ছে। এসব ভূমিতে প্রাকৃতিকভাবে শ্বাসমূলীয় বনভূমি গড়ে উঠেছে। সুন্দরবনের অন্য অঞ্চলগুলো থেকে সেখানে হরিণ, সাপ বাঘের মতো প্রাণীরা এসে বসতি গড়ছে। ইউনেস্কো সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যকে বিশ্বের জন্য অসামান্য সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করেছে। আমরা অনেক কিছু পারব। পদ্মাসেতু বানাতে পারব। নতুন নতুন শহর গড়ে তুলতে পারব। কিন্তু আর একটা সুন্দরবন গড়ে তোলা সম্ভব নয়। বাংলাদেশ উপকূলে যে কয়টা ঝড় আঘাত করেছে, তার অর্ধেকের বেশি সুন্দরবনের ওপর দিয়ে গেছে। ফলে এই বন আমাদের জীবন-জীবিকা রক্ষা করে চলেছে। একই কারণে অপরূপ প্রতিবেশ ব্যবস্থার কারণে বিশ্বের বণ্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য অন্যতম বড় আশ্রয়স্থল হয়ে আছে এই বন।

মেছো বাঘ রয়েল বেঙ্গল টাইগারের চেয়ে কিছুটা ছোট, আবার বিড়ালের চেয়ে বেশি বড়। এই প্রাণীতো এক সময় দেশের বনে তো বটেই, দেশের ঝোঁপ ঝাঁড়ে দেখা যেত। এই প্রাণী এখন শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্ব জুড়ে বিপন্ন প্রাণীর তালিকায় ঢুকে পড়েছে। এই তালিকায় আর ও নাম আসবে বেঙ্গল টাইগার, দুই প্রজাতির ডলফিন মদন টাক ও গ্রেট নটের মতো পাখি। রাজগোখরার মতো সাপ ও উদ বিড়ালের মতো জলজ প্রাণী। জলপাই রঙের কাছিম ও বিশ্ব জুড়ে বিপন্ন। এরা সবাই সুন্দরবনের বাসিন্দা। সুন্দরবনের বন্যপ্রাণীর জন্য বড় হুমকি মিঠাপানির সরবরাহ কমে যাওয়া এবং লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়া। ইরবিতী ডলফিন সম্প্রতি মোংলায় দেখা গেছে। এটি লবণাক্ত পানির ডলফিন। লবণাক্ততা বাড়লে। তা সুন্দর বনের মিঠা ও মিশ্র পানিতে টিকে থাকতে পারে। এমন প্রাণীদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাবে। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলেন, সুন্দরবনে দুই প্রজাতির প্রায় ৩০০টি উদ বিড়াল রয়েছে। কোনো একটি বনের মধ্যে এত প্রজাতির বিড়াল থাকা বিরল ঘটনা। ১৯০টি লোনা পানির কুমির রয়েছে এই বনে, যা বাংলাদেশের বেশিরভাগ এলাকা থেকে বিপন্ন হয়ে শুধুমাত্র সুন্দরবনে টিকে আছে। বন্যপ্রাণী গবেষকরা বলছেন, সুন্দরবনে ২০০টি ইরাবতী ডলফিন রয়েছে। এই দুই প্রজাতির ডলফিনের সংখ্যা পৃথিবীর মধ্যে সুন্দরবনে বেশি। পরিযায়ী পাখি গ্রেট নট ও চামচ ঠুঁটো বাটান ও বিশ্ব জুড়ে বিপন্ন। এই পাখিরা সুন্দরবনে ভালোভাবে টিকে আছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের মতে প্রাণী রক্ষা করতে হলে সুন্দরবনকে রক্ষা করতে হবে। এই বনের চারপাশে গড়ে উঠা শিল্প-কারখানা ও তার দুষণ বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে উজান থেকে মিঠাপানির সরবরাহ বাড়ানোর জন্য উদ্যোগ নিতে হবে।

বিশ্বের ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন, যা বিশ্বের বুকে বাংলা দেশের জন্য গৌরব। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় এ বন ঢাল হিসেবে ব্যবহার হয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমাদের ঐতিহ্যের এই সুন্দরবন ধ্বংসের মুখে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ঢুকে চুরি করে কাঠ সংগ্রহ করছে। যে সুন্দরী গাছের জন্য সুন্দরবন বিখ্যাত, সেই সুন্দরী গাছ আজ ধ্বংসের পথে। এক সময় সুন্দরবনে অনেক বাঘ ছিল। এখন হাতেগোনা কয়েকটি বাঘের সন্ধ্যান মিলতে পারে মাঝে মধ্যে বাঘের অকাল মৃত্যুতে আমাদের ভাবিয়ে তোলে। কেউ কেউ বাঘ শিকার করছে। বাঘের চামড়া পাচার করে অর্থ উপার্জনের আশায়। এরা বাঘের ছোট বাচ্চাদের ও রেহাই দিচ্ছে না। সুন্দরবনে মাছ শিকারের নামে হরিণ শিকার করছে। এক সময় সুন্দরবনের এক ভীতিকর পরিবেশ ছিল যে, যদি কেউ সুন্দরবনে প্রবেশ করত গাছপালার ভিড়ে চারদিকে অন্ধকার দেখা দিত ও প্রাণীদের পায়ের আওয়াজে শরীরে শিহরণ সৃষ্টি হতো। এখন সুন্দরবনে প্রবেশ করলে প্রাণিকূলের সন্ধ্যান পাওয়া ভাগ্যের ব্যপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুন্দরবন রক্ষায় কঠোর আইন প্রয়োগ করে ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। 

সুন্দরবনের অবদান বছরে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা। বিশ্বের সর্বাধিক একক লবণাক্ততা জলাভূমি, আমাদের দেশের একক বনভূমি হিসেবে প্রথম জাতীয় বন সুন্দরবন। এ বনকে ইউনেস্কে ১৯৮৭ সালে বিশ্ব ঐতিহ্য ঘোষণা করেন। সুন্দরবনের সৌন্দর্য আকৃতি-প্রকৃতি অবস্থান, জীববৈচিত্র্য কম বেশি সবাই জানি। তাই সে দিকে না গিয়ে সুন্দরবন ধ্বংসের মূল কারণ তুলে ধরছি; যা সুন্দরবনের প্রকৃতিতে বেড়ে ওঠার সুবাদে ছোট বেলা থেকে দেখে আসছি। প্রথমত সমস্যা হলো দ্রুতগামী জলযান নেই, ফরেস্ট অফিসে, ভাঙাচোরা যা আছে তা দেখলে মনে হয় বৃটিশ আমলের না হয় পাকিস্তান আমলের। এই দিয়ে কি জলদস্যু-বনদস্যু গাছ চোর, মাছ চোরসহ ভারতীয় বিমান মার্কা জলযান ধরা কি সম্ভব? তারপর যদিও অপরাধী ধরা পড়ে অপরাধীকে চালানকালে এবং স্বাক্ষীদের সাক্ষ্য দানকালে যাতায়াতসহ অফিস থেকে কোনো খরচ বহন করা হয় না। তাহলে কে আসামী ধরবে? আর কে সাক্ষী দিতে যাবে নিজ খরচে? তার চেয়ে ২/৪ শত টাকার বিনিময়ে আসামী ছেড়ে দেওয়াই ভালো! নিজের পকেটের টাকার ঝামেলা থেকে বাঁচা গেল! যদি আসামীর টাকা-পয়সা না থাকে তাহলে উল্টো আসামী আপ্যায়ন করে বাড়ি পাঠানো ভালো কারণ তাতে লস নেই। আর এ কারণেই বনবিভাগের মামলা কমে যাচ্ছে ২০১১ সালে বাংলাদেশের সংবিধানে ১৮(ক) অনুচ্ছেদ সংযোজিত হয়। তাতে বলা হয়- রাষ্ট্র বর্তমান ভবিষ্যত নাগরিকদের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করিবেন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ জীববৈচিত্র্য, জলাভূমি, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধান করিবেন। ধারাটি বাংলাদেশের সংবিধান ও সরকারি খাতা-কাগজের মধ্যেই কি শুধু সীমাবদ্ধ? ২১ মার্চ আন্তর্জাতিক বন দিবস, ২৯ জুলাই বিশ্ব বাঘদিবস ঘরোয়াভাবে উদযাপন করা হয়। সে দিন শোনা যায় বন সম্পর্কে নানা সমস্যা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হবে বলে এই কথা বলে দায়-দায়িত্ব শেষ? আসলেই কতটুকু খতিয়ে দেখা হয়? রাষ্ট্রীয় লোক হয়ে রাষ্ট্রের ১২ বাজানো ছাড়া আর কি? স্থানীয় জনগণ এফ.জি. (ফরেস্ট গার্ড)সহ গোপন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এ.সি.এফ. (সরকারি বন সংরক্ষক) ও ডি. এফ. ও (বিভাগীয় বন কর্মকর্তা) মূলত দায়ী করেন। তাছাড়া রামপালে কয়লা তাপ বিদ্যুৎ স্থাপন ও সুন্দরবনের মধ্যে চলাচলকারী কয়লা, ছাই, সার ও তেলবাহি জাহাজ বাঘের জন্য ভ্রাম্যমাণ বোমার রুপে প্রকাশ ঘটছে।

বিশ্ব জুড়ে বিপন্ন প্রাণীর তালিকায় আছে উদ বিড়াল। পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে এই প্রাণী বিপন্ন হয়ে পড়েছে। বাংলা দেশের সুন্দরবনে এরা টিকে আছে বেশ ভালোভাবে। সম্প্রতি পূর্বসুন্দর বনের শরণখোলায় রেঞ্জের এলাকায় এসব প্রাণী মাঝে মাঝে দেখা দেয়। প্রকৃতির নৈসর্গিক লীলাভূমি এই সুন্দরবন। প্রকৃতির রানী এই সুন্দরবন। বিশ্বের সেরা ম্যানগ্রোভ জাতীয় সুন্দরবন। দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সুন্দরবনের কেবড়া ফল উপকূলীয় মানুষের জন্য খুবই উপকারী ফল। বিশ্বের অন্যতম অখণ্ডিত সমুদ্রসৈকত বা বেলাভূমি কক্সবাজার অবস্থিত। দেশের ২৫ শতাংশ জনগণ উপকূল এলাকায় বসবাস করে, তেমনি জাতীয় অর্থনীতিতে জিডিপির কম বেশি প্রায় ২৫ শতাংশ অবদান এ অঞ্চলেরই। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার সত্বেও এ অঞ্চল, এর অবকাঠমো এবং বসবাসকারী জনগণের অর্থনৈতিতক জীবন নানা দৈব দুর্বিপাক, বৈষম্য ও অবহেলা আর অমনোযোগিতার শিকার। বলা নেই কওয়া নেই সমুদ্র থাকে উত্তাল। তার মন পবনের ঠিকানা বাংলাদেশ আবহাওয়া দপ্তর ঠাঁই পায় না। তার এ প্রায়শ পাগলামি সুন্দরবন মাথায় পেতে নিয়ে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, বরিশাল, বরগুনা পটুয়াখালীকে শেল্টার দিয়ে চলেছে। একটি পরিশীলিত সমীক্ষা গবেষণা পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৯৮৪ থেকে ১৯৯৭ সালের মধ্যবর্তী মাত্র ১৩ বছরে জাতীয় পর্যায়ে যেখানে দ্বিগুণ পরিমাণ শস্য (খাদ্য অর্থকরী ফসল) উৎপাদিত হয়েছে। (চলবে)

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ